শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০ | আপডেট ০৯ মিনিট আগে

‘অপারেশন বান্দর’ পাকিস্তানকে কতটুকু বদলাতে পারল?

অনলাইন ডেস্ক

‘অপারেশন বান্দর’ পাকিস্তানকে কতটুকু বদলাতে পারল?

বালাকোটে ‘অপারেশন বান্দর’ (বান্দর মানে বানর) অভিযানের এক বছর হয়ে গেল। ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বালাকোটে জঙ্গিগোষ্ঠী ‘জইশ-ই-মুহাম্মদ’র প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে ভারতীয় বিমানবাহিনী ওই অভিযান চালায়। এতে ছয়টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পাঁচটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।

এর আগে, ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জইশের আত্মঘাতী বোমা হামলায় ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর ৪০ সদস্য নিহত হন।

পুলওয়ামার ঘটনার বিপরীতে ভারত যেমন দ্রুতগতিতে নির্ভুল পদক্ষেপ নিল তাতে পাকিস্তান খেই হারিয়ে ফেলে। মুখরক্ষার জন্য নানারকম বুলি আওড়ায়। ‘ভারতীয় প্রপাগান্ডায়’ কর্ণপাত না করারও পরামর্শ দেয় তারা।

কিন্তু আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলো জানায়, ‘অভিযানে ভারত ব্যবহার করে ১২টি মিরেজ-২০০০ ফাইটার বিমান। লেজার-গাইডেড ১ হাজার কেজি। ৩০০ জিহাদিকে হত্যা করে বিমানগুলো নিরাপদে ফিরেছে ঘাঁটিতে।’

‘জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে থাকায় পাকিস্তান দিন দিন অনেক মুসলিম দেশ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।’

পশ্চিমা দেশগুলোর পত্র-পত্রিকায় এমন খবর কিছুদিন পরপরই ছাপা হয়। ওসব সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, অপারেশন বান্দর পাকিস্তানকে আত্মশুদ্ধির পথে নিতে পারেনি। কুখ্যাত জঙ্গি নেতারা এখনো পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের নানা স্থানে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভারতের বিরুদ্ধে সভা-সমাবেশে বিষোদগার করছে আর চাঁদাবাজি করছে।

জইশ-ই-মুহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজহার ও লস্কর-ই-তৈয়বার প্রধান হাফিজ সাইদের সন্ত্রাসীরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে পাকিস্তানে। সংগঠন চালানোর জন্য তারা তহবিল পায় কীভাবে? আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এমন প্রশ্ন তুলছে।

প্যারিসভিত্তিক ফিন্যানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) বারবার পাকিস্তানকে বলেছে, সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো অর্থ পাচার অপরাধে সংযুক্ত। ওদেরকে তোমাদের মাটি ব্যবহার করতে দিও না। এতে কাজ হয়নি।

উল্টো দেখা যায়, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর ছত্রছায়ায় কুখ্যাত অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী দাউদ ইব্রাহিম করাচি নগরীতে তার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি খবর:
পিএটিএফ পাকিস্তানকে কালো তালিকাভুক্ত করার কথা ভাবছে। যেমন কালো তালিকায় রয়েছে ইরান ও উত্তর কোরিয়া, ঠিক তেমনই। তা-ই যদি হয়, পাকিস্তানের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। উদ্ধার পাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তখন পাকিস্তানকে অপমানকর সব শর্ত পূরণ করতে বলবে। কালো তালিকাভুক্তি এড়ানোর জন্য ২৭টি পদক্ষেপ নিতে বলেছিল পিএটিএফ। এর মধ্যে দেশটি মাত্র পাঁচটি পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলত, ২০১৮ সালে পাকিস্তানকে ‘ধূসর তালিকা’য় রাখা হয়। এখনো ওই জায়গাতেই রয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, নামতে নামতে পাকিস্তান কালো তালিকায় ঢুকে যেতে পারে।

পেশাগত দক্ষতার জন্য পুরস্কারে সম্মানিত পাকিস্তানি সাংবাদিক তাহা সিদ্দিকি বলেন, পাকিস্তান ‘ভালো জঙ্গি, মন্দ জঙ্গি’ নীতি অনুসরণ করে। প্রতিবেশী দেশে যারা সক্রিয় তারা ‘ভালো জঙ্গি’। ভেতরে যারা হুমকি-ধমকি দিয়ে শাসক শ্রেণির উপকার করে তারাও ‘ভালো জঙ্গি’। ২০০০ সালে জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে হত্যার চেষ্টা করায় তখন জইশ জঙ্গিদের সরকার ‘মন্দ জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে দমন অভিযানে নেমেছিল।

পাকিস্তানি আইন প্রণেতা মহসিন দাওয়ার বলেন, গত এক বছরে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এভাবে চলতে থাকলে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা কমবে না।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বালাকোট অভিযানের পর কট্টরবাদী ২৭ জন জঙ্গি ফের সক্রিয় হয়েছে। এর মধ্যে আটজন বাস করে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে। ফের যদি ভারতে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়, তাতে নয়াদিল্লি কঠোর হবে। সবারই জানা উচিত ভারতের আর্থিক শক্তি পাকিস্তানের চাইতে পায় ১০ গুণ বেশি।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য