মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০ | আপডেট ৫৪ মিনিট আগে

'শহীদরা সম্মান পেলেও সক্রিয় সৈনিকদের মূল্যায়ন করা হয়নি'

অনলাইন ডেস্ক

'শহীদরা সম্মান পেলেও সক্রিয় সৈনিকদের মূল্যায়ন করা হয়নি'

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে। নর্থবেঙ্গল ফাউন্ডেশনের এই আয়োজনের উদ্বোধক ছিলেন কবি সালেম সুলেরী। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংগঠন সভাপতি রাফেল তালুকদার। প্রধান আলোচক ছিলেন সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান।

অনুষ্ঠানে কবি সালেম সুলেরী বলেন, ভাষা-স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদেরা সম্মান পেয়েছেন। কিন্তু নানাভাবে সক্রিয় সৈনিকদের তেমন মূল্যায়ন করা হয়নি। রাজনীতিকরা ক্ষমতা পেলেও ভাষা সৈনিক মতিন, ফয়েজ আহমদরা উপেক্ষিত হয়েছেন। 

উদ্বোধনী বক্তব্যে কবি সালেম সুলেরী ইতিহাসের ব্যাখা দেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন সংগঠিতকরণে উত্তরবঙ্গবাসীর ভূমিকা কালজয়ী। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠাতা মুহম্মদ আলী জিন্নাহ কার দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হলেন। রাষ্ট্রভাষা উর্দুর প্রস্তাবে ভাষা মতিনই প্রথম বলেছিলেন 'নো নো।' সিরাজগন্জের সেই কমরেড মতিনই প্রথম মশাল জ্বালান। স্বাধীনতার জন্যে যেমন বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ভাষণ, আর ভাষা আন্দোলনের জন্যে তেমনি ৪৮'র 'নো নো'। সেই মতিন ভাইয়ের শেষ জীবনের সাহচর্য পেয়েছি। দেখেছি স্বার্থহীন মানুষটি কতো কষ্ট করে সংসার চালিয়েছেন।

তিন বাংলা'র গ্লোবাল সভাপতি সালেম সুলেরী আরও বলেন, কিছুই ভুলিনি। ভাষা-স্বাধীনতা ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের প্রিয়মুখ ফয়েজ আহমদ। একাত্তরে স্বাধীনবাংলা বেতারের সাংবাদিক ছিলেন। এরশাদ সরকারবিরোধী গণ আন্দোলনে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। ।শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদার ঐক্য গড়ে দিয়েছেন। ফলে এরশাদের পতন ও খালেদা-হাসিনার পদায়ন হয়েছে। এই ঐক্য গড়তে সরকার ও পুলিশের রোষানলে পড়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাষ্ট্রক্ষমতার আলো তিনি পাননি। হিসাব করা অংকে চালিয়ে নিয়েছেন শেষজীবনকে। ২০১২'র ২০ ফেব্রুয়ারি ঘটান দেহাবসান। আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ওনার সুমহান ভূমিকাকে শ্রদ্ধা জানাই।

অনুষ্ঠান সভাপতি রাফেল তালুকদার বলেন, এখন সবদিকেই হতাশা। সাংবাদিক-লেখকদের মধ্যেও ফয়েজ আহমদদের আদর্শ আর নেই। ইতিহাস বিকৃতির মহোৎসব চলছে যা ভাষা ও স্বাধীনতাবিরোধী। প্রধান আলোচক মুহম্মদ ফজলুর রহমান বলেন, প্রবাসীদেরও দায়িত্ব অনেক। বাংলাদেশের একুশে বা স্বাধীনতা পদক প্রবাসমুখী হয়েছে। এই ধারা বহাল রাখতে হলে মানসম্মত ভূমিকার দিকে এগুতে হবে।

তিন পর্বে বিভক্ত ছিলো নৈশকালীন এ আয়োজনটি। আলোচনা, প্রার্থনা ও শহিদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ। সামগ্রিক সমন্বয় করেন প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মোহাম্মদ কাশেম। স্বাগত বক্তব্য দেন অনুষ্ঠান কমিটির আহ্বায়ক নূর ইসলাম বর্ষন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠন সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আসেফ বারী টুটুল। অনুষ্ঠানে তিনজন বীর মুক্তিযোদ্ধাও সম্মানিত অতিথি ছিলেন। তারা হলেন- শওকত হোসেন রিচি, ফারুক হোসেন, এম. মন্ডল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যাপিকা হোসনে আরা। এছাড়াও ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি আতোয়ারুল আলম, জাপা অ্যামেরিকা সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বরিশাল বিভাগীয় সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ লাতু। এসময় শুভেচ্ছা জানান কুইন্স বাংলাদেশ'র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, সংগঠক রফিকুল ইসলাম ডালিম প্রমুখ। কবিতা আবৃত্তি করেন ফারহানা আফরোজ লিজা।

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল 

মন্তব্য