সোমবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২০ | আপডেট ০৪ ঘণ্টা ০৬ মিনিট আগে

‘শব্দ বাসি হবে কিন্তু আবেদন অন্তরে রয়ে যাবে’

শাহাদাত হোসেন মালয়েশিয়া থেকে

‘শব্দ বাসি হবে কিন্তু আবেদন অন্তরে রয়ে যাবে’

সাংবাদিকরা হচ্ছেন জাতির জাগ্রত বিবেক। আর সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তাই সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকতা দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গল বয়ে আনে। বলছিলেন সাংবাদিকতায় অধ্যয়ন করা একসময়ের সাংবাদিক, পেশাদার কূটনীতিক মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম।

মঙ্গলবার ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সময় সকাল ১১ টায় মালয়েশিয়ায় কর্মরত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকতার বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. জহিরুল ইসলাম, কাউন্সিলর (শ্রম ২) মো. হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল, শ্রম শাখার দ্বিতীয় সচিব ফরিদ আহমদ।

সংবাদের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তুলে ধরে হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম বলেন, সংবাদ সাজানোর বা উপস্থাপনার ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা, শব্দ প্রয়োগ এবং বস্তুনিষ্ঠতা গুরুত্বপূর্ণ। দিন চলে যাবে, সংবাদের শব্দ বাসি হতে পারে কিন্তু আবেদন অন্তরের গভীরে রয়ে যাবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভর যারা প্রতিনিধিত্ব করছেন তাদের দায়দায়িত্ব অনেক বেশি। এ দায় শোধ করতে হয় জনগণকে বিভ্রান্ত না করে, সার্বভৌম ক্ষতি না করে, নিরাপত্তা বিঘ্নিত না করে এবং শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে। তাহলেই উত্তম সাংবাদিক হওয়া যায়। তিনি সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বা দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে খুব সচেতনতার সাথে উপস্থাপন করার অনুরোধ করেন।

তিনি মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সকল সম্পর্কে চিড় ধরবে যদি সংবাদে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয় এর ফলে মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশের নাগরিকরা বিপদে পড়তে পারে। প্রবাসে থেকে সংবাদকর্মী হওয়া খুব কঠিন কাজ। অন্তরের টান না থাকলে তা সম্ভব নয়। দেশে রেমিটেন্স পাঠানো আর আশাবাদী সংবাদ দেশে পাঠানো প্রায় অনুরূপ অর্থ বহন করে। কারণ আশাবাদী সংবাদে দেশে থাকা মা-বাবা ভাই-বোন সান্ত্বনা পায়।

অপরদিকে মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত বা সত্যের বিকৃতি মানুষের মাঝে হতাশা ও বিভ্রান্তি ছড়ায়। এসব ক্ষতি করে সমাজের। 

তিনি বলেন, আপনাদের দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি প্রবাসীরা। তাদের অবদান ভোলার নয়। প্রবাসীরা দেশ ছেড়ে থাকলেও তারা সবসময় দেশ ও মানুষের কল্যাণ নিয়ে ভাবেন। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ। তাই সরকারও প্রবাসীদের সবসময় সম্মান দেখিয়ে থাকেন। সাংবাদিকরা বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ করে রীহায়ারিং এর সময় ব্যাপক প্রচার করেছে ফলে ৬ লাখ লোক এর আওতায় এসেছে। তেমনি ব্যাক ফর গুডের সময় প্রচার করেছে ফলে ৫১ হাজারের অধিক বাংলাদেশি সুবিধা নিতে পেরেছে। বাংলাদেশেও পজিটিভ ইমেজ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার বলেন, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, অসুবিধা ও সমস্যা সমাধান করার জন্য হাইকমিশন কাজ করছে। সরকার প্রবাসীদের জন্য আলাদা সার্ভিস ভবন দিয়েছে যেখানে একসাথে ৩ হাজার লোকের বসার ব্যবস্থা আছে। হাইকমিশন থেকে গিয়ে মোবাইল টিমের মাধ্যমে পেনাং ও জহুর বারু, ক্যামেরুন হাইল্যান্ড ও ক্লাং এ সেবা দিচ্ছে। সময়ের সাথে সাথে সেবা প্রদানের পদ্ধতিতে যোগ হয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতির।

ফলে সেবা প্রদানের সক্ষমতা বেড়েছে আগের থেকে বেশি। ক্ষতিপূরণ আদায়ের হার বেড়েছে উল্লেখ করে বলেন, গত বছর প্রায় ৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেশে পাঠনো হয়েছে।

বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার বাণিজ্য বৃদ্ধি পেয়ে গত তিন বছরে ৫৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২৮১ মিলিয়ন হয়েছে। বাংলাদেশে সরাসরি মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন নবম বিনিয়োগকারী দেশ হয়েছে। তিনি প্রবাসীদের মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের আমদানি করার সুযোগ নিতে অনুরোধ করেন।

প্রবাসীদের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল প্রবাসে ভোটার হওয়ার। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন ঢাকায় সভা করে সেখানে হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার ফলে বহির্বিশ্বে সর্বপ্রথম মালয়েশিয়াতে জাতীয় পরিচয় পত্র ও ভোটার তালিকা নিবন্ধনের কাজ শুরু করে।

উল্লেখ্য, বর্তমান হাইকমিশনার মালয়েশিয়ায় যোগদানের পর বাংলাদেশ কান্ট্রি স্বীকৃতি পায় স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য