শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ | আপডেট ০৭ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট আগে

চাহিদার চেয়ে বেশি লবণ মজুদ আছে: বিসিক চেয়ারম্যান

খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম

নিজস্ব প্রতিবেদক

চাহিদার চেয়ে বেশি লবণ মজুদ আছে: বিসিক চেয়ারম্যান

দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) । লবণ ঘাটতির 'গুজবে' দেশের বিভিন্ন স্থানে লবণের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে আজ বিকেলে বিসিক থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবণ মজুদ রয়েছে।

কিন্তু একটি অসাধু চক্র লবণ নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তা থেকে মুনাফা লোটার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত না হবার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পর আজ হঠাৎ করেই লবণ সংকটের ‌কথা ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সেই বার্তা মুহূর্তে পৌঁছে যায় টেকনাথ থেকে তেতুলিয়া। ফলে প্রয়োজন না থাকলেও আগাম লবণ মজুদ করতে সাধারণ মানুষ ছুটতে থাকে মুদির দোকানে। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দোকানদাররাও দাম বাড়িয়ে দেয়। আজ রাজধানীর নতুনবাজার এলাকার কোনো দোকানে প্রতি কেজি লবণ ৫০ টাকায়, আবার কোথাও ১১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ পরিস্থিতিতে দুপুরের পর ভাটারা থানার পুলিশ ওই বাজারে প্রবেশ করলে অনেক ব্যবসায়ী তাৎক্ষণিক দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যান। এদিকে ভাটারা এলাকায় গতকাল বিকেলে অসংখ্য মানুষকে দুই-তিন প্যাকেট করে লবণ কিনে বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। এরমধ্যে সাইফুল নামের এক ব্যক্তি একাই ৭৫ কেজি লবণ কিনেছেন বলে এক চায়ের দোকানে গল্পের ছলে জানান।

কারণ জানতে চাইলে পেঁয়াজের উদাহরণ টেনে বলেন, ''শুনেছি পরিবহণ ধর্মঘটের কারণে লবণ আসতে পারছে না। যেহেতু দাম বৃদ্ধির আলোচনা শুরু হয়েছে, দাম বাড়বেই। তাই লাভের আশায় বেশি করে কিনে রেখেছি।''

এ ব্যাপারে বিসিক চেয়ারম্যান মো. মোশতাক হাসানের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লবণ চাষীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সরকারের সার্বিক সহায়তার ফলে লবণ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।  ১৫/১১/২০১৯ তারিখ পর্যন্ত দেশে লবণের মজুদের পরিমাণ সাড়ে ছয় লাখ মে. টন।

এছাড়াও চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের লবণ মৌসুমে লবণ চাষিরা লবণ চাষ শুরু করেছে। বর্তমানে দেশে চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি লবণ মিলে মজুদ রয়েছে। তবুও একটা মহল লবণ ঘাটতি সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে দেশে লবণের কোনো সংকট নেই এবং সংকট হওয়ার কোনো শঙ্কাও নেই।

ইতোমধ্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে অবগত করানোর জন্য বিসিকের জেলা কার্যালয়গুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। লবণ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও পরিবেশনের জন্য বিসিকের প্রধান কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০২-৯৫৭৩৫০৫।

মন্তব্য