বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | আপডেট ০২ ঘণ্টা ০৪ মিনিট আগে

অপমৃত্যুর এক মাস ২২দিন পর হত্যা মামলা!

নাসিম উদ্দীন নাসিম, নাটোর প্রতিনিধি

অপমৃত্যুর এক মাস ২২দিন পর হত্যা মামলা!

নাটোরের গুরুাসপুরে ইটভাটার ম্যানেজার নজরুল ইসলামের অস্বাভাকি মৃত্যুর এক মাস ২২ দিন পর ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নজরুল ইসলামের ছেলে শাহাবুদ্দিন বাদী হয়ে নাটোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (গুরুদাসপুর) গত ৫ডিসেম্বর ওই মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ইটভাটার মালিক মো. জাহিদুল ইসলাম, ভাই বাবু, বাবা দশরত আলী ও ক্যাশিয়ার রান্টু প্রামানিককে আসামি করা হয়েছে। গত বছরের ১৩ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নজরুল ইসলাম।

মৃত্যুর দেড় মাসের বেশি সময় পর হত্যা মামলা দায়েরের ঘটনাকে হয়রানী, উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলছে মামলার আসামিরা।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের মৃত্যু প্রমাণপত্র বলছে, গ্যাসটেবলেট পয়জনিংয়ে ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসক মো. রবিউল করিম জানান, স্থানীয় লোকজন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন তাঁকে। দুইটি গ্যাস টেবলেট খেয়েছেন বলে জানান নজরুল ইসলাম। তখন ‘পয়জনিং’-এর চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। পরিস্থিতির অবনতি হলে রাতেই অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথে মারা গেলে আবারও তাঁকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নজরুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করা হয় । এ মর্মে হাসপাতাল থেকে মৃত্যু প্রমাণপত্র দেওয়া হয়েছে।

মামলার বাদী নজরুল ইসলামের ছেলে শাহাবুদ্দিন দাবি করেন, পৌরশহরে খোয়ারপাড়া এলাকার ‘মেসার্স দশরত ব্রিকস’-এ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তাঁর বাবা। ঘটনার দিন রাত নয়টার দিকে ইটভাটার গদীঘরে যাওয়ার জন্য বের হন। সেখানে ব্যবসায়ীক হিসাব-নিকাশ নিয়ে দ্বন্দ্বের এক পর্যায়ে গলাটিপে ও পাঁজরে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন শাহাবুদ্দিন। পরিস্থিতি বিবেচনায় তখন থানায় না জানিয়ে পোষ্ট মর্টেম ছাড়াই তাঁর বাবার লাশ দাফন করা হয়। তাঁর বাবার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতেই আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ইটভাটা মালিক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্যাড ব্যবহার করে গোপনে কমপক্ষে ৪০ লাখ টাকার ইট বিক্রি করে অগ্রীম টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম। টাকা জমা না হওয়ায় ভাটা থেকে ইট সরবরাহ করা হয়নি। এ কারণে ক্রেতাদের টাকার চাপে পড়েন তিনি। লজ্জায় ক্ষোভে-দুঃখে গ্যাসটেবলেট খেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন নজরুল ইসলাম। 

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, নজরুল ইসলামের মৃত্যু নিয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানাকে অবগত করা হয়নি। এ কারণে পুলিশ এ বিষয়ে অবগত নয়।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য