রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০ | আপডেট ০৮ মিনিট আগে

‘লুটেরা রুখো, স্বদেশ বাঁচাও’

শওগাত আলী সাগর

‘লুটেরা রুখো, স্বদেশ বাঁচাও’

টরন্টোর ‘লুটেরা রুখো, স্বদেশ বাঁচাও’ আন্দোলনের বন্ধুরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন- এবারের একুশের প্রথম প্রহরে তাঁরা শহীদ মিনারের পাদদেশে প্রতিবাদী কর্মসূচি পালন করবেন। বাঙালি অধ্যূষিত ডেনফোর্থে ‘ঘরোয়া’ সংলগ্ন পার্কিং লটে বরাবরের মতো এবারও অস্থায়ী শহীদ মিনার হবে, সেই শহীদ মিনারে দলমত নির্বিশেষে টরন্টোর বাংলাদেশিরা সমবেত হবেন একুশের প্রথম প্রহরে, ফুলেল শ্রদ্ধা জানাবেন- বায়ান্নের শহীদদের। সেখানে লুটেরা বিরোধী কর্মসূচি নিয়ে সমবেত হবেন টরন্টোর প্রতিবাদী মানুষগুলোও।

একুশের প্রথম প্রহরে- শহীদ মিনারে প্রতিবাদী কর্মসূচি কেন? কারণ- একুশের চেতনাই তো হচ্ছে অন্যায়রে বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা, কোনো ভয়ভীতির কাছে মাথা নত না করা। এক শ্রেণির লুটেরা জন্মভূমির সাথে যে অন্যায় আচরণ করেছে, তার প্রতিবাদ জানানোর জন্য, আন্দোলন সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শপথ গ্রহণের জন্য একুশের প্রথম প্রহরের চেয়ে উত্তম মুহূর্ত আর কী হতে পারে।

একুশের চেতনার পথ ধরেই একদিন স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়েছে। একুশ আর স্বাধীনতার সংগ্রামের মূল মন্ত্রটাই হচ্ছে- অন্যায়রে বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো। লুটেরাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনটা তো তারই সমার্থক।

জন্মভূমি বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে লুটপাট করা অর্থ নিয়ে কানাডায় বসতি গড়া লুটেরাদের বিরুদ্ধে গত মাসে শুরু হ্ওয়া আন্দোলনটা অল্প সময়েই ভিন্নতর মাত্রা পেয়েছে। কেবল কানাডাই নয়, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা এই আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। প্রত্যেকেই এই আন্দোলনটাকে তাদের নিজেদের আন্দোলন হিসেবেই গ্রহণ করেছেন। কানাডার মূলধারার রাজনীতিকরা, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ইতিমধ্যে এই ব্যাপারে খোঁজ-খবর করতে শুরু করেছেন।
এগুলো অবশ্যই আন্দোলনের সাফল্য।

আরেকটা কথা বলি। লুটেরাদের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে কারা নেই, কারা লুটেরাদের পক্ষে কিংবা তাদের সাথে হাত মিলিয়েছে- এইসব নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। নৈতিকতার ডাকে সাড়া দিয়ে শুরু হ্ওয়া লুটেরা বিরোধী এই আন্দোলনের সাথে বিবেকসম্পন্ন প্রতিটি মানুষই আছেন, তারাই এই আন্দোলনের শক্তি। লুটেরা বিরোধী আন্দোলন কেবল সামনেই এগুবে, পেছনে যাওয়ার কোনো রাস্তা একেবারেই নেই।

লুটেরা, অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে টরন্টোর বন্ধুদের প্রতিবাদী কর্মসূচির প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রইল। আমি বিশ্বাস কর, টরন্টোর বন্ধুরা সেদিন লুটেরাদের বিরুদ্ধে ঘৃনাসম্বলিত প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড নিয়েই শহদি মিনারে আসবেন। একুশের চেতনায় লুটেরা বিরোধী আন্দোলনকে সামনে এগিয়ে নেয়ার নতুন শপথ নেবেন।

ন্যায়ের জন্য যে লড়াই, সেই লড়াই কেবল সামনেই এগুতে জানে।

লেখক: প্রকাশক ও সম্পাদক, নতুন দেশ ডটকম

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য