শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ | আপডেট ০১ মিনিট আগে

একই সঙ্গে তিনি শিক্ষক ও উকিল!

বেলাল রিজভী, মাদারীপুর প্রতিনিধি

একই সঙ্গে তিনি শিক্ষক ও উকিল!

একই ব্যক্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি করেও ওকালতি পেশায় নিয়োজিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা মৌলভীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গৌতম চন্দ্র মন্ডল।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরো অনিয়ম ও দুনীতির অভিযোগও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজসেই দীর্ঘ দিন ধরে তিনি অনিয়ম ও দুর্নীতি করে যাচ্ছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে
জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গৌতম চন্দ্র মন্ডল মাদারীপুর আইনজীবী সমিতির একজন সদস্য এবং একই সঙ্গে তিনি সরকারি স্কুলের শিক্ষক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গৌতম চন্দ্র মন্ডল স্কুল ফাঁকি দিয়ে ওকালতি পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম।

এছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ নেওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে, অন্য কোনো লাভজনক পেশায় নিযুক্ত হতে পারবে না। কিন্তু তিনি বার কাউন্সিলের নিয়ম ভঙ্গ করে একই সঙ্গে সরকারি চাকরি ও ওকালতি পেশায় নিযুক্ত রয়েছেন।

এতে একদিকে শিক্ষকতার মতো মহৎ পেশায় সময় দিতে পারছেন না। অন্যদিকে মাদারীপুর আইনজীবী সমিতির সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করছেন।

তবে গৌতম চন্দ্র মন্ডল তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ‘আমি নিয়মিত স্কুলে থাকি, স্কুল ছুটির দিন প্রাকটিস করি।

আইনজীবী সমিতি থেকে কোনো সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করি না।

তবে অল্প দিনের মধ্যেই আমি শিক্ষকতা পেশা থেকে ওকালতিতে মনযোগ দেব। এছাড়া আমি শিক্ষকতা করেই এলএলবি ও এলএলএম পাশ করেছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আইনজীবী জানান, গৌতম চন্দ্র মন্ডল মাদারীপুর আইনজীবী সমিতির ১৬৩ নং সদস্য। বর্তমানে এই সমিতির সদস্য সংখ্যা ২৭৫, তার মধ্যে তিনি অনেকের চাইতেই সিনিয়র। তবে তিনি কৌশলে আইন পেশা ও শিক্ষকতা দুটো পেশায়ই নিযুক্ত রয়েছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাশিদা খাতুন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি ওই শিক্ষককে শীঘ্রই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেব। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে অন্য লাভজনক পেশায় থাকার কোনো সুযোগ নেই। উপযুক্ত প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

মাদারীপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন লোকমান বলেন, ‘সরকারি চাকরিরত অবস্থায় ওকালতি পেশায় থাকার সুযোগ নেই। যদি কেউ তথ্য ও প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য