মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | আপডেট ০৯ মিনিট আগে

৭ মন্ত্রণালয় ও ৫৪ সংস্থার কাছে ‘জিম্মি’ ঢাকার দুই সিটি

প্লাবন রহমান

ঢাকার নগর পিতা হলেও সমস্যা সমাধানে একক কর্তৃত্ব ক্ষমতা নেই মেয়রের। ৭ মন্ত্রণালয় আর ৫৪ সংস্থার কাছে অনেকটা জিম্মি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন। নাগরিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতে তাই সিটি কর্পোরেশনকে দৌড়াতে হয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সংস্থার কাছে। এসব পর্যবেক্ষণ দিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন- নগর সরকার গঠন ছাড়া সমস্যার সমাধান নেই।

রাজধানীর বিজয় স্মরণী সিগনাল। জ্বলছে লালবাতি। যানবাহন থামানোর সংকেত থাকলেও চলছে গাড়ি।

আবার এই সবুজ সিগনালের মাধ্যমে পথচারী পারপারের সংকেত থাকলেও পার হবার উপায় নেই পথচারীর।

পথচারীরা জানায়, সবুজ সিগনাল দিচ্ছে কিন্তু ছাড়ছে না। আবার দেখা যায় রেড সিগলালে ছাড়ছে। মোস্টলি দেখা যায়- পুলিশের সিগনালেই চলে।
  
এই চিত্র পুরো ঢাকার। সিটি কর্পোরেশনের এই সিগনাল বাতির সংকেত মানে না যানবাহন। চলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ট্রাফিক পুলিশের কথামতো।

ঠিক একইভাবে ঢাকার রাস্তা সিটি কর্পোরেশনের হলেও- এই রাস্তার গণপরিবহনের উপর কোনো এখতিয়ার নেই কর্পোরেশনের। ডেঙ্গুর ওষুধ কিনতে অনুমতি নিতে হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। এমন ঠুঁটো জগন্নাথ হয়েই চলছে সিটি কর্পোরেশন।

দুই নগর পরিকল্পনাবিদ বলছেন- বর্তমান ক্ষমতা দিয়ে সিটি কর্পোরেশন চলতে পারে না। যেখানে ঢাকার ৫৪ লাখ ভোটারের ভোটে নির্বাচিত দুই মেয়রের ক্ষমতা নেই বললেই চলে।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ঢাকা শহরের পিতা ৫৪ জন। এক পিতা চায় ছেলেকে মাদ্রাসায় পড়াতে। আরেক পিতা চায় ছেলেকে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াতে। ওই সন্তানের যে দূরাবস্থা হওয়ার কথা; ঢাকা শহরেরও সেই অবস্থা।

‘এই যে সাতটি মন্ত্রণালয় ৫৪টি প্রতিষ্ঠান তার মাথার ওপর যদি ছাতি হিসেবে মেয়রকে বসিয়ে দিই। তাহলে সবগুলোর অনুমোদন নিতে হবে মেয়রের কাছ থেকে।’

আরেক নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, নগর সরকার পুরো ব্যবস্থাপনাকে সহজতর করবে। পুরো দায়-দায়ীত্বের বন্ধনকে একিভূত করবে।

১২৯ বর্গ কিলোমিটার থেকে বেড়ে এখন ২৭০ বর্গ কিলোমিটার ঢাকা সিটির আয়তন। আগের সিটির মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ না করে পরিকল্পনাহীনভাবে যেখানে দুই সিটিতে নতুন যুক্ত হয়েছে আরো ৩৬টি ওয়ার্ড।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য