শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ০৯ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট আগে

‘গুলি কর, গুলি হবে গুলি, এই সবাই গুলি রেডি’

অনলাইন ডেস্ক

‘গুলি কর, গুলি হবে গুলি, এই সবাই গুলি রেডি’

‘গুলি কর, গুলি হবে গুলি, এই সবাই গুলি রেডি, গুলি কর, গুলি কর, গুলি কর অ্যাটাক।’

মা ইলিশ ধরা বন্ধে পদ্মা নদীতে অভিযান পরিচালনার সময় এমনিভাবে আওয়াজ দেন লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন।

ইতিমধ্যে স্পিডবোট নিয়ে অভিযানের দুইটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিও দুটির মধ্যে একটি ২ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড অন্যটি ১ মিনিট ৫ সেকেন্ডের।

নিউজ টোয়েন্টিফোরের হাতে পাওয়া ১ মিনিট ৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ওসি আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানা-পুলিশের একটি দল স্পিডবোটে নিয়ে পদ্মায় জেলেদের আরেকটি স্পিডবোটকে তাড়া করছে। এ সময় জেলেদের স্পিডবোট পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশের স্পিডবোট থেকে ওসি বন্দুক উঁচিয়ে বারবার বলছিলেন ‘গুলি হবে, গুলি কর, গুলি কর’। অন্য পুলিশ সদস্যদেরও বার বার বন্দুক তাক করতে দেখা গেছে। কিন্তু ভিডিওতে কোনো গুলির আওয়াজ শোনা যায়নি।

‌‌‌‘পুলিশের স্পিডবোট থেকে অন্য সদস্যরাও গুলি করব বলে চিৎকার করছিলেন। মাছ ধরতে আসা স্পিডবোটটি তাড়া খেয়ে দ্রুত চালাতে থাকে। একপর্যায়ে নদীর তীরে ভেড়ার পর কয়েকজনকে সেখান থেকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লৌহজং থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, ভিডিওটি গত ২১ তারিখের। সেদিন ওই অভিযান চালানো হয়। তবে কোনো গুলি করা হয়নি। গুলি গুলি বলে জেলেদের ভয় দেখানো হয়েছে। যাতে গুলির কথা শুনে স্পিডবোট থামিয়ে দেয়। জেলেরা দৌড়ে পালানোর পর মাছ ধরার কিছু জালসহ ওই স্পিডবোটটি জব্দ করা হয়।

ওসি আরও বলেন, প্রজনন মৌসুমে সরকার ইলিশ ধরা নিষেধ করেছে। সরকারের এ নির্দেশ পালনে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নদীতে ইলিশ শিকারের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার বিরোধিতা করেন ওসি।

ওই অভিযানে কোনো গুলি চালানো হয়নি উল্লেখ করে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলেন,  জেলেদের স্পিডবোট থামানোর জন্য ভয় দেখানো হয়েছে।

‘মা ইলিশ’ সংরক্ষণের জন্য গত ৯ অক্টোবর থেকে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।’

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য