বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | আপডেট ০৬ ঘণ্টা ৪২ মিনিট আগে

অবশেষে প্রকাশক পেলেন ড. ফয়জুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক

অবশেষে প্রকাশক পেলেন ড. ফয়জুর রহমান

একুশের বইমেলা চত্বরে নিজের বই হাতে প্রকাশকদের কাছে ঘুরে বেড়ানো ৮৬ বছর বয়সী লেখক ড. ফয়জুর রহমান আল সিদ্দিকী প্রকাশক খুঁজে পেয়েছেন। তার সেই বইটি আবার পুনঃমুদ্রিত হচ্ছে।

পরমাণু শক্তি কমিশনের অবসরপ্রাপ্ত এই বিজ্ঞানীর নিজের লেখা ‘বাঙালির জয়, বাঙালির ব্যর্থতা’ বইটি নিয়ে এবার বইমেলায় ঘোরার খবর সোশাল মিডিয়ায় আলোচনায় উঠে আসার পর অনেকের নজরে আসেন তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবি দেখে ‘নগদ’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক লেখকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি প্রকাশনা সংস্থা ‘বাংলা প্রকাশ’ থেকে বই প্রকাশের উদ্যোগ নেন।

বাংলা প্রকাশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শরিফুল আলম জানান, ‌‘বাঙালির সাফল্য ও ব্যর্থতা’ বইটি আগামী সপ্তাহ থেকে বইমেলায় তাদের স্টলে পাওয়া যাবে। বইটি পড়ার পর  আমি বুঝতে পারি যে এটি বইপ্রেমীদের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছানো উচিত।’ 

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) প্রাক্তন এই গবেষককে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ব্যাগ কাঁধে বই হাতে মেলায় স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন একজন বৃদ্ধ- এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে আলোচনায় আসেন লেখক।

ড. ফয়জুর রহমান জানান, ২০০০ সালে পরমা পাবলিকেশন থেকে তার ৫০০ কপি বই বিক্রি হয়। এরপরে প্রকাশক সেই বইটির আর কোনো সংস্করণ প্রকাশ করেননি। 

‘কোনো প্রকাশনার সংস্থা খুঁজে না পেয়ে আমি প্রতিবছর ফটোকপি মেশিন ব্যবহার করে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কপি বই ব্যক্তিগতভাবে ছাপিয়ে বইমেলায় বিক্রি করেছি।’

পু্ঁথিনিলয় প্রকাশনা স্টলে কয়েক কপি বই দিয়েছেন বলে জানান তিনি। 

‘বইটিতে আমাদের অর্জন এবং ব্যর্থতাগুলো দেখাতে চেয়েছি। কোনো জাতি যদি তাদের ভুল সম্পর্কে না জানে তবে কখনোই তারা ভুল শুধরে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে না। তাই আমাদের ভুলগুলো জানা জরুরি।’

এছাড়াও ‘বাদুর ও চামচিকা’ নামে নতুন একটি বই লিখছেন বলে জানান তিনি।

১৯৩৪ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার চরমধুচারিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ড. ফয়জুর রহমান আল সিদ্দিক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নেন তিনি।  

কর্মজীবনে তিনি আণবিক শক্তি কমিশনে পরমাণুবিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সহকর্মী ছিলেন।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য