শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০ | আপডেট ০২ মিনিট আগে

হিকির সেই লড়াইটা মিডিয়াকে এখনো করতে হচ্ছে

নঈম নিজাম

হিকির সেই লড়াইটা মিডিয়াকে এখনো করতে হচ্ছে

দিনটি বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর। কিন্তু শুরুটা করতে চাই এখানকার প্রথম সংবাদপত্রের গল্পটা দিয়ে। আমাদের এখানে কীভাবে শুরু হয়েছিল সংবাদপত্রের? গল্পটা জেমস অগাস্টাস হিকিকে নিয়ে। তিনিই প্রথম এ অঞ্চলে পত্রিকা শুরু করেন। পত্রিকাটির নাম ছিল ‘বেঙ্গল গেজেট’। প্রথম প্রকাশ ১৭৮০ সালের জানুয়ারিতে। ভাষা ছিল ইংরেজি। চার পৃষ্ঠার পত্রিকাটির দামও কম না, এক টাকা। অনেকেই পত্রিকার নাম বলতেন হিকিজ বেঙ্গল গেজেট। ঠিকানা ছিল কলকাতার ৬৭ রাধাবাজার। এ পত্রিকায় খবর থাকত সরকারি অফিসের অনিয়মের। হিকি ছিলেন সাহসী মানুষ। সবকিছু লিখে দিতেন। কোনো তোয়াক্কা করতেন না। শাসকদের অনিয়ম, দুর্নীতির পাশাপাশি সাহেবদের ব্যক্তিগত কিস্সা-কেলেঙ্কারিও বাদ যেত না। ইংরেজ শাসকরা বিষয়গুলো ভালোভাবে নেননি। তারা পাল্টা অবস্থান নিতে থাকেন। ব্রিটিশ সাদা চামড়া হয়েও নিস্তার ছিল না। কিন্তু তাঁর কলম থামেনি। শাসকদের বিরুদ্ধে খোলা তরবারির মতো চলত হিকির কলম। একপর্যায়ে হিকির বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করেন গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস। বিচারক ছিলেন গভর্নরের কাছের মানুষ হিমপি। জামিন ধার্য করা হয় ৪০ হাজার পাউন্ড। বিচারক জানতেন এ অর্থ দেওয়ার ক্ষমতা নেই হিকির। কারাগারে তাঁকে যেতেই হবে। তাই হলো, জেলেই যেতে হলো হিকিকে। জেলে গিয়েও থামলেন না। পত্রিকা প্রকাশের অনুমতি চাইলেন। অনুমতি পেলেন। কিন্তু মামলা থামল না। একের পর এক মামলা করতে থাকেন হেস্টিংস। প্রতিটিতেই হিকিকে দোষী সাব্যস্ত করলেন বিচারক। ক্ষতিপূরণ দিতে ছাপাখানা নিলামে উঠল। সময়টা ১৭৮৩ সালের ১০ এপ্রিল। বন্ধ হয়ে গেল হিকিজ বেঙ্গল গেজেট। দুই বছর পত্রিকা বের করে সাড়ে তিন বছর জেল খাটলেন!

হিকি সত্যকে ধারণ করতে পেরেছিলেন। ভারতবর্ষ থেকে আফ্রিকায় দাস পাঠানোর প্রতিবাদ তিনিই প্রথম করেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘যদি সংবিধান খারিজ হয়, মানুষ দাসত্বে পতিত হয়, একজন সাহসী মানুষ আর একটা স্বাধীন সংবাদপত্র তাদের উদ্ধার করতে পারে। কিন্তু সংবাদের স্বাধীনতা না থাকলে মস্ত বীরপুরুষও স্বাধিকার, স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারবে না।’ একবার ভাবুন, ২৪০ বছর আগে ছাপা হয়েছিল কথাগুলো। এত বছর পরও জীবন্ত। হিকি আপসহীন ছিলেন। সমগোত্রদের সঙ্গে মিলেমিশে পয়সা বানাতে পারতেন। করেননি। বিবেকের তাড়নায় সত্য উচ্চারণ করতেন। মহীশূর যুদ্ধের সময় হিকি লিখলেন, ‘কচুকাটা হয়ে পুকুরে গোলাবারুদ ফেলে পালিয়েছে কোম্পানির সেপাইরা।’ সাহস কাকে বলে! তারপর ছিল গভর্নরের অপকর্ম, অত্যাচার, নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিয়মিত লেখনী। পত্রিকাটি জমে যায়। গভর্নর খেপলেন। সিদ্ধান্ত নেন সবকিছু স্তব্ধ করার। হিকিকে আটকের নির্দেশ জারি হয়। আটকের অংশও ছিল ভীষণ নাটকীয়। কলকাতা শহরে তাঁর বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। বাড়ির ভিতর থেকে হিকি দেখলেন পুলিশের ভিড়। তিনি বের হলেন তলোয়ার নিয়ে। বললেন, ‘কেউ সামনে এলে শেষ করে দেব।’ তারপর পুলিশের কাছে জানতে চান- কে পাঠিয়েছে? জবাব আসে, প্রধান বিচারপতি। তিনি বললেন, ‘তোমরা ফিরে গিয়ে আমার সালাম জানাও। বল, আমি তৈরি হয়ে আসছি।’ ৪৫ মিনিট পর তিনি গেলেন আদালতে। হিকি ছিলেন লড়াকু। ততক্ষণে সব বিচারক হিকির অপেক্ষায়। শুধু বিচারের মুখোমুখি নয়, তাঁকে খুন করতেও রাতের অন্ধকারে লোক পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি দমেননি। হিকির কাগজ থেকে মার্কিন সংবাদগুলো কোট করে তখন লিখত, ভারতবর্ষে স্বাধীনতার আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। এত বছর পর বলছি, হিকির বেঙ্গল গেজেট আসলে নির্ধারণ করে দিয়ে গিয়েছিল শাসক ও মিডিয়ার সম্পর্ক। আমরা এর থেকে এখনো বের হতে পারিনি।

প্রিয় পাঠক! নতুন মাত্রায় নতুন যাত্রায় আরেকটি বছর শুরু হলো বাংলাদেশ প্রতিদিনের। দেখতে দেখতে চলে গেল এক দশক। একটি পত্রিকার জন্য ১০ বছর খুব বেশি নয়। আবার একেবারে কমও নয়। অনেক সময়। কিন্তু মনে হয়, এই তো সেদিন যাত্রা করেছিলাম। মগবাজার অফিসের ছোট্ট পরিসর এক দশকে ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বে। ঢাকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে বগুড়া থেকে। আবার ইউরোপ, আমেরিকা সংস্করণ বের হচ্ছে লন্ডন ও নিউইয়র্ক থেকে। সবখানেই আকাশছোঁয়া সাফল্য। এ যুগে একটি পত্রিকার টানা সাফল্য অনেক বড় বিষয়। বাংলাদেশ প্রতিদিন চেষ্টা করছে অবস্থানটুকু ধরে রাখার। জানি, আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। বর্তমান বিশ্ববাস্তবতা অনেক কঠিন। এ যুগে চাটুকারিতা আর তোষামোদের মিডিয়া চলবে না। সত্যকে সত্য বলতে হবে। অন্যায় তুলে ধরতে হবে। মিডিয়া কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের কথা ভাবতে হবে। মিডিয়া কর্মীদের শুধু হতাশা ব্যক্ত করলেই হবে না। সমস্যাটা চিহ্নিত করতে হবে। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতেই মিডিয়ার প্রয়োজন। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই। সমাজের অন্যায়, অসংগতি মিডিয়া ছাড়া কে তুলে ধরবে? ধরুন অনিয়মের কারণে একটি প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে, নির্ধারিত সময়ে কাজ হলো না। বছরের পর বছর প্রকল্পটি পড়ে আছে। ইচ্ছা করেই কেউ কাজটি শেষ করছে না। আমলারা এ ধরনের খবর কি নীতিনির্ধারকদের কানে তুলবেন? তুলবেন না। এ কাজটি মিডিয়াকেই করতে হয়।

স্বাধীন মিডিয়া ছাড়া গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। একটি দেশ উন্নয়ন-সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারে না। মানবাধিকার সংরক্ষিত হতে পারে না। অথচ সারা দুনিয়ার মিডিয়াকে আজ কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে। আমরা এর বাইরে নই। এর মাঝে অনেকে বলছেন, মিডিয়া তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে না। আরে ভাই! সবকিছু সবাই শেষ করে দিলে কীভাবে একলা ভালো থাকবে মিডিয়া? কী করে এত আশা করেন! মিডিয়া এ সমাজের বাইরের কিছু না। সামাজিক, নৈতিক মূল্যবোধ আজ শেষ হয়ে গেছে। নানামুখী মানসিক চাপ নিয়েই মিডিয়া কর্মীদের কাজ করতে হয়। চলতে হয়। কাউকে খুশি করা যায় না। আজ এক কঠিন সংকট মোকাবিলা করছেন মিডিয়া কর্মীরা। সমালোচনা কেউ সহ্য করতে পারে না। এর মাঝে সংকুচিত হচ্ছে বিজ্ঞাপনের বাজার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন, ইন্টারনেট, ইউটিউব, ইলেকট্রনিক মিডিয়া চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রিন্ট মিডিয়ার জন্য। কমছে প্রিন্ট মিডিয়ার প্রচারসংখ্যা। বাংলাদেশে আছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো অনেক আইন। কথায় কথায় প্রভাবশালীদের হুমকি। যখন তখন মামলা, হামলা। সারা দুনিয়ায় একই চিত্র। আমেরিকার মতো উন্নত গণতন্ত্রের দেশও বাইরে নয়। নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট চলছে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে। অনেকে হয়তো বলবেন, হুমকি, সংকট অতীতেও ছিল। আমিও তা মনে করি। কাঙ্গাল হরিনাথের ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’র খবরও সেই যুগে জমিদারদের ভালো লাগেনি। গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকার সম্পাদক সাংবাদিকতার প্রবাদপুরুষ ছিলেন কাঙ্গাল হরিনাথ। কুষ্টিয়ার একটি গ্রাম থেকেই পত্রিকা প্রকাশ করে তিনি চাঞ্চল্য তৈরি করেন। জমিদারের অত্যাচার আর ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী ছিল তীক্ষè। তিনি কোনো কিছুর তোয়াক্কা করতেন না। একবার জমিদারের লাঠিয়াল বাহিনী হামলা করলে লালন শাহের নেতৃত্বে গ্রামবাসী তাঁকে রক্ষা করেন। আবার তিনিও একাধিকবার লালন শাহকে রক্ষা করেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এমন দিনে স্পষ্ট করে বলতে চাই, পক্ষপাতমূলক সাংবাদিকতা টিকবে না। টিকতে পারে না। দুনিয়ার কোথাও টেকেনি। গণতন্ত্রের বিকাশে মিডিয়ার ভূমিকা হতে হবে সাহসী। সত্য অবশ্যই উচ্চারণ করতে হবে। আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় মিডিয়ার ভূমিকা থাকতে হবে। বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রথম দিন থেকে তার দায়িত্বের জায়গায় অবিচল। আমরা চেষ্টা করছি খবরের আড়ালের সঠিক তথ্য পাঠককে জানাতে। আমাদের অঙ্গীকার মানুষের প্রতি। হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন আমাদের শক্তি। পাঠকের ভালোবাসায় বাংলাদেশ প্রতিদিন আজ দেশের প্রচারসংখ্যার শীর্ষে। মাননীয় তথ্যমন্ত্রী জাতীয় সংসদে প্রদত্ত সর্বশেষ তথ্যেও বলেছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সর্বাধিক প্রচারসংখ্যার কথা। আমরা চেষ্টা করছি পাঠকের চাহিদা ধরে রাখতে। জানি, একটি পত্রিকার ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখা ও টিকে থাকা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের। সে চ্যালেঞ্জই আমরা জয় করেছি পাঠকের অফুরন্ত ভালোবাসায়। আমরা চেষ্টা করছি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে দুর্নীতি, অনিয়ম তুলে ধরতে। পাশাপাশি দেশের ইতিবাচক খবরগুলোও পাঠককে জানাতে। আমরা দেখেছি, পাঠক ইতিবাচক খবর ভালোভাবে নিচ্ছে। সফলতার খবর সবাই পড়তে চায়। গ্রামের একজন সাধারণ কৃষকের সাফল্যকে এখন সবাই অভিনন্দন জানায়। তরুণদের জয়জয়কার এখন বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশেও তারুণ্য এগিয়ে চলছে। এই এগিয়ে চলাকে আমরা উৎসাহিত করি। মিডিয়াকে সময়ের সঙ্গে থাকতে হয়। আমরা সময়ের সঙ্গে চলায় বিশ্বাস করি। আধুনিক ডিজিটাল দুনিয়া থেকে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ প্রতিদিন। আমাদের লন্ডন ও নিউইয়র্ক সংস্করণ সাড়া জাগিয়েছে। অনলাইন পড়ছে বিশ্বের ১৭৬ দেশের পাঠক। দিন দিন বাড়ছে অনলাইনের চাহিদা। আমরা চেষ্টা করছি সর্বশেষ খবর তুলে ধরতে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে কৃতজ্ঞতা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরসহ পরিচালকমন্ডলীর প্রতি। বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান আধুনিক চিন্তার একজন মানুষ। তাঁর বলিষ্ঠ বিনিয়োগ, মিডিয়া ঘিরে আধুনিক চিন্তাভাবনা, গাইডলাইন আমাদের পথচলার সাহস ও শক্তি। বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশাল সাফল্যের আড়ালের মানুষটি হচ্ছেন আহমেদ আকবর সোবহান। তিনি যা ধরেন তা সফল হয়। দেশের সব ধরনের ব্যবসায় তাঁর হিমালয়সম সাফল্য দেশ-বিদেশে আজ প্রশংসিত। তাঁর গাইডলাইন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এগিয়ে নিচ্ছে। কৃতজ্ঞতা বসুন্ধরা ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের মাননীয় চেয়ারম্যানকে। কৃতজ্ঞতা হিমালয়-হৃদয়ের সায়েম সোবহান আনভীরকে। কৃতজ্ঞতা কো-চেয়ারম্যান সাদাত সোবহান এবং ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান ও সাফওয়ান সোবহানকে। একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা আমাদের পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, হকার, বিক্রয় প্রতিনিধিসহ শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি। বাংলাদেশ প্রতিদিন আপনাদের কাগজ। আপনারা প্রথম দিন থেকে এগিয়ে নিয়ে চলছেন এ কাগজটিকে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি স্মরণ করছি প্রথম দিন থেকে জড়িত বাংলাদেশ প্রতিদিনের সব সহকর্মীকে- যারা ছিলেন, যারা আছেন সবাইকে। সবার শ্রম, মেধায় টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাগজটির আজকের অবস্থান। সবার আন্তরিকতায় বাংলাদেশ প্রতিদিন দেশ-বিদেশে বিশাল অধ্যায় তৈরি করেছে। আগামীতে এ ধারাবাহিকতা আমরা ধরে রাখতে চাই। এগিয়ে নিতে চাই বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এক নতুন মাত্রায়। বিশ্বাস করি, পাঠকের ভালোবাসা অব্যাহত থাকলে অবশ্যই আমরা এগিয়ে যাব আরও অনেক দূর। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কথা দিচ্ছি, বাংলাদেশ প্রতিদিন আপনার কথা বলবে। আপনাদের কথা বলবে। সব অন্যায় ও অসংগতির বিরুদ্ধে থাকবে বলিষ্ঠ অবস্থান।

লেখক: প্রধান সম্পাদক নিউজ টোয়েন্টিফোর ও সম্পাদক বাংলাদেশ প্রতিদিন।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য