রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০ | আপডেট ০৩ মিনিট আগে

পাহাড়ে ‌‘মাঘ-মেঘের দেখা’

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

পাহাড়ে ‌‘মাঘ-মেঘের দেখা’

শীতেও বৃষ্টি পড়ছে পাহাড়ে। একই সাথে কনকনে ঠান্ডা আর বাতাস। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেখা নেই সূর্যের। মেঘলা আকাঁশে সাদা মেঘের চাঁদরে ঢেকে আছে পুরো পাহাড়। গুড়ি গুড়ি শীতল বৃষ্টিতে বেড়েছে হাড়কাঁপানো শীতের তীব্রতা। একইসঙ্গে বেড়েছে ঘন কুয়াশা। এ শীতের শেষ মুহূর্তে এ যেন মাঘ আর মেঘের দেখা।

তবে রাঙামাটি আবহওয়া অফিস বলছে, আদ্রতা বেশি থাকার কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। এমন অবস্থা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকবে। তবে এরপর আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাবে তাপমাত্র।

অন্যদিকে, এ শীতে বেশি বিপাকে পড়েছে রাঙামাটির নিম্নআয়ের মানুষ। কনকনে ঠান্ডার কারণে কাজে যেতে পারে না কেউ। চরম দুর্ভোগে রাঙামাটি জেলার ছয়টি দুর্গম উপজেলা লংগদু, বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর ও বাঘাইছড়ির বাসিন্দারা।

উপজেলাগুলো সীমান্তবর্তী হওয়া এখানে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি শীত অনুভূত হয়। পুরো শীত মৌসুম জুড়ে পাহাড়বাসী কোনো রকমে দিন পার করলেও মাঘ মাসের শেষ মুহূর্তে বিপাকে পড়েছে। শীতের কারণে জুম বাগানেও যেতে পারছে না জুম চাষিরা। শুকনো পাতার আগুন জ্বালিয়ে কোনো রকমে যাচ্ছে এসব মানুষের দিন। কাজ করতে না পেরে বেকার বসে আছে অনেক চাষি।

রাঙামাটি বরকল উপজেলার নয়াধন চাকমা জানান, জুমচাষ, মাছ শিকার, কাঠ কেটে কোনো রকমে চলে এ অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষের জীবন। কিন্তু তীব্র শীতের কারণে কাজে যেতে পারছে না অনেকে। এসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোকে সহযোগিতা করতে আসে না কেউ। পুরনো কম্বল আর ছেঁড়া কাঁথা পুরো শীত পার করল এসব মানুষ।

অন্যদিকে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও একই চিত্র। মাহিল্লা, সাজেক, সুবলং, বড়ুনাছড়ি, মাইনি, বন্দুকভাঙ্গসহ
বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ শীতের তীব্র যন্ত্রণায় পার করছে দিন। এসব অঞ্চলে দুপুর বেলাও ঘন কুয়াশায় পথ-ঘাট দেখা যায় না। ঘড়ি দেখে চলে তাদের জীবন। আকাঁশে সূর্য্য না থাকায় তারা বুঝতে পারে না কখন সকাল, কখন দুপুর আর কখন বিকেল হয়। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চলে ঘন কুয়াশ ও কনকনে শীতের লড়াই। দিনভর পাহাড়ের আকাশ
মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও রাতে তাপমাত্রা কমে কুয়াশা পড়ছে।

রাঙামাটি আবহাওয়া অফিসের ভারপাপ্ত কর্মকর্তা কাজি হুমায়ন কবির জানান, বর্তামানে রাঙামাটিতে আদ্রতা আছে ৫৮ভাগ। আর বাতাস আছে ১৬ কি.মি.। হঠাৎ গুড়ি বৃষ্টি ক্ষণস্থায়ী থাকলেও আদ্রতা বেশি থাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। তবে তাপমাত্র বাড়ছে। অবশ্য আবহাওয়ার পূর্বাবাস শেষ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেওয়া আছে।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য