রবিবার, ৭ জুন, ২০২০ | আপডেট ৫৪ মিনিট আগে

সাংবাদিকতায় নারীর চ্যালেঞ্জ

ফরিদা ইয়াসমিন

সাংবাদিকতায় নারীর চ্যালেঞ্জ

সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। এই পেশায় নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। একজন নারী সাংবাদিকের জন্য এই চ্যালেঞ্জ বহুমাত্রিক। মানুষ হিসেবে নারীর জন্য আছে এই সমাজে পদে পদে প্রতিবন্ধকতা। তারপর আছে একজন সাংবাদিক হিসেবে বাড়তি চ্যালেঞ্জ। তাই নারী সাংবাদিকের চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। তবে এ প্রশ্নটি অনেকেই করেন, সাংবাদিকতার আবার নারী-পুরুষ কী? হ্যাঁ পেশার কোনো লিঙ্গ নেই। কিন্তু পদে পদে যখন নারীকে এ সমাজে বৈষম্যের মোকাবিলা করতে হয় তখন সাংবাদিকতায় নারীর অবস্থা ও অবস্থানও প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছে। তাই নারী সাংবাদিকের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলাদা আলোচনার দাবি রাখে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নারী সাংবাদিকরা কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েন তা আমাদের খুঁজে দেখা জরুরি।

বর্তমানে ৪টি রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত চ্যানেলসহ ৩৪টি টেলিভিশন চ্যানেল, ২২টি এফএম রেডিও, ১৭টি কমিউনিটি রেডিও এবং প্রায় ২৮০০ পত্রপত্রিকা আছে। গ্লোবাল মিডিয়া মনিটরিং প্রজেক্ট ২০১৫-এর তথ্য অনুসারে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের ৮৪ শতাংশ পুরুষ বিপরীতে ১৬ শতাংশ নারী। এর মধ্যে সংবাদপত্রে ৮ শতাংশ, রেডিওতে ৩৩ শতাংশ এবং টেলিভিশনে ১৯ শতাংশ নারী সাংবাদিক কাজ করেন। তবে রেডিওতে ৬৭ শতাংশ ও টেলিভিশনে ৬৬ শতাংশ নারী সংবাদ উপস্থাপনা করেন। এখানে মূলধারার সাংবাদিকতায় তারা কাজ করছেন না। তবে সর্বমোট কতজন নারী সাংবাদিকতায় আছেন তার কোনো পরিসংখ্যান বর্তমানে নেই।

নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সমগ্র বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। নারী পুলিশ, সেনা, বিমান ও নৌবাহিনীসহ সব ধরনের পেশায় কাজ করছেন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। দীর্ঘদিন ধরে নারী সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকলেও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কল্যাণে সাংবাদিকতায় নারীর পদচারণা দৃশ্যমান হয়েছে। তবে পুরুষের তুলনায় এই সংখ্যা আশাব্যঞ্জক নয়। এখনো নিশ্চিত নিরাপদ পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা গড়ে ওঠেনি, সেখানে নারীর জন্য এটি আরও অনিরাপদ। যখন-তখন পত্রিকা, মিডিয়া হাউস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকরা চাকরিচ্যুত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে নারীর বেতন পুরুষের তুলনায় কম (ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না করে থাকলে)। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করে থাকলে সেখানে নারী-পুরুষের কোনো বেতন বৈষম্য নেই। তবে বেতনের অনিশ্চয়তা কম বেশি সব প্রতিষ্ঠানেই আছে। এদিকে প্রতিবারই আমরা দেখছি ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলেই ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। চাকরিচ্যুতির তালিকায় আগে নারীকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সমাজে মনে করা হয় চাকরি একটি পুরুষের যত দরকার, নারীর ততটা নয়। এদিকে একজন কর্মজীবী নারীকে বাইরে কাজের পাশাপাশি ঘরের কাজকর্ম সামলাতে হয়। বাড়তি কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। সংসার-সন্তান সামলাতে গিয়ে অনেকে মাঝপথে ক্যারিয়ার ছেড়ে দেন। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি দিতে চায় না। এ কারণে সন্তান জন্ম দিতে গিয়েও অনেককে কাজ ছাড়তে হয়েছে। এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার নেই। বাচ্চা লালন-পালন করতে গিয়ে পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন কেউ কেউ। কোথাও কোথাও সহকর্মীদের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন নারী। এদিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যায়ে এখনো নারী সাংবাদিকের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। হাতেগোনা কয়েকজন নারী আছেন বিভিন্ন দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ পদে। তাও বেশির ভাগ পারিবারিক সূত্রে পদ পেয়েছেন। তদের পক্ষে কতটা উপলব্ধি করা সম্ভব একজন নারীর টিকে থাকার সংগ্রাম?

পুরুষ আধিপত্যের একটি পেশা সাংবাদিকতা। ধরে নেওয়া হয় এই পেশা নারীর জন্য অনুকূল নয়। মনে করা হয় রাত-বিরাতে সংবাদের পেছনে ছোটা, যখন তখন অফিসে যাওয়া নারীদের পক্ষে সম্ভব নয়। নিয়োগের সময় নিরুৎসাহিত করা হয়। পরিবার থেকে বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু মেয়েরা আসেন এই পেশাটাকে ভালোবেসে। তারপরও টিকে থাকতে না পেরে চলে যাচ্ছেন। এর অন্যতম কারণ চাকরির নিরাপত্তা নেই, বেতনের নিশ্চয়তা নেই, কাজের মূল্যায়ন হয় না, দীর্ঘদিন কাজ করার পর পদোন্নতি হয় না, আর পারিবারিক চাপ তো আছেই। যেহেতু অন্য আর দশটা পেশার মতো সাংবাদিকতা নয়। এখানে যথেষ্ট ছাড় দিতে হচ্ছে একজন নারীকে। পরিবারকে বঞ্চিত করছেন- সময় দিতে পারছেন না। ফলে অনেক ত্যাগ শিকার করে এই পেশায় এলেও যথাযথ মূল্যায়ন না হলে তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। অনেক অফিসে মাতৃত্বকালীন ছুটি কাটিয়ে এসে তার আগের জায়গাটা ফিরে পাচ্ছেন না। আগের দায়িত্ব পাচ্ছেন না। পরিস্থিতি বাধ্য করে তাকে কাজ ছেড়ে দিতে। শেষমেশ এই পেশা ছেড়ে দিয়ে ৯টা ৫টার অফিসে যোগ দেন, কখনোবা নিজে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হয়ে কিছু করার চেষ্টা করেন। তার ভালোবাসার সাংবাদিকতা করা আর হয়ে ওঠে না। পদোন্নতির ক্ষেত্রে পুরুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে। ধরে নেওয়া হয় পুরুষের পদোন্নতি প্রয়োজন, তাকে সংসার চালাতে হয়। পদোন্নতি হয় না আরেকটা কারণে, কর্তৃপক্ষ মনে করে নারীকে বস হিসেবে মানবে না। কিন্তু বস নারী-পুরুষ যাই হোক যিনি কাজ করবেন তাকে তো অফিসের নিয়মকানুন মানতেই হবে। নারী বলে কেউ তো বঞ্চিত হতে পারেন না। কিন্তু নারী বলে তিনি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারকদের বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে নারীর কাজের কোনো মূল্যায়ন হয় না।

একজন নারী সাংবাদিক কাজ শেষ করে বাড়ির দিকে দৌড়ান। কারণ সংসারটা তাকেই সামলাতে হয়। রাত-বিরাতে নানা রকম আড্ডা কিংবা গভীর রাতের কানেকটিভিটি গড়ে তোলা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। কিন্তু একজন পুরুষ সাংবাদিক অফিসের পরেও এখানে সেখানে জম্পেশ আড্ডা দেন। খবরের সন্ধান করেন। সংবাদ সূত্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ফলে ক্রমশ একজন নারী পিছিয়ে পড়েন তার সহকর্মীর কাছ থেকে। কিন্তু একজন নারী যতক্ষণ কাজ করেন তিনি একাগ্রতা নিয়েই কাজ করেন। তাকে সিগারেট খাওয়ার জন্য বারবার বাইরে যেতে হয় না। তবে দু-একটা ব্যতিক্রম থাকতে পারে। এদিকে অন্য আর দশটা পেশার মতো এখানেও যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে। কিন্তু মিডিয়া হাউসগুলোতে যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ সেল আছে বলে আমার জানা নেই। তবে এ ব্যাপারে ‘দৈনিক প্রথম আলো’-তে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি আছে। কোনো কোনো হাউসে দেখা গেছে নারী অভিযোগ করলে উল্টা অভিযোগকারীর চাকরি চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। অথচ নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ না থাকলে নারীর টিকে থাকা খুব কঠিন। তবে এরকম দু-একটা ঘটনা বাদ দিলে গণমাধ্যমে পুরুষ সহকর্মীরা অনেক সহযোগিতার হাত বাড়াচ্ছেন। আর তা না হলে রাত-বিরাতের এই পেশায় নারীর পক্ষে কাজ করা সম্ভব হতো না। যদি সাংবাদিক সংগঠনের কথা বলি সেখানেও নেতৃত্বে নারী হাতেগোনা দু-একজন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য সংখ্যা তিন হাজারের বেশি। সেখানে ১৯ সদস্যের নির্বাহী কমিটিতে এবার চারজন মেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএফইউজের (বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন) সদস্য সংখ্যা চার হাজার সারা বাংলাদেশে। ৫১ সদস্যের নির্বাহী কমিটিতে দুজন নারী সদস্য আছেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ১৮০২ জন সদস্যের মধ্যে নারী সদস্য মাত্র ১৪৪ জন। এই সংগঠনের ২১ জনের কমিটিতে দুজন নারী আছেন। তাদের একজন নারীবিষয়ক সম্পাদক। এই পদটি নারীর জন্য নির্ধারিত। প্রশ্ন হচ্ছে, সাংবাদিক সংগঠনগুলোতে নারীদের অবস্থান এই পর্যায়ে কেন? একটি কথা অনেককেই বলতে শোনা যায়, নারীরা সংগঠনের ব্যাপারে আগ্রহী না, তারা সময় দিতে পারেন না। কারণ তাদের অফিস শেষ করে বাসায় চলে যেতে হয়। আবার সংগঠনে সময় দেবেন কখন? কিন্তু নির্বাচনগুলোতে নারীরা অংশ নিচ্ছেন। প্রচ- পরিশ্রম করে নির্বাচন করছেন। হাউসে হাউসে ঘুরছেন ভোট চেয়ে। কিন্তু বড় পদগুলোতে জিততে পারছেন না। সমান যোগ্যতা নিয়ে পুরুষরা জিততে পারছেন, মেয়েরা কেন পারছেন না? তাহলে এখানে কি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা কাজ করে? বলতে শোনা যায়, নারী এত বড় সংগঠনের নেতা হবেন, তাকে কি সবাই মানবে? ঘুরেফিরে নেতা হিসেবে মানবে কিনা সেই প্রশ্ন এখানে এসে যায়। সমাজের এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনটা জরুরি। বাংলাদেশে এই প্রশ্নটাও অবান্তর। দীর্ঘদিন ধরে এই দেশ নারী শাসন করছেন। প্রধান বিরোধী দলগুলোর নেতৃত্বে আছেন নারী। জাতীয় সংসদের স্পিকার নারী, যিনি তৃতীয়বারের মতো দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী কঠোর পরিশ্রম করে তার নিজের অবস্থান করছেন। নারীর তার নিজকে যোগ্য হিসেবে বারবার প্রমাণ দিতে হয়। আত্মবিশ্বাস, দৃঢ়তা আর লক্ষ্য স্থির থাকলে আমার মনে হয় বেশি দিন নারীকে দাবিয়ে রাখা যায় না। একজন নারী বড় হয়ে ওঠার পাশাপাশি সমাজ-সংসার থেকে অনেক কিছু শিখে নেয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে নারী চলতে শিখে যায়। নারীর মধ্যে এক অন্তর্নিহিত শক্তি আছে। এই শক্তিকে নারীর নিজের উপলব্ধি করতে হবে। নিজকে দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তবে নারীকে তার যথাযথ সুযোগটি দিতে হবে। পারবে না, মানবে না বলে তাকে সুযোগ না দিলে কীভাবে তার যোগ্যতা প্রমাণ করবে?

জাতীয় প্রেস ক্লাবে ১২০২ জন স্থায়ী সদস্যের মধ্যে ৮১ জন নারী সদস্য। ১৭ সদস্যের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছাড়া একজন নারী সদস্য আছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে ৬৩ বছরের ইতিহাসে প্রথম একজন নারী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ২০১৭-২০১৮ মেয়াদে। যিনি দ্বিতীয় মেয়াদে আবারও নির্বাচিত হয়ে ২০১৯-২০২০ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে নারী নেতৃত্বের পাশে তার সদস্যরা আছেন। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে তারা নারী নেতৃত্বকে এগিয়ে নিয়ে এসেছেন। সাংবাদিকতার নেতৃত্বের ইতিহাসে মাইলফলক রচনা করেছেন। সদস্যদের সর্বাত্মক সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে প্রেস ক্লাব। অন্য সাংবাদিক সংগঠনগুলোতে নারী নেতৃত্বের বিকাশ প্রয়োজন।

প্রযুক্তি সাংবাদিকতাকে বদলে দিয়েছে। ছুড়ে দিয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে নারীর তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান থাকতে হবে। নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি তার জানা থাকতে হবে। এই নিরাপত্তা শারীরিক এবং ডিজিটাল। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে নারীর জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ অনলাইন হয়রানি। নারী সাংবাদিককে ডিজিটালি নিরাপদ থাকার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। তার নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে তার সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে এবং নিরাপত্তার কৌশলগুলোও তার জানা থাকতে হবে। প্রযুক্তির এই যুগে নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশেষভাবে নারীকে প্রযুক্তি জ্ঞানে দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিতে হবে। বিপদে-আপদে সহযোগিতার জন্য নারীকে নিজেদের মধ্যে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। পেশার মান উন্নয়নে নিজেদের টিকে থাকার স্বার্থে সব সাংবাদিককে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তবে নারী নিজেকে নারী সাংবাদিক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলে তিনি মূলধারা থেকে হারিয়ে যাবেন। একজন সাংবাদিক নারীকে পুরুষের সঙ্গে সমানভাবে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে নারী হিসেবে কখনো বাড়তি সুযোগ নেওয়া ঠিক না। সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেকে দক্ষ সাংবাদিক হিসেবে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। নিজেকে সব ধরনের তথ্যে আপ টু ডেট রাখতে হবে। চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। নিজকে প্রস্তুত করতে হবে সেটি নিউজ রুমে হোক কিংবা নেতৃত্বের জায়গাটিতে হোক। যোগ্য হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারলে তিনি এগিয়ে যাবেনই।

গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সমাজের বিভিন্ন স্তরে নানা অসঙ্গতি দূর করার লক্ষ্যে গণমাধ্যম কাজ করে যাচ্ছে। যত বেশি নারী এ পেশায় আসবে সমাজের দর্পণ ততটা জেন্ডার সেনসিটিভ হবে। আরও বেশি সংখ্যক নারীকে এই পেশায় সুযোগ করে দিতে হবে। সাংবাদিকতার নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নারী সাংবাদিকরাও নিজেদের প্রস্তুত করে নিচ্ছেন। দরকার কর্তৃপক্ষ ও সহকর্মীদের একটু ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।  সরকারকেও নারী যাতে নিরাপদ পরিবেশ পায় সে বিষয়টি দৃষ্টি দিতে হবে। তবে রাত-বিরাতের এই সাংবাদিকতায় টিকে থাকতে হলে সবার আগে পরিবারের সহযোগিতা বড় প্রয়োজন।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় প্রেস ক্লাব

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য