নাটোরে এনজিও'র কিস্তি আদায় বন্ধ

নাটোরে এনজিও'র কিস্তি আদায় বন্ধ

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নাটোরে দুর্যোগ ব্যবস্থপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় এনজিওসহ সমবায় সমিতির কিস্তি (টাকা) আদায় আগামী ১৪ দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো.
শাহরিয়াজ। সভায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন করণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, করোনা ভাইরাসে কাউকে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। মানুষের
সমাগম এড়াতে রেস্টুরেন্ট ও ছোট-বড় হাট, চায়ের দোকান আগামী ১ সপ্তাহ বন্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, গ্রাহকদের নিকট থেকে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) সহ সমবায় সমিতির কিস্তি (টাকা) আদায়
আগামী ১৪ দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এনজিও ও সমবায়কে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবগত করা হবে। তবে
ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কাঁচাবাজার, মুদি-মাছ ও ফলের দোকান খোলা থাকবে।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো হলো:-
১. বিদেশ ফেরতদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা যে কোনো মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে।
২. চা- স্টল,রেস্তোরা সমূহে বসে খাবার গ্রহণ করা যাবে না। পার্সেল আকারে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে।
৩. কোনো হোটেল, চায়ের দোকান বা অন্য কোনো দোকানে টিভি/ক্যারাম বোর্ড রাখা যাবে না।
৪. সাপ্তাহিক বড় হাটসমূহ আগামী ১ সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে। তবে সেখানে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পণ্য ও দ্রব্যাদি
ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে।
৫. স্ব-স্ব বিভাগ নিজেদের প্রয়োজনে পার্সোনাল প্রটেক্টিভ ইক্যুইপমেন্ট এর ব্যবস্থা করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
৬. জেলা ও উপজেলা সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক অবস্থা করে প্রশাসনকে
সহায়তা করবেন।
৭. ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আবেদন বিবেচনা ও গণজমায়েত এড়ানোর স্বার্থে জেলায় এনজিও কর্তৃপক্ষ সমূহকে তাদের
লোনের কিস্তি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে অনুরোধ জানানো হলো।
৮. জনসাধারণকে বিনা প্রয়োজনে যত্রতত্র ঘরের বাইরে ঘোরাফেরা না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা প্রত্যেকের বাড়ির সামনে নির্দিষ্ট ব্যানার ঝুলানো থাকবে বলে জানান ডিসি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ
সুপার লিটন কুমার সাহা, সিভিল সার্জন ডা.কাজী মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আশরাফুল ইসলাম, পৌর মেয়র উমা চৌধুরী জলি, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান সহ কমিটির অন্য সদস্যরা।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য