লিতুনজিরার পাশে বসুন্ধরা গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার লিতুনজিরার পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। দুই হাত-পা ছাড়া জন্মগ্রহণ করা মেয়েটি, মুখ দিয়ে লিখেই এবারের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) জিপিএ ৫ অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা তার। কিন্তু সে পথ পাড়ি দিতে দরকার সহযোগিতার। আর তাই লিতুনজিরার স্বপ্নপূরণে তার পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ।

গণমাধ্যমে তার বিষয়টি জেনে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস-চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান সানভীর তাকে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এরই প্রেক্ষিতে শনিবার দুপুরে তার পক্ষে বসুন্ধরা গ্রুপের ডিজিএম (হেড অব বাল্ক সেলস) রেদোয়ানুর রহমান লিতুনজিরার বাবার হাতে পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দেন। এছাড়া লিতুনজিরার পরিবারের সদস্যদের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়।

বসুন্ধরা ফুড এন্ড বেভারেজ ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড ও বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রডাক্ট লিমিটেডের উইং ম্যানেজার মাহবুবুর রহমান, বসুন্ধরা গ্রুপের বাল্ক সেলসের ডেপুটি ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম, ডিভিশনাল সেলস ইনচার্জ জিএম কামরুজ্জামান, এরিয়া সেলস ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম, টেরিটরি সেল্স এক্সিকিউটিভ মো. রঞ্জু সরকার, গোপালপুর স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা খাতুন এসময় উপস্থিত ছিলেন।

ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রেদোয়ানুর রহমান বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ অসহায় প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে পছন্দ করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে লিতুনজিরার খবর পড়ে আমরা তার বাড়িতে এসেছি। লিতুনজিরার পরিবার চাইলে বসুন্ধরাগ্রুপ সবসময় তার পাশে থাকবে।

এদিকে বসুন্ধরাগ্রুপকে পাশে পেয়ে মহা খুশি লিতুনজিরা ও তার পরিবার। পাশে দাঁড়ানোর জন্য তারা বসুন্ধরাগ্রুপের কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

পাঁচ লাখ টাকার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে লিতুনজিরা জানায়, ছোট বেলা থেকে বসুন্ধরার খাতাতেই আমি লিখি। সেখান থেকেই বসুন্ধরার গ্রুপের নাম জেনেছি। সেই বসুন্ধরা গ্রুপের স্যারেরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমাকে পাঁচ লাখ টাকার চেক, স্কুল ব্যাগ, আমার পরিবারের সবার জন্য অনেক উপহার সামগ্রী দিয়েছেন। এর জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের স্যারদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

পিইসিতে জিপিএ ৫ বা এ প্লাস অর্জন করা ৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিবন্ধী লিতুন অন্যতম।
লিতুনজিরা মনিরামপুর উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান ও জাহানারা বেগমের মেয়ে। সে খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।

অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিকভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে লিতুনের শারীরিক অক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তার বাবা-মা বলেন, ‘জন্মের পর মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতাম। কিন্তু তার মেধা, কঠোর পরিশ্রম আর সাফল্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে।’ বসুন্ধরা গ্রুপের এ সহযোগিতা ভোলার নয় বলেও জানান তারা।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য