রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২০ | আপডেট ০১ ঘণ্টা ০৯ মিনিট আগে

দৌলতদিয়ায় ২য় যৌনকর্মীর জানাজা, খুশি যৌনকর্মীরা

শফিকুল ইসলাম শামীম, রাজবাড়ী

দৌলতদিয়ায় ২য় যৌনকর্মীর জানাজা, খুশি যৌনকর্মীরা

দেশের বৃহত্তর যৌনপল্লী রাজবাড়ী জেলা দৌলতদিয়া। শত বছরের পুরাতন এই পল্লীতে জানাজা ছাড়া যৌনকর্মীদের চাঁপা মাটি অথবা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। কিন্ত স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের আন্তরিকতায় যৌনকর্মীদের জানাজা দিয়ে দাফন শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর কবরস্থানের মাঠে রিনা বেগমের (৬৫) জানাজার নামাজ হয়। এ সময় তাকে যথাযথ ধর্মীয় রীতিতে দাফন করা হয়। এই জানাজা পূর্বে ২ ফেব্রুয়ারি হামিদা বেগম (৬৭) নামের এক যৌনকর্মীর জানাজা দিয়ে দাফন করা হয়। 

এই জানাজা নামাজ পড়িয়েছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানা জামে মসজিদের ইমাম মো. আবু বক্কার সিদ্দিকি। জানাজায় অংশ নেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসক ও অপরাধ) মো. সালাউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ হেডকোয়াটার্স) মো. ফজলুল করিম, গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানসহ প্রায় ৫শতাধিক সাধারণ মানুষ।  

রাজবাড়ী পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর যৌনকর্মীরাও মানুষ। তারা মারা গেলে জানাজা পাওয়ার অধিকার আছে। সেই হিসেবে যৌনকর্মী রিনা বেগমের জানাজার নামাজ পড়ানো হয়েছে। আগামীতে ধর্মীয় রীতি মেনে এই জানাজা ও দাফনের কাজ অব্যাহত থাকবে।

দৌলতদিয়া যৌনকর্মীদের নিজস্ব সংগঠন ‘অসহায় নারী ঐক্য সংগঠন’ এর সভানেত্রী ঝুমুর বেগম বলেন, আমরাও মানুষ। আমরা এই সমাজে বসবাস করি। আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার আছে। তিনি বলেন, ডিআইজি হাবিবুর রহমান স্যার, এসপি স্যার ও গোয়ালন্দ ঘাট থানা ওসি’র কারণে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। তাদের কাছে আমাদের দাবি এই ধারা যেন অব্যাহিত থাকে।  

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল 

মন্তব্য