শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ০৭ ঘণ্টা ২২ মিনিট আগে

ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন কাশ্মীর

চরম ভোগান্তিতে বাসিন্দারা

অনলাইন ডেস্ক

ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন কাশ্মীর

বরফে বিধ্বস্ত ভূ-স্বর্গ, কাশ্মীরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা। কাশ্মীরে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর ১শ’ দিন কেটে গেছে। এখনও ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি সেখানে। ৫ আগস্ট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বলে ঘোষণা করেন। উপত্যকায় তখন থেকে বিদ্যুৎ, যানবাহন, ইন্টারনেটসহ সব ধরনের পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। কর্মস্থলে যেতে পারছেন না অধিকাংশ সরকারী কর্মচারীই।

দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সোপিয়ানের জানান, 'বিদ্যুৎ না থাকায় ছেলেমেয়েরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। মোমবাতির আলোয় পড়া যাচ্ছে না। দক্ষিণ কাশ্মীরের বেশিরভাগ জায়গাই বিদ্যুতহীন। মনে হয় না আমাদের সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের ভাবার সময় আছে।' 

একই অবস্থা উত্তর কাশ্মীরেও। রাস্তা থেকে বরফ সরানো, বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা কোন কিছুই হয়নি। কাশ্মীরের বিদ্যুত বিভাগের চীফ ইঞ্জিনিয়ার হাসমত কাজি জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে শ্রীনগরসহ বড় শহরগুলোতে। আরও কয়েকদিন লাগবে বাকি উপত্যকায়। 

শ্রীনগরের রাস্তার অবস্থা একই রয়েছে। অনেক জায়গাতেই বরফ থাকায় গাড়ি চলছে না। ইন্টারনেট বন্ধ থাকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ। পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছে না বলে ক্ষুব্ধ তরুণরা। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিপাকে সংবাদমাধ্যমগুলোও বিপাকে পড়েছে।  সাংবাদিকরা যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে দেয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজধানী শ্রীনগরের রাস্তায় নামেন। 

শ্রীনগরের সাংবাদিকদের জন্য ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের কিছু দিন পর থেকে মিডিয়া সেন্টার খুলে দেয়া হয়। কিন্তু মাত্র ১০টি কম্পিউটার আছে ৩০০ সাংবাদিকের জন্য। প্রবীণ সাংবাদিক পারভেজ বুখারি বলেন, ‘ইন্টারনেট এখন মৌলিক অধিকারের মধ্যেই পড়ে। আমরা সাড়ে তিন মাস ধরে কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছি।’ 

স্কুলের ১৫০ শিক্ষা দিবস নষ্ট হয়েছে চলতি বছর নিষেধাজ্ঞা আর প্রতিবাদের জন্য । অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এখনও। রাজ্যের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, ১৪৪ ধারার ব্যবহার ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে।

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর/ডিএ

মন্তব্য