মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ০২ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট আগে

হুইপের বিরুদ্ধে আ.লীগের জনসভায় বোমা হামলার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনের সাংসদ শামসুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিএনপির হয়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় বোমা হামলা চালানো এবং চুরির অভিযোগ এনেছেন নগর আওয়ামী লীগের নেতা দিদারুল আলম চৌধুরী।

সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ও তার আদর্শ যারা বিশ্বাস করে না তাদের দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি।

চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব এবং নগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, শামসুল হক আজ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হলেও তিনি ছিলেন বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদলেন নেতা। নিজের আখের গোছাতে নাম লিখিয়েছেন স্বৈরশাসক
এরশাদের জাতীয় পার্টিতেও।

‘১৯৭৯ সালের নির্বাচনে জিয়াউর রহমান থাকতে বাকুলিয়ায় এক সভায় আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এছাড়াও এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নগরীর নিউ মার্কেট মোড়ে আওয়ামী লীগের এক সভায় সন্ত্রাসীদের নিয়ে তিনি বোমা হামলা করেন। হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা মোশারফ ভাইয়ের পা আক্রান্ত হয়।’

শামসুল হক আবাহনীকে হাত করে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন নগর আওয়ামী লীগের প্রবীন এ নেতা।

বলেন, ‘তিনি ১০-১২টা ফাঁকা চেক আমার কাছে সাক্ষর করে নেন। পরে নিজে নিজে টাকা তুলে বিভিন্ন নির্বাচনে খরচ করেন।

হুইপকে ‘চোর’ দাবি করে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বলেন, বিএনপির আমলে পদে থাকা অবস্থায় তিনটি টাইম মেশিন চুরি করেন তিনি। এজন্য তিনি জেলও খাটেন। পরে বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে ওই মামলা থেকে বেড়িয়ে আসেন।’

বঙ্গুবন্ধুর আদর্শের সৈনিকেরা কখনো চুরি করে না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের প্রবীন এ নেতা বলেন, এসব অভিযোগ প্রমাণ করে তাকে বহিষ্কার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ আহ্বান জানাই।

এর আগে বিভিন্ন ক্লাবে চলমান অভিযানের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ হন হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ শামশুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামে শতদল, ফ্রেন্ডস, আবাহনী, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধাসহ ১২টি ক্লাব আছে। ক্লাবগুলো প্রিমিয়ার লিগে খেলে। ওদের তো ধ্বংস করা যাবে না। ওদের খেলাধুলা বন্ধ করা যাবে না। প্রশাসন কি খেলোয়াড়দের পাঁচ টাকা বেতন দেয়? ওরা কীভাবে খেলে, টাকা কোন জায়গা থেকে আসে, সরকার কি ওদের টাকা দেয়? দেয় না। এই ক্লাবগুলো তো পরিচালনা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকেরা প্রেসক্লাবে বসে তাস খেলেন। এটা কি জুয়া হলো? জুয়া হলে তো আপনারা প্রেসক্লাবেও বসতে পারবেন না। তাস খেললেও জুয়া। তাস ধরলেই জুয়া। আর অভিযানে ক্যাসিনো বের করতে পারলে তাদের বাহবা দেওয়া যেত।’

‘আমাদের প্রশাসনকে বলব, ঘুষের ব্যবসা যাঁরা করেন তাঁদের ধরেন। ঘুষ যাঁরা নেন, তাঁদের ধরেন। যাঁরা দেন, তাঁদেরও ধরেন।’ ঘুষ কে খান- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনি খান। আমি খাই। সবাই ঘুষ খান।’

ঘুষ কে দেন- জানতে চাইলে বলেন, ‘আপনি দেন। আমি দিই। সবাই দেন। তাঁদের ধরেন।’

হুইপ বলেন, ‘ক্লাবের তাস খেলা বন্ধ করে কোনো লাভ হবে না। তাস খেলা বন্ধ করলে ছেলেরা রাস্তায় ছিনতাই করবে। এটা বন্ধ করে লাভ হবে না। এখানে কোনো ক্যাসিনো নেই। ক্যাসিনো ধরেন, তাস খেলা হয় এ রকম ক্লাব ধরবেন না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ক্যাসিনো এবং মদের ব্যবসা যারা করেন, তাদের ধরতে বলেছেন।’

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য