কর্ণফুলীতে ৪ নারী ধর্ষণের পেছনে কোন শক্তি?

ম্যাপ

কর্ণফুলীতে ৪ নারী ধর্ষণের পেছনে কোন শক্তি?

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় চাঞ্চল্যকর চার নারী ধর্ষণ মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেওয়ার পর মিজান মাতব্বর (৪৫) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে কর্ণফুলী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নিতে গড়িমসি এবং আসামি গ্রেপ্তারে অবহেলার অভিযোগ আসলে তদন্তের দায়িত্বভার পিবিআইকে দেওয়া হয়। সোমবার দুপুরে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর) হারুণ উর রশিদ হাযারি এক সংবাদ সম্মেলনে মামলা নিতে বিলম্বের ক্ষেত্রে পুলিশের ‘আংশিক ব্যর্থতা’ ছিল বলে স্বীকার করায় মামলার তদন্তভার পরিবর্তনের বিষয়টি ত্বরান্বিত হয় বলে জানা যায়। এই ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

পিআইবি সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার মিজান মাতব্বরকে গতকাল বিকেলে ষষ্ঠ মহানগর হাকিম আল ইমরান খানের আদালতে জবানবন্দির জন্য নেওয়া হয়। এ মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবউদ্দিন আহমেদ বলেন, মিজান মাতব্বর নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাছাড়া ইমতিয়াজ উদ্দিন বাপ্পী নামে অপর একজনকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করে কর্ণফুলী থানা পুলিশ।

তবে বাপ্পী অসুস্থ থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এদিকে সারা দেশে আলোড়ন ফেলা এমন একটা ঘটনায় পুলিশের মামলা নিতে গড়িমসি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে।  এই ধর্ষণের নেপথ্যে কারা? কেন পুলিশ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিল- এসব প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে। এ নিয়ে প্রতিবাদ-সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে।  

স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থার জায়গা নষ্ট করেছে। ডাকাতি ও একসঙ্গে চার নারী ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ মামলা নিতে বিলম্ব করার বিষয়টি স্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অনেকেই এ ঘটনার সঙ্গে কর্ণফুলী থানা পুলিশের কোন সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন। তাই দ্রুত এর সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা জরুরি। গুটিকয় অসাধু কর্মকর্তার কারণে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি যাতে নষ্ট না হয় সেই ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

এদিকে, মামলা নিতে বিলম্ব এবং ধর্ষকদের গ্রেপ্তারে গড়িমসি করার অভিযোগে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুল মোস্তফাকে প্রত্যাহার, অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে এখন উত্তাল কর্ণফুলী উপজেলা। ওসির প্রত্যাহার দাবিতে ২২ ডিসেম্বর মানববন্ধন করে নারী উন্নয়ন ফোরাম নামের স্থানীয় একটি সংগঠন।

২৫ ডিসেম্বর কর্ণফুলী উপজেলা ব্লাড ব্যাংক, বাংলাদেশ তথ্য ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শিকলবাহা কলেজ বাজার শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়। তাছাড়া অদম্য তরুণ একতা সংঘ, আলোর পথে কর্ণফুলী, অনির্বাণ মুক্তিযোদ্ধা সমর্থক গোষ্ঠী, আলোর দিশারী একতা সংঘ, সুকন্যা নারী প্রগতি সংঘ, বাংলাদেশ ভোক্তা অধিকার কমিশন প্রতিবাদ সমাবেশ করে। একই সঙ্গে মানববন্ধন করে ছাত্রলীগ চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন, শিকলবাহা ইউনিয়ন, চরপাথরঘাটা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন। তাছাড়া ধর্ষকদের গ্রেফতার দাবিতে আজ চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় এবং পরদিন কর্ণফুলী থানা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি পালনের কথা। কর্ণফুলী উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানাজা বেগম নিশি বলেন, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না হয় সে জন্য আমরা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দাবি করছি। বড়উঠান ইউপি চেয়ারম্যান মো. দিদারুল আলম বলেন, গতকাল একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশা করছি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।  

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর গভীর রাতে কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের এক বাড়িতে ডাকাতির সময় তিন প্রবাসী ভাইয়ের স্ত্রী ও তাদের এক বোনকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার নারীরা মামলা করতে গেলে মামলা নিতে গড়িমসি করে পুলিশ। বিভিন্ন চাপে পাঁচ দিন পর মামলা নেয় পুলিশ।

সম্পর্কিত খবর

পাঠকপ্রিয়