শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২০ | আপডেট ২২ মিনিট আগে

'‌‌যারা গ্রামে ফিরবে তারা যেন কোয়ারেন্টাইন পালন করে'

বেলাল রিজভী, মাদারীপুর

'‌‌যারা গ্রামে ফিরবে তারা যেন কোয়ারেন্টাইন পালন করে'

করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে মাদারীপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ ঘরে ফিরছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সারা দেশে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মাদারীপুরে কাঠাঁলবাড়ি ঘাটে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এতে করে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানা গেছে।

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ি ঘাট সূত্র জানায়, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরী সেবার জন্য ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই ফেরি পার হয়েই বিভিন্ন উপায়ে করোনার আতঙ্ক উপেক্ষা করেই বাড়ি ফিরেছেন সাধারণ মানুষ।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে গিয়ে দেখা যায়, লঞ্চ ও স্পিডবোট বন্ধ থাকলেও ফেরি চলাচল অব্যাহত আছে। এতে সীমিত আকারে কিছু গাড়ি পার হচ্ছে। সব বাঁধা উপেক্ষা করে আজও করোনার ঝুঁকি মাথায় নিয়েই ঢাকা ছাড়ছেন তারা। সকাল থেকেই এই নৌরুটে ঘরমুখী মানুষের ভিড় লেগে আছে। ফেরি থেকে নেমেই যে যার মতো করে ট্রাকে, পিকআপে বা ট্রাকের ছাদে বাড়ি ছুটছেন। পুলিশ একদিক দিয়ে সরাচ্ছেন অন্য দিক থেকে আবার ট্রাকে চড়ে বাড়ির দিকে ছুটছেন রাজধানী ছেড়ে আসা মানুষ। ঘরে ফেরা মানুষের স্রোতে ভেসে যাচ্ছে করোনা প্রতিরোধে পুলিশের নেওয়া সব পদক্ষেপ।

ঢাকা থেকে বরিশালগামী যাত্রী সোবাহান মোল্লা বলেন, ‘রং মিস্ত্রির কাজ করি। এখন কাজ বন্ধ। ঢাকায় কী করুম? কী খামু? তাই যেভাবেই হোক বাড়ি যাইতে হবে।’

বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ি ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুল আলীম বলেন, শিমুলিয়া ঘাটে গাড়ি ও যাত্রীদের চাপ অনেক। বর্তমানে ১৬টি ফেরির মধ্য ১৩টি সচল রয়েছে। যাত্রী পারাপার হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করা হচ্ছে। তবে পণ্যবাহী ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পার হচ্ছে।

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (শিবচর সার্কেল) মো. আবির হোসেন বলেন, আজ মধ্যরাত থেকে গণপরিবহন বন্ধ তবুও ঢাকা থেকে যে কোনো ভাবে কিছু লোক নদী পার হয়ে এপার আসতেছে। যেহেতু গণপরিবহন বন্ধ, তাই অনেকে তাড়াহুড়ো করে অনেক সময় ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছেন। এসব বন্ধে পুলিশ তৎপর আছে।

মাদারীপুরের সির্ভিল সার্জন ডা. মো. শফিকুল ইসলাম ঝুঁকির মধ্যে বাড়ি ফেরা প্রসঙ্গে বলেন, সরকার সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতেই ছুটি ঘোষণা করেছে। শুনেছি কিছু মানুষ গাদাগাদি করে গাড়িতে ও ফেরিতে  চলাচল করছে এতে করে করোনা সংক্রমণির ঝুঁকি আরো বেড়ে গেছে। তাই আইইসিডিআর থেকে বলা হয়েছে যারা গ্রামে ফিরবে তাদেরও হোম কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। যারা গ্রামে ফিরেছে তাদের প্রতি অনুরোধ তারা যেন ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টাইন পালন করেন।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য