সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ | আপডেট ০২ মিনিট আগে

যাদের জন্য জাহান্নাম হারাম

অনলাইন ডেস্ক

যাদের জন্য জাহান্নাম হারাম

ব্যক্তির আমল দ্বারাই তার জান্নাত ও জাহান্নাম নির্ধারিত হয়। নিজ আমলগুণে ব্যক্তি যেমন জান্নাতি হতে পারে, তেমনি কর্মদোষে যে হতে পারে জাহান্নামি। আবার এক দল মানুষ এমন রয়েছে, যাদের ব্যাপারে কোরআন ও হাদিসে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়ে বলা হয় যাদের ওপর জাহান্নাম হারাম।

হাদিসে বর্ণিত এমন আট ব্যক্তির পরিচয় তুলে ধরা হলো—

এক. সহজ-সরল মানুষ

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জানাব, যার ওপর জাহান্নাম হারাম? প্রত্যেক এমন ব্যক্তি যে মানুষের কাছাকাছি, বন্ধুসুলভ ও সহজ-সরল।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৪৮৮)

দুই. একত্ববাদের সাক্ষ্যদাতা

মাহমুদ বিন রাবি আল আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) বলবে তার জন্য আল্লাহ জাহান্নাম হারাম করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৩২)

তিন. সিজদা চিহ্ন রয়েছে যার শরীরে

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ জাহান্নামের জন্য সিজদার চিহ্ন গ্রাস করা হারাম করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৩৫৮)

চার. আল্লাহর জন্য অশ্রুবিগলিত চোখ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিনটি চোখ জাহান্নামের আগুন দেখবে না। যে চোখ আল্লাহর রাস্তায় পাহারাদারি করে, যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কাঁদে, যে চোখ আল্লাহ কর্তৃক নিষিদ্ধ জিনিস দেখে ক্ষুব্ধ হয়।’ (আল মুজামুল কাবির লিত-তিবরানি, হাদিস : ১০০৩)

পাঁচ. যার সন্তান মারা যায়

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘যে মুসলমানের তিনটি সন্তান মারা যায়, জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করবে, তবে কসম হালাল হওয়া পরিমাণ সময়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৩)

ছয়. যারা জোহরের সুন্নত নামাজের প্রতি যত্নশীল

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জোহরের আগে চার রাকাত ও পরে চার রাকাত নামাজ সংরক্ষণ করবে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করেছেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৪২৮)

সাত. সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আগে নামাজ আদায়কারী

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আগে নামাজ আদায় করে, জাহান্নাম তাকে স্পর্শ করবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৩৪)

আট. যে অন্যের সম্মান রক্ষা করে

আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী বলেন, ‘যে তার ভাইয়ের সম্মান তার অনুপস্থিতিতে রক্ষা করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার মুখমণ্ডল আগুন থেকে রক্ষা করবেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৯৩১)
 

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সিসি) বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল

মন্তব্য