বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০ | আপডেট ০৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট আগে

পরীক্ষার্থীদের অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হলেন শিক্ষক

নাসিম উদ্দীন নাসিম, নাটোর প্রতিনিধি

পরীক্ষার্থীদের অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হলেন শিক্ষক

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চলতি এসএসসি সমাপনীতে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ গণমাধ্যমকর্মীদের হস্তক্ষেপে ফেরত দিলেন শিক্ষক। সোমবার (২ মার্চ) উপজেলার পেড়াবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে কৃষি এবং আইসিটি বিষয়ে ব্যবহারিক পরিক্ষায় অংশ নিতে এ অর্থ গ্রহণ করেন কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষকরা।

তবে কেন্দ্র সচিব শামসুল আরেফিন গত সোমবার অর্থ নেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও আজকে (৩ মার্চ) অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

পরিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, চলতি এসএসসি সমাপনি পরিক্ষায় অংশ নিতে মাদ্রাসা পরিক্ষাক্ষার্থীদের জন্য পৌর এলাকারপেড়াবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। গত সোমবার (২ মার্চ) কৃষি এবং আইসিটি বিষয়ে ব্যবহারিক পরিক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪শ টাকা করে গ্রহণ করে কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষকরা। এমন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীরা পেড়াবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার ও কেন্দ্র সচিব শামসুল আরেফিনের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অর্থ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। সরেজমিনে দিনভর পরিক্ষাার্থীদে সাথে কথা বলে মাদ্রাসা কেন্দ্রে অর্থ নেওয়ার সত্যতা পাওয়া যায়।

কিন্তু ওই দিন সন্ধ্যায় জানা যায়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে নেওয়া অর্থ ফেরত দেরত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীর একজন অভিভাবক জানান, ইসলামপুর মাদ্রাসার ১১জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেওয়া টাকা তার হাতে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে পুনরায় কেন্দ্র সচিব শামসুল আরেফিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবহারিক পরিক্ষার জন্য টাকা তিনি নেননি এবং কে বা কাহারা নিয়েছে সেটাও তাঁর জানার বাহিরে ছিল। তবে বিষয়টি তিনি জানার পরে যারা টাকা নিয়েছেন তাদেরকে সমাধান করেছেন এমনকি সব টাকা ফেরত দিতে বলেছেন। শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তার প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক টাকা নিয়েছেন কিনা এবং কত টাকা নেওয়া হয়েছে পরিক্ষাথীদের কাছ থেকে তা জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, এটা সাংবাদিকতা পেশার মধ্যে পড়ে কিনা? এছাড়া তার কাছে জানতে চাওয়াটা বাড়াবাড়ি হচ্ছে বলে হুমকি দেন প্রতিবেদককে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দেবী পাল মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং পরিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী টাকা ফেরত না পেলে তাকে জানাতে বলেন।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য