বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | আপডেট ০১ ঘণ্টা ০০ মিনিট আগে

১১ কফিনে ইউক্রেনে মরদেহ পাঠাল ইরান

অনলাইন ডেস্ক

১১ কফিনে ইউক্রেনে মরদেহ পাঠাল ইরান

‘ভুল বুঝে ছোড়া’ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেহরানের ইমাম খামেনি বিমানবন্দরের কাছে বিধ্বস্ত হয় ইউক্রেনের বিমান। বিমানে ইরানের ৮২ জন, কানাডার ৫৭ জন, ইউক্রেনের ১১ জন, সুইডেনের ১০ জন, আফগানিস্তানের চারজন এবং যুক্তরাজ্যের তিনজন নিহত হয়। ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ ফেরত পাঠানো শুরু করেছে ইরান। রোববার ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ১১ জনের মরদেহ পৌঁছেছে।

গত ৮ জানুয়ারি বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মাথায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

ইউক্রেনের পতাকা দিয়ে মোড়া ১১টি কফিনে করে ওই মরদেহগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি, প্রধানমন্ত্রী ওলেকসি গোনচারুক এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা কিয়েভের বোরিসপিল বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানটি তেহরানে বিধ্বস্ত হয়।

ইউক্রেনের নিহত ১১ জনের মধ্যে নয়জনই ছিলেন বিমানের ক্রু সদস্য এবং দুজন যাত্রী। মরদেহগুলো বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের স্টাফদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মরদেহের কফিনগুলো কিছু সময়ের জন্য বিমান বন্দরের টার্মিনালে রাখা হয়েছে যেন নিহতদের স্বজন এবং ইউক্রেন এয়ারলাইন্সের সদস্যরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। সোমবার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গ্লোবাল টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সম্প্রতি ইরানকে কিছুটা উসকে না দিত তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রীরা আজও বেঁচে থাকতেন।

জাস্টিন ট্রুডো বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আজ এটা খুব পরিষ্কার যে একটি পরমাণু অস্ত্রবিহীন ইরান যেমন দরকার, ঠিক তেমনি মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনাও নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের মাধ্যমে ডেকে আনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ড্রোন হামলায় ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী জেনারেল কাশেম সোলেইমানি নিহত হন। এরপর থেকেই ইরান-মার্কিন উত্তেজনা নতুন মাত্রায় চলে যায়। 

জবাবে ইরাকে দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টা পরে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের একটি ইউনিট ভুলবশত গুলি করে। এতে ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানে ১৭৬ আরোহী ছিল। ইউআইএ বোয়িং ৭৩৭ বিমান বিধ্বস্তের পর প্রথমদিকে এই ঘটনার দায় অস্বীকার করলেও পরে ইরান জানায় যে, ভুলবশত ইউক্রেনের বিমানটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য