শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০ | আপডেট ১৪ মিনিট আগে

চোখেও প্রকাশ পায় করোনার উপসর্গ!

অনলাইন ডেস্ক

চোখেও প্রকাশ পায় করোনার উপসর্গ!

প্রতীকী ছবি

জন্ডিস ও টাইফয়েডের মতো অনেক রোগ চোখের রং দেখে বলে দেওয়া যায়। করোনাভাইরাস আক্রান্তের উপসর্গ চোখে প্রকাশ পায় এমন কোনো গাইডলাইন এখন পর্যন্ত দেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী ও গবেষকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ হলে ধীরে ধীরে চোখের রং বদলায়। চোখের রং পরিবর্তন দেখে অনেক রোগীকে করোনার পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছিল। প্রতিটি ক্ষেত্রে রিপোর্ট এসেছে পজিটিভ।

করোনা সংক্রমণে চোখ লালবর্ণ ধারণ করে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, চোখ তো ঠাণ্ডা লাগলেও লাল হয়। কনজাংটিভিটিস সংক্রমণেও হয়। তা হলে করোনার সংক্রমণকে আলাদা করে চিহ্নিত করা সম্ভব কী করে? ডাক্তার-গবেষকদের কথায়- জন্ডিস, টাইফয়েড বা অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে চোখের সাদা অংশের রং পরিবর্তন হয়। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে চোখের বাইরের চারপাশ ক্রমে লাল হয়ে যায়। রোগীর চোখের দিকে তাকালে মনে হবে, আইশ্যাডো লাগানো রয়েছে। আমেরিকায় করোনায় আক্রান্তদের পরীক্ষা করতে গিয়ে, এক নার্স প্রথম বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। প্রথমে তিনি বিষয়টিকে চোখের অ্যালার্জি হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে আরও করোনা আক্রান্তদের একই লক্ষণ দেখা যায়। এর পরই কারও মধ্যে এ ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করলে করোনার পরীক্ষার আগেই তাদের আইসোলেশনে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস বিভিন্নভাবে রোগীকে আক্রমণ করতে পারে। একজনের সঙ্গে অপরজনের সংক্রমণের ধরণ মেলে না। কিন্তু, তারা চোখের বাইরের এই রং পরিবর্তনের ক্ষেত্রে মিল খুঁজে পেয়েছেন। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিজারভেশন (সিডিসি) জানাচ্ছে, করোনাভাইরাসের কমন লক্ষণ হল, কফ, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট। ক্রমে বুকে চাপ অনুভব করা। বুকে ব্যথা। ঠোঁটে নীলচে ভাব। ডব্লিউএইচও আগে কখনও চোখের এই পরিবর্তনের কথা বলেনি। আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অফথ্যালমোলজির গবেষকরা জানাচ্ছেন, কংজাংটিভিটিস বা অ্যালার্জির মতোও চোখ লাল হতে পারে।

করোনায় আরও একটি পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে আমেরিকার Academy of Otolaryngology-র ঘাড়-মাথা সার্জারি বিভাগের ওয়েবসাইটে। আক্রান্তদের উপর পরীক্ষা চালিয়ে গবেষকরা জানান, করোনা সংক্রমণে ঘ্রাণশক্তির লোপ পায় (anosmia)। সেইসঙ্গে মুখের স্বাদও চলে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলে dysgeusia । তারা আরও জানাচ্ছেন, ষাটোর্ধ্ব যাদের বয়স, ইমিউনিটি দুর্বল, ফুসফুস বা হার্টের অসুখ রয়েছে, যারা অতিরিক্ত মোটা, অটোইমিউন ডিজঅর্ডার রয়েছে, তাদের মধ্যে এই ভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি।

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব অফথ্যালমোলজির গবেষকরা সম্প্রতি আর একটি পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, হাঁচি-কাশি ছাড়াও বডি-ফ্লুইড থেকে করোনার সংক্রমণ ছড়ালেও, আক্রান্তের চোখের পানি থেকে ভাইরাস ছাড়ানোর আশঙ্কা নেই। ২০ দিন ধরে নানা সময়ে আক্রান্তদের চোখের পানি নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে তাতে ভাইরাস খুঁজে পাননি গবেষকরা। সূত্র : এই সময়।

মন্তব্য