বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ১৬ মিনিট আগে

যে স্ট্যাটাস দিয়ে বহিষ্কার হন আ.লীগ নেতা বাহারুল

অনলাইন ডেস্ক

যে স্ট্যাটাস দিয়ে বহিষ্কার হন আ.লীগ নেতা বাহারুল

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের হওয়া চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বহিষ্কৃত হন আওয়ামী লীগ নেতা ডা. শেখ বাহারুল ইসলাম। তার সেই স্ট্যাটাস এরইমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে। 

আর এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। 

কেন তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করা হবে না, আগামী সাত দিনের মধ্যে সেই কারণ দর্শানোর জন্য সভা থেকে বলা হয়েছে।

ডা. বাহারুল আলম খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বিএমএ খুলনা শাখার সভাপতি পদে ছিলেন।

বুধবার জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদের পাঠানো ই-মেইল বার্তায় বাহারুলকে বহিষ্কারের তথ্য জানা জানানো হয়।

গত ৬ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘ভারতের সঙ্গে কী চুক্তি হয়েছে তা জানার অধিকার এ দেশের জনগণের রয়েছে’ এমন একটি স্ট্যাটাস পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

‘ভারত – বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় চুক্তি বলা হলেও বাস্তবে একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত – বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ ও অধিকার চরম উপেক্ষিত দুর্বল অবস্থানে থেকে বন্ধু-প্রতিম শক্তিধর প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে -ফলাফল শক্তিধরের পক্ষেই আসে। বাংলাদেশ-ভারত উভয়-পক্ষীয় সমঝোতা স্মারক নাম দেয়া হলেও বাস্তবে একপক্ষীয় সিদ্ধান্তই মেনে নিতে হয় দুর্বল রাষ্ট্রকে।

ভারত বাংলাদেশ থেকে তার সকল স্বার্থই আদায় করে নিয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে এখনও ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে পারেনি।

১)দীর্ঘদিনের আলোচিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন এবারের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় স্থান পায়নি।

২) ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে কিছু না বললেও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্ হুংকার দিয়েছে নাগরিকপঞ্জীতে বাদপড়া জনগণকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া হবে। তার পরও এবারের সমঝোতা চুক্তিতে ‘অভ্যন্তরীণ’ অজুহাতে বিষয়টি স্থান পায়নি।

৩) বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবসনের বিষয়ে ভারত কিছু বলেনি।

৪) তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে চুপ থাকলেও বাংলাদেশ অংশের ফেনী নদীর পানি ত্রিপুরা রাজ্যের পানীয় জল হিসাবে প্রতিদিন ১.৮২ কিউসেক টেনে নেবে ভারত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সম্মত হয়েছে।

৫)বাংলাদেশের জনগণের তরল গ্যাসের চাহিদা পূরণের ঘাটতি থাকলেও ভারতে তরল গ্যাস রফতানির সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং যৌথভাবে সে প্রকল্প উদ্বোধনও হয়েছে।

৬)চট্টগ্রাম ও মোংলাবন্দর ভারত কীভাবে ব্যবহার করবে, তা নির্ধারিত হলেও বাংলাদেশের জন্য ব্যবহারযোগ্য ভারতের কোনো বন্দর সেই তালিকায় ছিল না।

অমানবিক আচরণের শিকার হয়েও বাংলাদেশ পানি ও গ্যাস সরবরাহ দিয়ে মানবিকতার প্রদর্শন করেছে। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ ও অধিকার উপেক্ষিত রেখে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষ হয়েছে।

শক্তিধর প্রতিবেশীর আধিপত্যের চাপ এতই তীব্র যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বজায় থাকবে কিনা আশঙ্কা হয়। কারণ ভারতের চাপিয়ে দেয়া সব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে মেনে নিতে হচ্ছে।’

জেলা আওয়ামী লীগের পেডে পাঠানো প্রেস বার্তায় বলা হয়েছে, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদের সভাপতিত্বে সভায় বাহারুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সুজিত অধিকারী, সহসভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মোল্যা জালাল উদ্দিন, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী বাদশা মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান বাবু এমপি, সহসভাপতি ও পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী, সহসভাপতি বি এম এ সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান জামাল, ত্রাণ সম্পাদক অ্যাড. নিমাই চন্দ্র রায়, দফতর সম্পাদক অ্যাড. ফরিদ আহম্মেদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হালিমা ইসলাম, উপ দফতর সম্পাদক অ্যাড. শাহ আলম, সদস্য অ্যাড. রবীন্দ্র নাথ মন্ডল, সদস্য অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুল, সদস্য নুরে আলম জোয়াদ্দার।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য