মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | আপডেট ২০ মিনিট আগে

এক নজরে ই-পাসপোর্টের খুঁটিনাটি

অনলাইন ডেস্ক

এক নজরে ই-পাসপোর্টের খুঁটিনাটি

ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিমানবন্দরে প্রবেশ করছেন এক যাত্রী। (প্রতীকী ছবি)

বিশ্বের ১১৯তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। বুধবার (২২ জানুয়ারি) কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ই-পাসপোর্টে রয়েছে নানা সুবিধা। ই-পাসপোর্ট পেতে আবেদনপত্র অনলাইনে অথবা পিডিএফ ফরমেট ডাউনলোড করে পূরণ করে জমা দিতে হবে। এতে কোনো ছবি এবং কোনো ধরনের কাগজপত্র সত্যায়নের প্রয়োজন নেই। প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদপত্রসহ বাবা-মায়ের এনআইডির কপি দিতে হবে। নির্ধারিত ফি দিয়ে সাধারণ বা জরুরি ভিত্তিতে পাওয়া যাবে ই-পাসপোর্ট। আবেদন করার বিস্তারিত নিয়মাবলী অধিদপ্তরের ওয়েব সাইটে দেওয়া হয়েছে।

ই-পাসপোর্ট কী?

বর্তমানে এমআরপি বা যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্টের সঙ্গে ই-পাসপোর্টের পার্থক্য থাকবে। এমআরপিতে প্রথমে দুই পাতায় যে তথ্য থাকতো ই-পাসপোর্টে তা থাকবে না। তার বদলে থাকবে ইলেক্ট্রনিক  চিপ। সেখানে সংরক্ষিত থাকবে পাসপোর্ট বাহকের সব তথ্য। ডাটাবেজে পাসপোর্টধারীর তিন ধরনের ছবি, ১০ আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ থাকবে। সেখান থেকেই ভ্রমণকারীর তথ্য জানতে পারবে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট খবর: দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট চালু

ই-পাসপোর্টের মেয়াদ ও ফি (ভ্যাটসহ)

৪৮ পৃষ্ঠা ৫ বছরের জন্য
সাধারণ ফি (২১ দিন) ৪০২৫ টাকা, জরুরি (১০ দিন) ৬৩২৫ টাকা এবং অতি জরুরি (২ দিন) ৮৬২৫ টাকা।

৪৮ পৃষ্ঠা ১০ বছরের জন্য
সাধারণ (২১ দিন) ৫৭৫০ টাকা, জরুরি (১০ দিন) ৮০৫০ টাকা এবং অতি জরুরি (২ দিন) ১০,৩৫০ টাকা।

৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছরের জন্য

সাধারণ (২১ দিন) ৬,৩২৫ টাকা, জরুরি (১০ দিন) ৮,৬২৫ এবং অতি জরুরি (২ দিন) ১২,০৭৫ টাকা। 

৬৪ পৃষ্ঠা ১০ বছরের জন্য
সাধারণ (২১ দিন) ৮,০৫০ টাকা, জরুরি (১০ দিন) ১০,৩৫০ টাকা এবং অতি জরুরি (২দিন) ১৩,৮০০ টাকা। 
এছাড়া সব ফি’র সঙ্গে যোগ হবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট।

ই-পাসপোর্টের সুবিধা

ই-পাসপোর্টের মাধ্যমে ই-গেট ব্যবহার করে খুব দ্রুত ও সহজে ভ্রমণকারীরা যাতায়াত করতে পারবেন। ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ইমিগ্রেশন দ্রুত হয়ে যাবে।

ই-গেটের নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট রেখে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও। সব ঠিক থাকলে তিনি ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন। কোনো গরমিল থাকলে জ্বলে উঠবে লালবাতি। কারও বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে, সেটিও জানা যাবে সঙ্গে সঙ্গে।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অরগানাইজেশন (আইসিএও) এই পিকেডি পরিচালনা করে। ফলে ইন্টারপোলসহ বিমান ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য যাচাই করতে পারবে। এখানে ৩৮টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকায় এ ধরনের পাসপোর্ট জাল করা কঠিন।

যা লাগবে ই-পাসপোর্ট করতে:

ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী, যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তার পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
জানান, এতে কোনো ছবি এবং কোনো ধরনের কাগজপত্র সত্যায়নের প্রয়োজন নেই। প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন সনদপত্রসহ বাবা-মায়ের এনআইডির কপি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনপত্র গ্রহণের সময় হাতের ১০ আঙুলের ছাপ, ছবি ও চোখের আইরিশ ফিচার নেওয়া হবে। তবে ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, আমরা অনলাইনে ভেরিফিকেশন করার প্রচেষ্টা নিয়েছি। সেটা অবশ্যই সফল করবো। সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো. শহিদুজ্জামান বলেন, অতি জরুরি ক্ষেত্রে ই-পাসপোর্ট করার জন্য প্রি-পুলিশ ভেরিফিকেশন নিজ উদ্যোগে করে নিয়ে যেতে হবে।

অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করে সাবমিট করতে হবে নতুন পাসপোর্টের জন্য। সেক্ষেত্রে আগেই ব্যাংকের অনলাইন মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে ব্যাংক থেকে সরবরাহ করা রেফারেল নম্বর কোডটি ব্যবহার করতে হবে অনলাইন আবেদন ফরমে। আবার কেউ চাইলে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড দিয়েও পাসপোর্ট ফি জমা দিতে পারবেন। প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে সাবমিট করার পর প্রিন্ট কপি নিতে হবে। সেই কপি স্ব-শরীরে গিয়ে পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে হবে। অনলাইনে পূরণ না করে পিডিএফ ফরম ডাউনলোড করে হাতেও পূরণ করা যাবে।

 

ভিসা হবে কীভাবে?

প্রচলিত ব্যবস্থার মতো ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে ভিসার বিষয়টি একই থাকবে। ভিসা কর্তৃপক্ষ বা দূতাবাসগুলো এই পিকেডি ব্যবহার করে আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করে নিতে পারবে। এরপরে তারা বইয়ের পাতায় ভিসা স্টিকার, সিল দিতে বা বাতিল করতে পারবে।

এমআরপি কি বাতিল হবে?

ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি এমআরপিও চালু থাকবে। তবে নতুন করে কাউকে এমআরপি দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে সব এমআরপি তুলে নেওয়া হবে।

মন্তব্য