আগামী বছরের ১৬ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক

আগামী বছরের ১৬ ডিসেম্বর মেট্রোরেলের উদ্বোধন

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে উত্তরা ৩য় পর্ব থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে।

স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে অসীম কুমার উকিলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এ প্রকল্পে ৩১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখ পর্যন্ত সার্বিক গড় অগ্রগতি ৪০.৩৬ শতাংশ। ২০.১০ কিলোমিটার দীর্ঘ, ১৬ স্টেশন বিশিষ্ট ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহনে সক্ষম আধুনিক এই মেট্রোরেল। এটি হবে বিদ্যুৎ চালিত।

এর আগে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর আওতায় ৬টি Mass Rapid Transit (MRT) বা মেট্রোরেলের সমন্বয়ে মোট ১২৮. ৭৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল (৬৭. ৫৬৯ কিলোমিটার এবং পাতাল ৬১.১৭২ কিলোমিটার) ও ১০৪ স্টেশন বিশিষ্ট (উড়াল ৫১ এবং পাতাল ৫৩) একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা-২০৩০ গ্রহণ করেছে। 

এ কর্মপরিকল্পনা অনুসরণে প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে আগারগাঁও অংশের পূর্ত কাজের অগ্রগতি ৬৭. ৯৭ শতাংশ।

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদলের ৮ জন রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক

পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদলের ৮ জন রিমান্ডে

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশ ও ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনায় করা শাহবাগ থানায় করা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল সভাপতি রফিকুল আলম মজনুসহ আট জনের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

সোমবার (৮ মার্চ) ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রিমান্ডে নেয়া অপর আসামিরা হলেন খালেক টিপু, রাসেল, দিল গনি, শহিদুল ইসলাম, মোশাররফ, আবুল কাশেম ও ওয়াহিদ।

সংঘর্ষের ঘটনায় গত রোববার শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক পলাশ শাহা বাদী হয়ে ৪৮ আসামির নাম উল্লেখসহ ২০০/২৫০ জন আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

সোমবার মামলার আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. আব্দুল্লাহ প্রত্যেক আসামির দশ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।


আরও পড়ুনঃ


সমালোচনা আমাদের কাজের সফলতা : কবীর চৌধুরী তন্ময়

পাবনায় থাকছেন শাকিব খান

সাধ্যের মধ্যে ৮ জিবি র‍্যামের রেডমি ফোন

কমেন্টের কারণ নিয়ে যা বললেন কবীর চৌধুরী তন্ময়


এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ৫ মার্চ মজনুসহ আটজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

news24bd.tv / নকিব

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

রাস্তায় ময়লা ফেললে সেই ময়লা বাসায় পৌঁছে দেয়া হবে : মেয়র আতিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাস্তায় ময়লা ফেললে সেই ময়লা বাসায় পৌঁছে দেয়া হবে : মেয়র আতিক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, রাস্তায় যে ময়লা ফেলবে, সেই ময়লা তাদের বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে।

বিস্তারিত আসছে...


পশ্চিমবঙ্গের কাছে পর্যাপ্ত পানি থাকবে তখন তিস্তা চুক্তি: মমতা

যে দোয়া পড়লে বিশ্ব নবীর সঙ্গে জান্নাতে যাওয়া যাবে!

খুলনায় সওজ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি, ক্ষোভ

৭ই মার্চের অনুষ্ঠান থেকে বেড়িয়ে গেলেন অথিতিরা


news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

দিল্লীতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবস পালিত

অনলাইন ডেস্ক

দিল্লীতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ দিবস পালিত

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ভাষণ দিবস পালন করেছে নয়াদিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাই কমিশন। এ উপলক্ষে রোববার (৭ মার্চ) সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মোহাম্মদ ইমরান জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। 

তারপর তিনি দূতাবাসের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং আগত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে দূতাবাসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানে হাই কমিশনার তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ১৮ মিনিটের বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক বিশ্লেষণ করেন এবং ইউনেস্কো কর্তৃক ২০১৭ সালে ভাষণটি বিশ্বের অন্যতম সেরা ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতির প্রশংসা করেন।


পশ্চিমবঙ্গের কাছে পর্যাপ্ত পানি থাকবে তখন তিস্তা চুক্তি: মমতা

যে দোয়া পড়লে বিশ্ব নবীর সঙ্গে জান্নাতে যাওয়া যাবে!

খুলনায় সওজ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি, ক্ষোভ

৭ই মার্চের অনুষ্ঠান থেকে বেড়িয়ে গেলেন অথিতিরা


তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এই ভাষণটি ছিল একটি পরাধীন জাতির মুক্তির দিক নির্দেশনামূলক, অনুপ্রেরণাদায়ক বক্তব্য। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের নির্দেশনা থেকেই মুক্তিপাগল বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েন এবং চূড়ান্তভাবে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। 

তিনি আরও বলেন, আমরা সৌভাগ্যবান যে, বঙ্গবন্ধুর রক্ত ও তার আদর্শের উত্তরাধিকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনেই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব পালন করতে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে দেওয়া রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণী পাঠ করা হয়।

৭ মার্চ উপলক্ষে দূতাবাসে সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা এ সময়ে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রর্দশন করেন। 

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

মুজিবের চেতনায় নারী অধিকার

শেখ হাসিনা

মুজিবের চেতনায় নারী অধিকার

যুগে যুগে কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-সমাজ সংস্কারকগণ এসেছেন, নারী অধিকারের কথা বলে গেছেন, নারী মুক্তির আন্দোলন করেছেন। সমাজের কুসংস্কার থেকে নারীদের রক্ষার প্রচেষ্টা নিয়েছেন। সমাজকে সচেতন করতে উদ্যোগী হয়েছেন।

এ ভূখন্ডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারীর ক্ষমতায়নে সবচেয়ে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। শুধু কথা ও লেখনী  দ্বারা নয়, বাস্তব জীবনে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ তিনি সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন। স্বাধীন দেশের সব নাগরিকের সমঅধিকারের কথাও তিনি বলেছেন। ‘এই ঘুণে ধরা সমাজ ভেঙে নতুন সমাজ আমরা গড়ব’,-এটা ছিল তাঁর আন্তরিক প্রত্যয়। তাই তিনি সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যার সুফল আজ বাংলাদেশের নারী সমাজ পাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে নারীগণ আজ নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছেন।

‘নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার/কেন নাহি দেবে অধিকার?/হে বিধাতা’... বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ আকুতি করে গেছেন। কারণ, তিনি নারী অধিকার সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।

কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার আধুনিক চিন্তা ও ভাবধারায় সমৃদ্ধ ছিল। সমাজকে এগিয়ে নিতে এই পরিবারের অনেক অবদান রয়েছে। শিক্ষাদীক্ষার প্রসার, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং কুসংস্কার দূর করার ক্ষেত্রেও সে সময় তাঁরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন : ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি, চির কল্যাণকর/অর্ধেক তার করিয়াছে নারী/অর্ধেক তার নর।’ সমাজে নারীর যে অবদান রয়েছে সে কথাই তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর কবিতায়। নারীকে তার অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছেন কবি নজরুল ইসলাম এই লেখার মধ্য দিয়ে। এ বার্তাই পৌঁছে দিয়েছেন যে, নারীকে অবহেলার চোখে দেখার সুযোগ নেই। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুরুষের যে কোনো অর্জনের পিছনে নারীর অবদান রয়েছে। তাঁদের ত্যাগ-প্রেরণা-উৎসাহ পুরুষকে শক্তি ও সাহস জোগায়। সেই অবদান ভুলে যাওয়া ঠিক নয়। কবি নজরুল আধুনিক চিন্তা-চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক ভাবধারায় বিশ্বাস করতেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মা ছেলেকে, বোন ভাইকে, স্ত্রী স্বামীকে যুদ্ধে পাঠিয়েছেন। প্রেরণা দিয়েছেন। ক্ষেত্রবিশেষে সঙ্গী হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে মা-বোনদের অবদান অপরিসীম।

যুদ্ধে বিজয়ের পর জাতির পিতা শেখ মুজিব প্রণীত বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে নারীর সমঅধিকার বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৭, ১৯, ২৮, ২৯ সহ বিভিন্ন ধারায় নারীর শিক্ষা, চাকরি, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ সৃষ্টির বাধ্যবাধকতা সন্নিবেশ করে নারীর সমঅধিকার নিশ্চিত করেছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজের লেখা অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা এবং আমার দেখা নয়াচীন- বইগুলোতে তিনি নারী অধিকারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের সমস্যা, দুঃখ-কষ্ট সমাধানের কথাও তিনি বলেছেন।


পশ্চিমবঙ্গের কাছে পর্যাপ্ত পানি থাকবে তখন তিস্তা চুক্তি: মমতা

যে দোয়া পড়লে বিশ্ব নবীর সঙ্গে জান্নাতে যাওয়া যাবে!

খুলনায় সওজ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি, ক্ষোভ

৭ই মার্চের অনুষ্ঠান থেকে বেড়িয়ে গেলেন অথিতিরা


১৯৫২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চীন গিয়েছিলেন শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে। যাওয়ার পথে বার্মা (মিয়ানমার) এবং হংকং হয়ে যেতে হয়েছিল। সেখানে যাত্রাবিরতির সময় তিনি শুধু নতুন জায়গা দেখেননি, সমাজের অবস্থা, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক-সামাজিক বিষয়গুলোও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক দৈন্যের বিষয়গুলো তিনি তাঁর লেখায় তুলে ধরেছেন। সামাজিক বিষয়ে নিজের চিন্তাভাবনার কথা উল্লেখ করে সুচিন্তিত মতামত রেখেছেন তাঁর বইগুলোতে।

সমাজে নারীর ওপর যে বৈষম্য এবং নির্যাতন চলে সে বিষয়ে নয়াচীন যাওয়ার পথে হংকংয়ে যাত্রাবিরতির সময় সেখানকার সমাজব্যবস্থা বিষয়ে যা দেখেছেন তার বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে : ‘এই মেয়েদের দোষ দিয়ে লাভ কী? এই সমাজব্যবস্থায় বাঁচবার জন্য এরা সংগ্রাম করছে, ইজ্জত দিয়ে পেটের ভাত জোগাড় করছে। হায়রে মানুষ! রাস্তায় রাস্তায় বহু মেয়েকে এইভাবে হংকং শহরে ঘুরতে দেখা যায়। ...দেশের মালিক ইংরেজ, জনগণ না।’ (আমার দেখা নয়াচীন, পৃ.-৯৯।)

তাঁর হৃদয় ব্যথিত হয়েছে নারীদের এই দুর্দশা দেখে। হংকং তখন ইংরেজদের কলোনি ছিল। জনগণের হাতে ক্ষমতা ছিল না। সেখানকার জনগণ অবর্ণনীয় শোষণ-বঞ্চনার শিকার ছিল। আর তাই সরকারের যে দায়িত্ব রয়েছে- মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করার- সে কথাই তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন। সমাজের দায়বদ্ধতার কথা বলেছেন।

চীনে শান্তি সম্মেলনের সময় তিনি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন। নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি লিখেছেন : ‘আজ নয়াচীনে সমস্ত চাকরিতে মেয়েরা ঢুকে পড়ছে। পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করছে। প্রমাণ করে দিয়েছে পুরুষ ও মেয়েদের খোদা সমান শক্তি দিয়েই সৃষ্টি করেছে। সুযোগ পেলে তারাও বৈজ্ঞানিক, ঐতিহাসিক, ডাক্তার, যোদ্ধা সকল কিছুই হতে পারে।’ (আমার দেখা নয়াচীন, পৃ. ৯৯।)

ধর্মের নামে মেয়েদের ঘরে বন্দী করে রাখতে চায় একদল। তাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব উল্লেখ করেছেন : “মুসলিম দেশ তুরস্ক নারীর স্বাধীনতা স্বীকার করেছে। নারীরা সে দেশে যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছে। তুরস্কে অনেক মেয়ে পাইলট আছেন, যাঁরা দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ পাইলটদের মধ্যে অন্যতম। ...আমাদের দেশের শিক্ষিত-অশিক্ষিত লোকের মনে এই ধারণা যে পুরুষের পায়ের নিচে মেয়েদের বেহেশত। পুরুষ যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। মেয়েদের নীরবে সব অন্যায় সহ্য করতে হবে বেহেশতের আশায়। তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, মেয়েদের নির্ভর করতে হয় পুরুষদের অর্থের ওপর।”

ইসলাম ধর্ম নারীদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। মেয়েরা যে শুধু ঘরে আটকে থাকবে, বাইরে যাবে না, পরনির্ভরশীল বা পুরুষদের উপার্জনের ওপরই কেবল নির্ভরশীল থাকবে তা কিন্তু নয়। বরং নবীজির যুগেও মেয়েদের যথেষ্ট স্বাধীনতা ছিল।

পুরুষদের পাশাপাশি থেকে দায়িত্ব পালন করতেন, এমনকি রণাঙ্গনেও তাঁদের ভূমিকা ছিল। এ কথাও তিনি লিখেছেন : “...কিন্তু ইসলামের ইতিহাস পড়লে জানা যায় যে, মুসলমান মেয়েরা পুরুষদের সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে যেত, অস্ত্র এগিয়ে দিত। আহতদের সেবা-শুশ্রƒষা করত। হজরত রসুলে করিম (সা.)-এর স্ত্রী হজরত আয়েশা নিজে বক্তৃতা করতেন। দুনিয়ায় ইসলামই নারীর অধিকার দিয়েছে।” (আমার দেখা নয়াচীন, পৃ. ১০০।)

নারী নেতৃত্ব যাতে গড়ে ওঠে সে জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশের সংবিধানে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা রাখেন। ১৯৭২ সালে মাত্র ৯ মাসের মধ্যে এই সংবিধান অর্থাৎ শাসনতন্ত্র তিনি রচনা করেন। নারীর অধিকার নিশ্চিত করার এক বিরল দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের এ দেশীয় দোসর আলবদর, রাজাকার, আলশামস বাহিনী গণহত্যা, নারী নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ এমন কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ নেই তারা করেনি। আমাদের দেশের মেয়েদের ধরে নিয়ে পাকিস্তানি সেনাক্যাম্পে তাদের লালসা মেটাতে তুলে দেয়। বিজয়ের পর সেসব নির্যাতিত মেয়েকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। সমাজে এই নারীরা যেন মাথা উঁচু করে চলতে পারে এ জন্য তাঁদের ‘বীরাঙ্গনা’ খেতাবে ভূষিত করেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের এই আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান দেখান। অনেকের বিয়ের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করেন। যখন বিয়ের ব্যবস্থা হয়, অনেক পিতা সন্তানের পরিচয় দিতে সমাজের ভয়ে পিছিয়ে যায়। তখন তিনি পিতার নামের স্থানে শেখ মুজিবুর রহমান আর বাড়ির ঠিকানা ধানমন্ডি ৩২ নং সড়কের তাঁর বাড়ির ঠিকানা লিখে দিতে বলেন। এই পরিচয়ে মেয়েদের বিয়ে হয়। এই ঘোষণার পর আর কোনো দ্বিধা কারও মনে ছিল না। বঙ্গমাতা নিজে বিয়ের সব ব্যবস্থা করেন।

সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নারীদের জন্য ১০% কোটা সংরক্ষণ করেন যেখানে নির্যাতিত নারীদের অগ্রাধিকার ছিল। এ সবই ছিল যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

পাকিস্তানি শাসনামলে জুডিশিয়াল সার্ভিসে নারীদের অংশগ্রহণ আইন করে বন্ধ ছিল। মেয়েরা কখনো জজ হতে পারতেন না। স্বাধীনতার পর সে আইন পরিবর্তন করে নারীদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। চাকরির ক্ষেত্রে সর্বত্র মেয়েদের অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেন। পুলিশ বাহিনীতে নারী অফিসার নিয়োগ দেন। এর কারণ হলো, তিনি বিশ্বাস করতেন অর্থনৈতিকভাবে একজন নারী যদি স্বাবলম্বী হয়, তাহলে সংসার ও সমাজে তাঁর অবস্থান শক্ত হবে। সংসারে তাঁর মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

তিনি বলেছেন, ‘একজন নারী যদি নিজে উপার্জন করে ১০টা টাকাও কামাই করে তাঁর আঁচলের খুঁটে বেঁধে আনে, তবে সংসারে তাঁর গুরুত্ব বাড়ে।’

এ কথাটা আমি আমার বাবার মুখে বারবার শুনেছি। এ কথার অর্থ হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া। আমাদের সমাজে একজন পুরুষ মানুষ অর্থ উপার্জন করে আর পুরো পরিবার তাঁর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। মুখাপেক্ষী হতে হয় গোটা পরিবারকে। আর এ কারণেই আর্থিক স্বাবলম্বিতা একান্তভাবে অপরিহার্য। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সে সুযোগ করে দিতে পারে। শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য মেয়েদের শিক্ষা তিনি অবৈতনিক করে দেন। পিতা-মাতার কাঁধের বোঝা হালকা করে দেন।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৭(ক)-এ উল্লেখ করা আছে : “রাষ্ট্র একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক-বালিকাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদানের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।”

এখানে ‘বালিকাদের’ কথাটা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যাতে মেয়েদের শিক্ষাটা নিশ্চিত হয়; গুরুত্ব পায়-সে চিন্তা থেকেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বেগম রোকেয়া নারীদের শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। পদ্মরাগ উপন্যাসে তিনি লিখেছেন : ‘তোমাদের কন্যাগুলিকে সুশিক্ষিতা করিয়া কার্যক্ষেত্রে ছাড়িয়া দাও, নিজেরাই নিজেদের অন্ন, বস্ত্র উপার্জন করুক।’

একটি সমাজকে গড়ে তুলতে হলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবারই প্রয়োজন। যে সমাজের অর্ধেকটা নারী, তাদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন করা যায় না। একটা দেশ, একটা সমাজ বা সংসারের সবাই যদি পণ করে, তাঁরা সত্যিকারের উন্নতি করতে চায়, তবে অবশ্যই সবাইকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। মেধা, মনন ও শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(৩)-এ উল্লেখ রয়েছে : ‘জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।’ সংবিধানে সব নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ‘সরকারি নিয়োগ লাভের সুযোগের সমতার’ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব লিখেছেন : ‘সত্য কথা বলতে গেলে একটা জাতির অর্ধেক জনসাধারণ যদি ঘরের কোণে বসে শুধু বংশবৃদ্ধির কাজ ছাড়া আর কোনো কাজ না করে, তা হলে সেই জাতি দুনিয়ায় কোনো দিন বড় হতে পারে না।’

৬৯ বছর আগে ১৯৫২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এ কথা উপলব্ধি করেছিলেন; অথচ তখনকার সমাজব্যবস্থা ছিল কুসংস্কারাচ্ছন্ন। এই কুসংস্কারের অচলায়তন ভেঙে সমাজের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনকেই গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য। তাই নারী-পুরুষকে একই সঙ্গে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৮(২)-এ বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।’

চীন ভ্রমণের সময় কর্মক্ষেত্রে মেয়েদের সমান অংশগ্রহণ তাঁকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করেছিল। তিনি লিখেছেন : “নয়াচীনের মেয়েরা আজকাল জমিতে, ফ্যাক্টরিতে, কলকারখানাতে, সৈন্যবাহিনীতে দলে দলে যোগদান করছে। ...যে সমস্ত ফ্যাক্টরি, কলকারখানা, সরকারি অফিসে আমি গিয়েছি, সেখানেই দেখতে পেয়েছি মেয়েরা কাজ করছে; তাঁদের সংখ্যা স্থানে স্থানে শতকরা ৪০ জনের ওপরে।

নয়াচীনের উন্নতির প্রধান কারণ পুরুষ ও মহিলা আজ সমানভাবে এগিয়ে এসেছে দেশের কাজে। সমানভাবে সাড়া দিয়েছে জাতিগঠনমূলক কাজে। তাই জাতি আজ এগিয়ে চলেছে উন্নতির দিকে।” (আমার দেখা নয়াচীন, পৃ. ৯৯।)

কর্মক্ষেত্রে স্বাধীন বাংলাদেশে যাতে নারী ও পুরুষের সমান সুযোগ সৃষ্টি হয় যে বিষয়ে লক্ষ্য রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যে সংবিধান ১৯৭২ সালে জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন, সেখানে সমঅধিকারের কথা উল্লেখ রয়েছে।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯(১)-এ বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকিবে।’

সমাজের শুধু নারী বা পুরুষ নয় সমাজের সব নাগরিক যেমন ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী বা অনগ্রসর শ্রেণি-সবার জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করার বিধান এই সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে। যাতে কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ বঞ্চিত না হয়। অনগ্রসর যারা তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯(৩)(ক)-তে উল্লেখ আছে : ‘নাগরিকদের যে কোনো অনগ্রসর অংশ যাহাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ করিতে পারেন সেই উদ্দেশে তাহাদের অনুকূলে বিশেষ বিধান প্রণয়ন করা হইতে রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করিবে না।’

৪৯ বছর আগে সংবিধানে যে ক্ষমতা নারীদের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়েছেন তা সে সময়ের সমাজব্যবস্থায় একটা সাহসী এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। সমাজে নারীদের সম্মানজনক অবস্থানের ভিত্তি তিনি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশিত পথেই নারী ক্ষমতায়নের পদক্ষেপ আওয়ামী লীগ সরকার গ্রহণ করে। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে নারী উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করে। সন্তানের পরিচয়ে পিতার সঙ্গে মায়ের নাম যুক্ত করা হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটি তিন মাস থেকে বৃদ্ধি করে প্রথমে চার মাস এবং পরে ছয় মাস করা হয়।

উচ্চ আদালতে কোনো নারী বিচারক নিয়োগ পেতেন না। প্রথম নারী সচিব হিসেবে পদোন্নতি আমরাই দিই। জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার (ওসি)সহ প্রশাসনের সর্বস্তরে মহিলাদের নিয়োগ দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীতে নারী অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বিমানের পাইলট, মেরিন একাডেমিতে ভর্তির ব্যবস্থাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে মেয়েদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ২ কোটি ৫৩ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি বা উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড তৈরি করে উচ্চশিক্ষার জন্য বিশেষ বৃত্তি দেওয়ার যে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি সেখানে ৭০% নারী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার বৃত্তি পাচ্ছে। মেয়েদের জন্য উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে বিধবা, স্বামী-পরিত্যক্তা, বয়স্ক নারীদের ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। মাতৃত্বকালীন ভাতার প্রচলন করা হয়েছে। মাতৃদুগ্ধদানকারী মায়েরা ভাতা পাচ্ছেন। সংসারে মেয়েদের যাতে কেউ বোঝা না মনে করে, সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। চিকিৎসাসেবা, বিনামূল্যে ওষুধ, বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

নারী সুরক্ষার জন্য অনেক আইন পাস করা হয়েছে। নারী ও শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে। নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি করার জন্য স্বল্পসুদে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সারা বাংলাদেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানেও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্লট বরাদ্দের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গ্রামের মেয়েরা নিজেদের উৎপাদিত পণ্য যাতে বাজারজাত করতে পারেন তার জন্য ‘জয়িতা ফাউন্ডেশন’ গঠন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬০% নারী শিক্ষক নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে মেয়েদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। অভিভাবকগণ মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে উৎসাহিত হচ্ছেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ফলে ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টারে নারী উদ্যোক্তারা স্বকর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিক, তথ্য আপা, আমার বাড়ি আমার খামারসহ বিভিন্ন কর্মমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কৃষি, শিল্প, সেবাসহ সব ক্ষেত্রে মেয়েদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নারীদের অসামান্য অবদান বিস্মৃত হওয়ার নয়। দেশের মোট জনসংখ্যার যেখানে অর্ধেকই নারী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চাইতেন তাঁরা সমাজ ও দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবেন। যাতে দেশের উন্নয়ন দ্রুততর হয়; দারিদ্র্যবিমোচন করে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করা যায়। আওয়ামী লীগ সরকার তাঁর প্রদর্শিত পথেই  দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত একটা দেশকে শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তিনি স্বল্পোন্নত দেশে উন্নীত করেছিলেন। আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। শিগগিরই বাংলাদেশ উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন পূরণ হবে।

লেখক : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

news24bd.tv / কামরুল 

মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এ যাবৎ টিকা নিয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার ৮৪৮ জন

অনলাইন ডেস্ক

এ যাবৎ টিকা নিয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার ৮৪৮ জন

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ২০০ জন। তাদের মধ্যে মাত্র ২৩ জনের সামান্য জ্বর, টিকা দেওয়া স্থানে লাল হাওয়া দেখা গেছে। রোববার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

আরও জানানো হয়, আর এখন পর্যন্ত টিকা নিয়েছেন ৩৭ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫২ জন। তাদের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে ৮৪৮ জনের। পাশাপাশি টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৫০ লাখ ১৭ হাজার ৮০৪ জন।



রাঙামাটিতে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক

৭৫০ মে.টন কয়লা নিয়ে জাহাজ ডুবি, শুরু হয়নি উদ্ধার কাজ

মোবাইলে পরিচয়, দেখা করতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার কিশোরী

নোয়াখালীতে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা: স্বামী আটক


এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় টিকা নিয়েছেন এক লাখ ১৭ হাজার ৮০৪ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৬৫ হাজার ৪৩০ জন ও নারী ৪১ হাজার ৭৭০ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা বিভাগে ৩৯ হাজার ২৪৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ হাজার ৩২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮ হাজার ২৫০ জন, রাজশাহী বিভাগে ১১ হাজার ৪৫ জন, রংপুর বিভাগে ৯ হাজার ৫৯০ জন, খুলনা বিভাগে ১৬ হাজার ৮৬৯ জন, বরিশাল বিভাগে ৩ হাজার ৮০৬ জন ও সিলেট বিভাগে ৪ হাজার ৩৬৪ জন রয়েছেন।

news24bd.tv তৌহিদ

মন্তব্য

পরবর্তী খবর