রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০ | আপডেট ০২ ঘণ্টা ০০ মিনিট আগে

শ্রদ্ধার্ঘ্য, সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক বাদশাহ (১৯৪২-২০১৫)

সৈকত রুশদী

শ্রদ্ধার্ঘ্য, সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল হক বাদশাহ (১৯৪২-২০১৫)

'স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র'-এর মুখ্য সমন্বয়ক আমিনুল হক বাদশাহ'র সাথে আমার পরিচয় সাইত্রিশ বছর আগে, ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ব্রিটেনে। লন্ডনের 'বাংলাদেশ সেন্টার'-এর এক ঈদ পুনর্মিলনী আয়োজনে।

সেখানেই পরিচয় হয়েছিল একুশের গানের গীতিকার এবং প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কলাম লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী'র সাথে। পরবর্তীকালে বিবিসি রেডিও'র বাংলা বিভাগে আমরা সহকর্মী ছিলাম কিছুদিন।

বহু মানুষের সমাগমের মাঝে পরিচয় পর্বে সেদিন আমিনুল হক বাদশাহ যখন জানলেন, নগরীতে নবাগত আমি সাংবাদিক এবং মেহেরপুর তথা বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলার সন্তান, তিনি মুহূর্তেই আমাকে আপন করে নিলেন। তিনি নিজেই দায়িত্ব নিলেন বছর তেইশের প্রায় অর্বাচীন এই তরুণের জ্যেষ্ঠ ভাই হিসেবে।

নানাবিধ পরামর্শ ও সাথে নিয়ে নানা মানুষের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং আমার সাময়িক আবাসন ও খণ্ডকালীন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়াকে নিজের দায়িত্ব মনে করেছেন। তাঁর এই নিঃস্বার্থ পরোপকার কেবল আমার প্রতি নয়, বহু মানুষকে নতুন দেশে নতুন পরিবেশে টিকে থাকতে পথ দেখিয়েছে। এক পারিবারিক বিপর্যয়ের সময় মাসখানেক এই ছোট ভাইয়ের সাথে বাসও করেছেন তিনি। অমূল্য সেই সময়। স্মৃতি ও পাথেয় আমার।

ব্রিটেনে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র যে ঐতিহাসিক স্থাপনা, লন্ডনে নটিং হিল গেটের সেই ভবনেই স্থাপিত 'বাংলাদেশ সেন্টার'-এর অন্যতম ট্রাস্টি বাদশাহ ভাইয়ের সাথে যৌথভাবে অনেক ফলপ্রসূ কাজ করেছি।

তার মধ্যে অন্যতম প্রধান, বাংলাদেশ সেন্টারে ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে কাঠের শহীদ মিনার নির্মাণ, 'একুশের স্মরণিকা' প্রকাশ, আর 'অমর একুশে' সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন। তাঁর সান্নিধ্য, স্নেহ ও প্রশ্রয় আমাকে একান্ত আপন করে নিয়েছিল আমার তারুণ্যে প্রবাসে একাকীত্বের দিনগুলোয়।

'দৈনিক আজাদ' পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে পেশায় পদার্পণ করলেও একসময়ের ছাত্র নেতা আমিনুল হক বাদশাহ'র সবচেয়ে বেশি পরিচিতি ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯ থেকে ২৫ মার্চ ১৯৭১ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম প্রেস সেক্রেটারী হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনে তাঁর সাফল্যের জন্য। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর স্ত্রীর একান্ত স্নেহের পাত্র। প্রায় পরিবারের সদস্যের মতো।

আমৃত্যু কলাম লেখক হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত থাকা এই মানুষটি ছিলেন একাধারে আন্তর্জাতিক মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেতা, বাদন শিল্পী, সুবক্তা, অসাধারণ সংগঠক এবং লেখক। তবে প্রায় অজাতশত্রু এবং হৃদয়বান এই মানুষটির সবচেয়ে বড়ো গুণ ছিল তাঁর মানবিকতা ও বিনয়ী আচরণ।

আমি সবসময়ই গৌরব বোধ করি এমন একটি মানুষের সাহচর্যে লন্ডনে প্রায় দু'টি বছর কাটানোর এবং তাঁর কাছ থেকে শেখার সুযোগের জন্য।

শ্রদ্ধা, প্রয়াত বাদশাহ ভাইয়ের প্রতি।

-ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল 

মন্তব্য