শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ০৭ মিনিট আগে

১০ বছর ধরে টয়লেটে শিকলবন্দী বাবা

নাসিম উদ্দীন নাসিম, নাটোর প্রতিনিধি

১০ বছর ধরে টয়লেটে শিকলবন্দী বাবা

মানসিক ভারসাম্যহীন বাবাকে ১০ বছর শিকলবন্দী করে টয়লেটে রেখেছিল একমাত্র ছেলে ও তার পরিবার। অবশেষে শিকলবন্দী বাবাকে উদ্ধার করল নাটোরের গুরুদাসপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার তমাল হোসেন।

ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের চন্দ্রপুর ওয়াবদা বাজারে।

শিকল বন্দী আমির ওয়াবদা বাজারের আমির আলী সুপার মার্কেটের মালিক। শিকলবন্দী আমিরের এক ছেলে দুই মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে সংসার।

বুধবার রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিকলবন্দী আমির আলীকে উদ্ধার করে শিকল ভেঙ্গে তার বাড়িতেই ভালো একটি ঘরে তাকে বাসস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তমাল হোসেন।

আমির আলির ভাগ্নে রহিম জানান, দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ তার মামা আমির আলিকে কোনো চিকিৎসা না করিয়েই নোংরা এবং স্যাতসেতে জায়গায় বন্দী করে রেখেছিল তার ছেলে মেয়েরা এবং স্ত্রী।

শিকলবন্দী আমির আলীর ছেলে মঞ্জু আলী এবং স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানান, আমির আলী ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাকে এমনভাবে বন্দী করে রাখা হয়েছে। ১৪ বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছিল। তারপর আর কোনো চিকিৎসা করা হয়নি।

আমির আলীকে নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন জায়গায় বন্দী রাখার ব্যাপারে পরিবারের লোকজন ভুল শিকার করেছেন। পরে আর তাকে এমনভাবে রাখা হবে না বলে ইউএনও ও এলাকাবাসীর কাছে প্রতিজ্ঞা করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তমাল হোসেন জানায়, দীর্ঘ ১০ বছর আমির আলীকে তার পরিবারের লোকজন একটি অস্বাস্থ্যকর কুড়ে ঘরে তাকে শিকল বন্দী করে রেখেছিল। সেই ঘরে বৃষ্টি হলেই হাটু পানি জমতো।

শুধু তাই নয় যে ঘরে আমির আলীকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল, সেই ঘরেই তার শোয়ার জায়গা এবং টয়লেট
স্থাপন করা হয়েছিল। যে পাত্র দিয়ে টয়লেটের কাজ সারতো, সেই পাত্র দিয়েই তাকে আবার পানি পান করতে হতো। ভাঙ্গা কুড়ে ঘরে টয়লেট, গোসল, খাবারসহ পোকা-মাকড়ের কামড় খেয়েই কাটিয়েছে ১০ বছর। আমির আলির ঘটনা বুধবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকর্মী নাজমুল হাসান নাহিদ ইউএনও কে জানালে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমির আলীকে উদ্ধার করে তার বাড়িতেই ভালো একটি ঘরে তার থাকার জায়গা করে দেওয়া হয়। পরে এই রকম অমানবিক কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য