শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ০৬ মিনিট আগে

কফি-সিগারেট খেতে খেতে খাসোগির লাশ কাটা হয়

অনলাইন ডেস্ক

কফি-সিগারেট খেতে খেতে খাসোগির লাশ কাটা হয়

গত ২৬ সেপ্টেম্বর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছিলেন, খাসোগি হত্যার দায় আমার ওপরই বর্তায়। মার্কিন দাতব্য সংস্থা গণসম্প্রচার সার্ভিসের (পিবিএস) মার্টিন স্মিথকে সালমান আরও বলেন, এটা আমার নজরদারিতে ঘটেছে। আমি সব দায়িত্ব নিচ্ছি।

এবার খাসোগি হত্যা নিয়ে প্রকাশ পেল নতুন তথ্য।

খাসোগিকে হত্যার জন্য একজন ফরেনসিক প্যাথলজিস্টকে সৌদি দূতাবাসে আনা হয়েছিল। আর খাসোগিকে হত্যার পর গান শুনতে শুনতে তার দেহ টুকরো টুকরো করেছেন সেই প্যাথলজিস্ট। সোমবার রাতে বিবিসি টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে এসে খাসোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে হেলেন কেনেডি এমন দাবি করেন।

এ ব্যাপারে জাতিসংঘের তদন্তকারী দলের কাছে ৪৫ মিনিটের একটি গোপন অডিও রেকর্ড সরবরাহ করেছে তুরস্ক। হেলেনা কেনেডি জাতিসংঘের ওই তদন্তকারী দলকে সহায়তা করছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি এমন কথাই জানিয়েছে।

কেনেডি বলেছেন, ‘অডিও রেকর্ডে একটি আলোচনা চলছিল যেখানে বলা হচ্ছিল, ব্যাগে মরদেহ ঠিকভাবে ঢোকানো যাবে কি না। এরপর হাসাহাসির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এক সময় কেউ একজন বলে ওঠে, বলি দেয়ার যোগ্য জানোয়ারটা কি এসেছে?’

তিনি বলেন, ‘খাসোগির মরদেহ কাটার সময় ওই প্যাথলজিস্টকে বলতে শোনা গেছে, জীবনে প্রথমবার আমি মাটিতে শুইয়ে লাশ কাটছি। এমনকি কসাইরাও পশু কাটার সময় সেটিকে ঝুলিয়ে নেয়।’

এ সময় প্যাথেলজিস্ট আরও বলেন, ‘লাশ কাটার সময় আমি প্রায়ই গান শুনি। কখনো কখনো হাতে কফি কিংবা সিগারেটও থাকে।’

দূতাবাসে ঢোকার পরপরই খাসোগি বুঝে গিয়েছিলেন, তার সঙ্গে খারাপ কোনো কিছু ঘটতে চলেছে। এমন দাবিও করেছেন কেনেডি।

কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘অডিওতে খাসোগির কণ্ঠে ভয়ের ছাপ টের পাওয়া যাচ্ছিল। একপর্যায়ে খাসোগি তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছ থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে যেতে লাগলেন।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কে সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকে নিখোঁজ হন। ওই সময়ে সৌদি আরব খাসোগির বিষয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে তুরস্ক প্রথম থেকেই এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করে।

পরে জানা যায়, রিয়াদ থেকে পাঠানো ১৫ জনের একটি দল তাকে হত্যা করে। তার লাশ এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীকালে সৌদি সরকার জামাল খাসোগির হত্যার দায় নিয়ে ১১ জনকে বিচারের সম্মুখীন করে। তাদের মধ্যে পাঁচজন মৃত্যুদণ্ডের মুখে রয়েছে।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য