মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | আপডেট ২০ মিনিট আগে

ব্যাংকের টাকা লুটেরাদের বিরুদ্ধে ধিক্কার

শওগাত আলী সাগর

ব্যাংকের টাকা লুটেরাদের বিরুদ্ধে ধিক্কার

বাংলাদেশের ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লোপাট করা টাকা নিয়ে কানাডায় বসবাসরতদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে প্রবাসীরা। এর প্রতিবাদ জানাতে টরেন্টোর ডেনফোর্থে গতকাল (১৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সেই সঙ্গে অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এদিকে এ ব্যাপারে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দুস্কৃতকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নতুন দেশ ডটকম’র সম্পাদক ও প্রকাশক শওগাত আলী সাগর।

তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

১. আগের দিনই শহরজুড়ে বয়ে গেছে বরফ ঝড়। ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার বরফের নিচে চাপা পড়া শহরটা এখনো গাঁ ঝাড়া দিয়ে ওঠতে পারেনি। তার ওপর তাপমাত্রা হিমাঙ্কের প্রায় ১২/১৩ (মাইনাস ১২/১৩) ডিগ্রী নিচে। তবু এই মানুষগুলো এসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে গেছে। কারো কারো হাতে কাগজে লেখা পোস্টার, সেসব পোস্টারে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ধিক্কার, বাংলাদেশের ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের টাকা লুট করে আসা চোর ডাকাত আর লুটেরাদের বিরুদ্ধে ধিক্কার। বিদেশ বিভূঁইয়ে জন্মভূমি থেকে টাকা পাচারের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকদের এমন অবস্থান- আগে কি কেউ কখনো দেখেছে!

২. না, এটি কোনো পরিকল্পিত, সংগঠিত উদ্যোগ ছিল না। বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে শত শত, হাজার কোটি টাকা লুট করে কতিপয় দুর্বৃত্তের কানাডায় এসে বসতি গড়ার খবর বেরিয়েছে ঢাকার পত্রিকায়। সেই খবরেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ‘একটা মানববন্ধন করলে হয় না!’-এমন একটা ফিস ফাঁস হচ্ছিল সবার মনেই। আবৃত্তি শিল্পী আহমেদ হোসেন (Ahmed Hossain) তো ফোন করে বলেই ফেললেন- একটা কিছু করতেই হবে, সেটা গানে কবিতায় প্রতিবাদ হলেও। অর্থ-পাচার, লুটপাটের বিরুদ্ধে ‘গানে, কবিতায় প্রতিবাদের’ কর্মসূচি রয়েছে ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায়।

রাজিবুর রহমান (Rajibur Rahman) ’১৯ জানুয়ারি মানববন্ধনের কথা জানিয়ে ফ্লায়ার ছেড়ে দেন ফেসবুকে। ব্যাস, মানুষের সমর্থন পেতে থাকে এই ঘোষণাটা। কোনো সংগঠন নেই, আয়োজক নেই, একটি ফ্লায়ারকে ঘিরেই সবাই উৎসাহী হয়ে ওঠে। এর মাঝে অন্টারিও আওয়ামী লীগ বৈঠকে বসে যায়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অর্থ-পাচারের বিরুদ্ধে, লুটেরাদের বিরুদ্ধে তারাও মানববন্ধনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। অর্থ-পাচারের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক দলের সক্রিয় হয়ে ওঠা আমাদের উৎসাহী করে তোলে।

৩. কত মানুষ এসেছিল মানববন্ধনে?-না, এই প্রশ্নটা আমাদের কাছে একদমই গুরুত্বপূর্ণ না। মাইনাস ১২/১৩ ডিগ্রীর হাড় কাঁপানো শীতে, বরফস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে থেকে বাংলাদেশের লুটেরাদের বিরুদ্ধে, অর্থ-পাচারকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর এই বিরল দৃশ্যটাই আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কি কখনো এমন একটি দৃশ্যের কল্পনা করতে পেরেছি?

৫০/৬০ কিলোমিটার পথ গাড়ি চালিয়ে এসে কোনো নারী যখন মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে যায়, আর বলে- আপনাদের সঙ্গে সহমর্মিতা জানাতে এলাম, শহরের অপর প্রান্ত থেকে কেউ যখন পুরো পরিবারকে নিয়ে এসে মিছিলে দাঁড়িয়ে যায়- তখন আমাদের সাহসটা আরও অনেকগুণ বেড়ে যায়। তখন আর আমরা সংখ্যা গোনার প্রয়োজনটা হারিয়ে ফেলি। আমরা তখন গলা ছেড়ে বলতে শুরু করি, ‘আসছে ফালগুনে আমরা দ্বিগুণ হব”।

৪. জন্মভূমি বাংলাদেশ থেকে অর্থ-পাচারের বিরুদ্ধে, লুটেরাদের বিরুদ্ধে আমাদের সামাজিক আন্দোলনের যে সূচনা হয়েছে, আজকের মানববন্ধনের পর আমাদের সাহস এবং ভরসা দুইটাই বেড়েছে। এই আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ সব খানেই ছড়িয়ে যাবে- সেই বিশ্বাসের ওপর আমরা দাঁড়িয়ে আছি। শুধু আপনাকে, আপনাদের সঙ্গে চাচ্ছি বন্ধু, প্লিজ আপনার হাতটা বাড়িয়ে দিন।

প্রসঙ্গত, বেসিক ব্যাংকসহ বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণের টাকা আত্মসাৎ করে কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কানাডায় বসবাস করছেন, এমন খবর বাংলাদেশের পত্রিকায় প্রকাশিত হলে কানাডায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রবাসী বাংলাদেশিরা অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাদেরকে বয়কটের দাবি জানিয়ে সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন। পাশাপাশি এ ব্যাপারে কানাডা সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য