শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২০ | আপডেট ০৫ মিনিট আগে

সাড়ে ৭ ঘণ্টা পর খুবি উপাচার্য মুক্ত

সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা থেকে

সাড়ে ৭ ঘণ্টা পর খুবি উপাচার্য মুক্ত

সাড়ে সাত ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সকল ডিন ও দু’শতাধিক শিক্ষকের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা গেটের তালা খুলে দিলে তিনি মুক্ত হন।

এর আগে বর্ধিক বেতন-ফি প্রত্যাহারসহ ৫ দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার বেলা পৌণে ১২টায় শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ প্রশাসন ভবনে তালা লাগিয়ে দিলে উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

পরে সন্ধ্যায় একটি গেটের তালা খুললেও উপাচার্যের বহির্গমন পথের ক্লোপসিবল গেট তখনও বন্ধ ছিল। এ অবস্থায় ডিনবৃন্দ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপাচার্যের অফিসের বহির্গমন পথের ক্লোপসিবল গেটের তালা খুলে দেওয়ার জন্য
আহবান জানান।

পরে তালা খুলে দিলে উপাচার্য অফিস থেকে বের হয়ে বাসভবন অভিমুখে রওনা হন। এসময় সকল শিক্ষক তাঁর সাথে যান।

জানা যায়, অস্বাভাবিক বর্ধিত বেতন-ফি প্রত্যাহারসহ ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ভবনের সামনে অবস্থান নেয়।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে আটকা পড়েন। শিক্ষার্থীরা দাবি পূরণে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। একই সাথে চোখে কালো কাপড় বেধে প্রতীকী পথনাটক ও ঢোল-তবলা নিয়ে গান গেয়ে বিভিন্ন দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করেন।

শিক্ষার্থীদের অন্য দাবিগুলো হচ্ছে- আবাসন সংকট দূরীকরণ, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে দ্বিতীয় পরীক্ষণ ও কোডিং পদ্ধতি চালু, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী অধ্যাদেশের সংস্কার তথা সাংস্কৃতিক অবরুদ্ধতা মুক্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত যেসব দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেছে তার প্রতিকার করা।

এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবিসহ সামগ্রিক বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের আহ্বান  জানিয়ে বলেন, অন্য সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন-ফি তালিকা সংগ্রহের কাজ চলছে। যদি অসামঞ্জস্যতা পাওয়া যায় তবে অবশ্যই অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য তদন্ত কমিটি যেসব সুপারিশ করবে তা’
দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য