শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২০ | আপডেট ৩৪ মিনিট আগে

মাস্ক কতোটা ভাইরাস প্রতিরোধ করে

সেরীন ফেরদৌস

মাস্ক কতোটা ভাইরাস প্রতিরোধ করে

করোনা প্রতিরোধে মুখে মাস্ক পরাটা সবার জন্য কি জরুরি! মাস্ক কতোটা ভাইরাস প্রতিরোধ করে, আর কতটাই বা ইনফেকশন ছড়ায়! মাস্ক পরার নিয়মই বা কী!

অন্টারিওর ডাক্তাররা (অন্টারিও মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন) একজোট হয়ে বলছেন, করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা হচ্ছে বাসায় থাকা ও পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা। মাস্কের ব্যাপারে পরিষ্কার ঘোষণা দিয়েছেন, “মাস্ক শুধু তিনিই পরবেন যাঁর ভেতরে করোনার উপসর্গগুলো বিদ্যমান।”

একথা বলার কারণ আছে। প্রথমত, মাস্কগুলো শুধুমাত্র একবার ব্যবহার করার জন্য। দ্বিতীয়বার ব্যবহার করতে গেলে, মাস্কে থাকা জীবাণুই আবার নাড়াচাড়া করার বন্দোবস্ত করা হয়! কেউ কেউ মাস্ক ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে পুনরায় ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু তা ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (হু) সাপোর্ট করে না। কারণ, এর কোনো প্রমাণিত সত্যতা নেই। হু বরং বলছে, প্রয়োজন ছাড়া মাস্ক বরং বিপদ ডেকে আনতে পারে। মাস্ক পরার ফলে অনেকে ভাবতে পারেন, আমি ভাইরাস সংক্রমণ থেকে মুক্ত আছি, ফলে অন্য সাবধানতাগুলো তিনি উপেক্ষা করতে পারেন। যা পরবর্তীতে ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ায়।

দ্বিতীয়ত, মাস্কগুলো বানানো হয় বিশেষ ধরনের উপাদান দিয়ে, সাধারণ কাপড় দিয়ে নয়। হরেদরে বানানো মাস্ক কোনো কাজে আসে না। সার্জিক্যাল মাস্কের দুইপাশ দুই ধরনের কাজ করে থাকে। কোন দিকটা বাইরে থাকবে আর কোন দিকটা ভেতরের দিকে থাকবে তা সুনির্দিষ্ট করা থাকে। মূলতঃ কালার-কোডিংও করা থাকে। মাস্ক উল্টো করে পরা হলে সেটা কাজ করবে না। হু-র মতে, মাস্ক পরার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন তা সঠিক উপায়ে পরা হয়। মাস্কের বাইরের বা ভেতরের কাপড়ে কোনোরকম হাতের ছোঁয়া না লাগে। খোলার সময়ও এমনভাবে খুলতে হবে যাতে মাস্কের কাপড়ে ছোঁয়া না লাগে!

এন-৯৫ মাস্ক (গোলাকার মাস্ক ) দরকার হয় এয়ারবোর্ণ জীবাণু প্রতিরোধ করতে। তাছাড়া প্রত্যেকের মুখের মাপ অনুযায়ী সাইজ আলাদা আলাদা থাকে। সাধারণত, একজন ডাক্তার/ নার্স প্রতি দুইবছর অন্তর এই মাস্কের সাইজ বিশেষ উপায়ে টেস্ট করার পর নিজেদের সাইজটি সম্পর্কে অবগত থাকেন এবং দরকার অনুযায়ী সেই নির্দিষ্ট সাইজ ব্যবহার করেন।

লেখক: কানাডায় কর্মরত কমিউনিটি নার্স

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য