মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০ | আপডেট ০৬ মিনিট আগে

সাত দিনের রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে যা জানায় মজনু!

অনলাইন ডেস্ক

সাত দিনের রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে যা জানায় মজনু!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে ভবঘুরে মজনু। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তার বিকৃত জীবনাচারের নানা কথা জানতে পেরেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। 

ডিবি সূত্র জানিয়েছে, দিনের বেশির ভাগ সময় রেলস্টেশনে ঘোরাঘুরি করলেও রাত হলে স্টেশনকেন্দ্রিক ভিক্ষুক, মানসিক প্রতিবন্ধী নারীদের টার্গেট করত সে। এক জায়গায় স্থির থাকত না সে। কখনো বিমানবন্দর রেলস্টেশনে, কখনো কুর্মিটোলার ঝোঁপের মধ্যে আবার কখনো কমলাপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন ঝোঁপের আড়ালে নিয়ে অসহায় নারীদের ধর্ষণ করে আসছিল সে। 

এ ছাড়া বিমানবন্দর সড়ককেন্দ্রিক ফুটপাতের আশপাশেও নারীদের টার্গেট করে ঘুরে বেড়াত সে। তার এই ঘৃণ্য পরিকল্পনায় সহযোগিতা করত তার মতোই ভবঘুরে আরো বেশ কয়েকজন। তাদেরও ধরার চেষ্টা করছে গোয়েন্দা পুলিশ। 

মজনু এখন সাত দিনের ডিবি হেফাজতে রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, মজনু তার পাল্লায় পড়া নারীদের ধর্ষণে বাধা পেলে চরম মারধর করত। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকেও ভবঘুরে ভেবে ধর্ষণ করে সে। এতে বাধা পেয়ে তাঁর ওপরও শারীরিক নির্যাতন চালায়।

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে মজনু বলেছে, ধর্ষণের পর মেয়েটির কাছে সে ৫০০ টাকা দাবি করে। মেয়েটি তাঁর ব্যাগে টাকা আছে জানালে মজনু অন্ধকারে ব্যাগ খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে ব্যাগ পাওয়ার পর ভেতরে টাকা খুঁজতে থাকে সে। আর এই ফাঁকে মেয়েটি ছুটে পালায় ঘটনাস্থল থেকে।

মজনুর স্বীকারোক্তির সূত্রে গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরও জানান, মজনু পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে ঝোঁপের আড়ালে নেওয়ার সময় বাঁচার জন্য চিৎকার করেছিল মেয়েটি, কিন্তু রাস্তায় চলাচলকারী দ্রুতগতির যানবাহনের শব্দে তা ঢাকা পড়ে যায়। এই সুযোগ নিয়ে মজনু আরো বেপরোয়া আচরণ শুরু করে।

একসময় নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় নাটকীয় সংলাপ, অঙ্গভঙ্গি ও খিস্তি-খেউড় করতে থাকে। এতে মেয়েটি হতবিহ্বল হয়ে পড়েন, হয়ে পড়েন চরম বিপর্যস্ত। এ পর্যায়ে কিছুটা সময় অচেতন ছিলেন তিনি। চেতনা ফিরে পাওয়ার পর বেহুঁশ হওয়ার ভান ধরে পালানোর পথ খুঁজতে থাকেন। কিন্তু মজনুর ভয়ংকর আচরণে সাহস হারিয়ে ফেলে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন 

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল 

মন্তব্য