বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | আপডেট ০২ ঘণ্টা ০৯ মিনিট আগে

আসামি ও বাবার নামে মিল, জেলে চা দোকানি

অনলাইন ডেস্ক

আসামি ও বাবার নামে মিল, জেলে চা দোকানি

গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রকৃত আসামি ও তার বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় রফিকুল ইসলাম নামে এক চা দোকানিকে জেলে পাঠিয়েছে পুলিশ। গত পাঁচ দিন ধরে জেল খাটছেন নিরীহ ও স্বল্প আয়ের এ মানুষটি। ১৭ জানুয়ারি বিকালে তাকে চায়ের স্টল থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় শ্রীপুর থানাপুলিশ।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মামলার মূল আসামি রফিকুল ইসলামের জাতীয় পরিচয়পত্র নং­- ১৯৮০৩৩২৮৬০৮০৪১৮৯৭। আর এ পরিচয়পত্রের উল্লেখ অনুযায়ী জন্ম তারিখ- ১৬ জানুয়ারি ১৯৮০, বাবা- নূর মোহাম্মদ, মা- রহিমা খাতুন এবং ভোটার সিরিয়াল নং- ১৬১১। তার পরিবর্তে পুলিশ যে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে, তার বাবার নামও নূর মোহাম্মদ। কিন্তু মায়ের নাম জামিনা খাতুন। তার জাতীয় পরিচয়পত্র নং- ৩৩২৮৬০৮০৪৪১৫২ এবং এতে উল্লিখিত জন্ম তারিখ- ২ এপ্রিল ১৯৭৭।

জানা যায়, তিন-চার বছর আগে শ্রীপুর বন বিভাগ অবৈধ করাতকলে গজারি গাছ চেরাইয়ের অভিযোগে শ্রীপুর পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কেওয়া পশ্চিমখণ্ডের নূর মোহাম্মদের ছেলে মো. রফিকুল ইসলামকে আসামি করে মামলা করে। পরে আদালত তার নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেন।

গত ১৭ জানুয়ারি শ্রীপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কফিল উদ্দিন আদালতের পরোয়ানা তামিল করতে কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের মসজিদ মোড় এলাকায় যান। সেখান গিয়ে তিনি নূর মোহাম্মদের ছেলে রফিকুল ইসলামকে খুঁজতে থাকেন। মসজিদ মোড়ের পাশেই চা দোকানি রফিকুল ইসলামকে পেয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে জানিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যেতে উদ্যত হন।

এ সময় স্থানীয়রা জানান, তিনি কখনই কাঠের ব্যবসা করেননি এবং মূল আসামি নন। রফিকুলও খুব অনুনয়-বিনয় করেন। কিন্তু পুলিশ কারও কথা না শুনে চা দোকানি রফিকুলকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান।

মামলার প্রকৃত আসামি রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘ ২০-২২ বছর ধরে কাঠের ব্যবসা করছেন। এ পর্যন্ত বন বিভাগ কারণে-অকারণে কয়েকটি মামলা দিয়েছিল। যে মামলাটিতে পুলিশ ভুলবশত চা দোকানি রফিকুলকে গ্রেপ্তার করেছে, সেই মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। জামিনে থাকার পরও পুলিশের এমন আচরণে তিনি নিজেও বিস্মিত।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কফিল উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য