পাহাড়ে বাউকুলের বাম্পার ফলন

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

পাহাড়ে বাউকুলের বাম্পার ফলন

রাঙামাটির পাহাড়ে বাউকুলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় সবগুলো গাছে ফলন আসতে শুরু করেছে। উৎপাদিত এসব বাউকুল স্বাদে মিষ্টি।

রাঙামাটির পাহাড়ের উচুঁ জমিতে এ বছর ব্যাপকহারে বাউকুল উৎপাদন হয়েছে। সাড়া জাগানো এ বাউকুল নিয়েই এখন আলোচনা চলছে পাহাড়জুড়ে। পাহাড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাউকুল চাষ। তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বাউকুল চাষ ছড়িয়ে দেওয়া গেলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে এমনটা আশা করছেন কৃষি বিভাগ। 

স্থানীয় এক বাউকুল চাষী জানান, ২০১৪ সালে রাঙামাটি জেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের শুকুরছড়ির বোধিপুর উচু পাহাড়ে  মাত্র ৫০ হাজার টাকায় দুই একর জমিতে সাড়ে তিন’শ চারা দিয়ে শুরু করা হয় বাউকুল চাষ। বাম্পার ফলন দেখে আগ্রহ বেড়েছে চাষীদের।

এখন বোধিপুর এলাকার প্রায় চাষীরা এ বাউকুল চাষের সাথে সম্পৃক্ত। তবে বাদুর ও পাখিদের হাত থেকে বাউকুল রক্ষা করতে অনেকটা কষ্ট কর। তাই জাল দিয়ে সংরক্ষণ করতে হয় ফলন। ইতোমধ্যে ফলন্ত বাগান থেকে মাত্র অর্ধেক বাউকুল বিক্রি করে আয় হয়েছে এক লাখ ৭ হাজার টাকা। 

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শান্তি চাকমা জানান, রাঙামাটি শহর থেকে খুব একটা দূরের পথ নয় বোধিপুর। পাহাড়ি অঞ্চল হলেও এখানে এ বছর বাউকুলের ফলন হয়েছে বাম্পার।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে সময়মতো সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং সঠিক পরিচর্যা করে বাউকুল আবাদ করে অভাবনীয় ফলন পেয়েছে কৃষকরা। লাভবানও হচ্ছে চাহিদার অধিক। কারণ দেশের সবখানে চাহিদা আছে পাহাড়ের উৎপাদিত এ বাউকুলের।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা জানান, চলতি বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় বাউকুলের ফলন ভালো হয়েছে। শুধু রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় ৭৮৫ হেক্টর জমিতে এই বাউকুল আবাদ করা হয়েছে। 

পাহাড়ের উচুঁ জমি কুলচাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আধুনিক পদ্ধতিতে বাউকুল চাষ বাড়ানো সম্ভব। অপার সম্ভবনা আছে এ ফলের। পাহাড়ের অনাবাদি জমিতে কুল চাষে করে অনেকেই বেকারত্ব দূর করে নিজেদের আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলছে।

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল 

মন্তব্য