মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০ | আপডেট ০৮ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট আগে

করোনা প্রতিরোধের কৌশল আবিষ্কার করলেন তিন অধ্যাপক

অনলাইন ডেস্ক

করোনা প্রতিরোধের কৌশল আবিষ্কার করলেন তিন অধ্যাপক

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরের তিন অধ্যাপক করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের কৌশল আবিষ্কার করেছেন। তাঁরা হলেন যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সাহিদ ও কম্পিউটার সাইন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল কাশেম।

তাঁরা এই ভাইরাসের বিভিন্ন প্রোটিন সমূহ পর্যবেক্ষণ করে তাদের প্রকৃতি ও তাদের নেতিবাচক দিকসমূহ নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করেন।

এই প্রোটিনগুলো পর্যবেক্ষণ করে তাঁরা দেখেন যে এগুলোর মধ্যে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান রয়েছে যা শ্বাস নালী সহ মানবদেহের ক্ষতি করতে সক্ষম।

এমনকি মানুষের মৃত্যুর কারণও হতে পারে। এইসব রাসায়নিক উপাদানসমূহ নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান করে তাঁরা দেখতে পান ভাইরাসের মধ্যে কার্বোক্সিল (-COOH) এবং এমাইনো (-NH2) গ্রুপ রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে করতে তাঁরা দেখতে পান যে এই কার্বোক্সিল (-COOH) এবং এমাইনো (-COOH) গ্রপের উপাদানগুলোকে অকার্যকর ও নিস্ক্রিয় করতে হাইড্রোক্সিল (-OH) গ্রপের প্রভাব রয়েছে।

এই অবস্থায় তাঁরা দেশীয় ও সহজলভ্য হাইড্রোক্সিল (-OH) গ্রপের বিভিন্ন উৎস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে থাকেন। এত করতে গিয়ে তাঁরা দেখেন যে আমাদের দেশের বিভিন্ন উদ্ভিদের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে হাইড্রোক্সিল (-OH) গ্রপ রয়েছে। সেই সব উদ্ভিদকে প্রথমে এক্সট্র্যাক্ট করা হয়। তাঁরা মনে করেন এটির সাথে আরও কিছু প্রাকৃতিক উপাদানযুক্ত করে বিশ্বমানের করোনা নিরোধক ওষুধ তৈরি করা যেতে পারে। এই গবেষকদল তাদের গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। অচিরেই এটি করোনা নিরোধক ওষুধে রূপান্তর করতে পারবেন বলে তাঁরা জানান।

তাঁরা প্রাথমিকভাবে উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে লিকোরিজ বা যষ্টি মধুকে ব্যবহার করেছেন যা করোনা ভাইরাসের খারাপ প্রোটিনগুলোর উপর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম। এই গবেষণার খুঁটিনাটি বিভিন্ন দিক ও পরীক্ষাগারের বিভিন্ন পরীক্ষা সমূহ চলছে। তাঁরা এখন থেকে ওষুধ তৈরির আগে পুষ্টিবিদদের মাধ্যমে হাইড্রোক্সিল (-OH) গ্রপের একটি তালিকা সরকার প্রকাশ করতে পারেন বলে মনে করছেন।

এতে সাধারণ মানুষ এই খাদ্যগুলো তাদের খাদ্য তালিকায় রেখে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারবেন বলে আশাবাদী।

এছাড়া ইলেক্ট্রো-ইস্পান পদ্ধতি ব্যবহার করে এই গবেষকরা এন্টি-ভাইরাল ন্যানো-মেমব্রেনে তৈরি করেছেন। এই ধারণা চিকিৎসক সহ সাধারণ মানুষের এন্টি-ভাইরাল পোশাক, গ্লাভস ও মাক্সসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরিতে সহায়তা করবে।

ইতিমধ্যে গবেষক দলটি তাদের গবেষণা ফলাফল আন্তর্জাতিক জার্নালে সাবমিট করেছেন। তাঁরা আশাবাদী তাদের এই পরিবেশ ও মানব বান্ধব আবিষ্কার আমাদের দেশ সহ পৃথিবীর মানুষের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করবে। সাথে সাথে তাঁরা গবেষণাটির বিভিন্ন দিক নিয়ে অন্যদেরও কাজ করার আহ্বান জানান।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য