রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ০৯ মিনিট আগে

সুন্দরবনের ৮ স্থানে বুলবুলের আঘাত

অনলাইন ডেস্ক

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অগ্রবর্তী অংশ সুন্দরবনের বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড, হিরণ পয়েন্ট, দুবলারচর, মেহের আলীর চর, অফিসকিল্লা, মাঝেরচর, আলোরকোল, মরণেরচরে আছড়ে পড়েছে।

শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অগ্রবর্তী অংশ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অংশে আঘাত হানতে শুরু করে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব পড়বে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে। অতিক্রমকালে এসব এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ০৯ (নয়) নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ০৯ (নয়) নম্বর মহবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এর আগে আমাদের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ১৩০ কিলোমিটার থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতিবেগে সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। 

স্থানীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, রাত ৮টা অথবা তার আগে আঘাত আনতে পারে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এই মুহূর্তে সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর থেকে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। তবে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষ জনের উপস্থিতি খুবই কম।  

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ) আসনের এমপি এস এম জগলুল হায়দার জানান, সাতক্ষীরায় মোট ২৭০টি সাইক্লোন সেল্টারের মধ্যে গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জসহ আশেপাশের সাইক্লোন সেন্টারগুলোতে মানুষজন আশ্রয় নিয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। অধিকাংশ মানুষ তাদের বসতবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে কোনভাবে আসতে চান না। তারা শেষ পর্যন্ত তাদের বসতভিটায় থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে চান।   

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য