বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০ | আপডেট ০৩ মিনিট আগে

সামনে এলো করোনার নতুন উপসর্গ!

অনলাইন ডেস্ক

সামনে এলো করোনার নতুন উপসর্গ!

করোনা সংক্রান্তে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই। হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। শুধুমাত্রা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই আক্রান্ত এক লাখ ৮৮ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরার পরিসংখ্যানও আশাব্যঞ্জক। তবে ইতালি, স্পেন, আমেরিকায় করোনাভাইরাস সংক্রমণে একের পর এক জনপদ মৃত্যুপুরীতে পরিণত হচ্ছে।

এদিকে ইতিমধ্যে ২০০’র বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির উপসর্গ জ্বর থেকে শুরু করে শুষ্ক কাশি- এ ধরনের একাধিক উপসর্গ দেখা দেয় বলে এতদিন জানা ছিল। এবার এর সঙ্গে আরও একটি উপসর্গ যোগ হয়েছে। নিউ ইয়র্কের চিকিৎসকরা কম পরিচিত একটি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে হার্ট অ্যাটাকের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

ওয়ার্ল্ডোমিটার এবং হু তথ্য জানাচ্ছে, বাংলাদেশ সময় বুধবার দুপুর পর্যন্ত এই মারণ ভাইরাসের হামলায় বিশ্ব জুড়ে মারা গেছেন ৪২ হাজার ৩৪৪ জন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লক্ষ ৬০ হাজার ১৭০ জন। এর মধ্যে ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪৪২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিবিসি, এএফপি সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর, মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত ইতালি ও স্পেন। এরপরই আছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে আক্রান্তে শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশগুলোয় মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

মৃত্যুর দেশ ইতালি: খুবই করুণ পরিস্থিতি। ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ১২ হাজার ৪২৮ জন বুধবার দুপুর পর্যন্ত। রাস্তায় রাস্তায় মৃতদেহ বহনকারী গাড়ি দাঁড়িয়ে। কবরেও যেন ঠাঁই নেই দেহগুলির। সরকারি চিকিৎসা বিভাগ প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছে।

মৃতদেহে ঢাকছে স্পেন: করোনাভাইরাস প্রথম ছড়ায় চীনে। কিন্তু মৃতের সংখ্যায় চীনের চেয়ে এগিয়ে স্পেন। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৮ হাজার ৪৬৪ জন মারা গেছেন।

আমেরিকায় হাহাকার: আক্রান্তে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে আমেরিকা। বুধবার দুপুর পর্যন্ত দেশটিতে করোনা আক্রান্ত ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯২ জন। মৃত্যুতে দেশটির অবস্থান এখন তৃতীয়। মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৫৫ জনের। মার্কিন সরকারের আশঙ্কা, দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

গণকবরের দেশ ইরান: এশিয়ায় চীনের পর সর্ব প্রথম ইরানেই তাণ্ডব চালিয়েছিল করোনাভাইরাস। ২ হাজার ৮৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এই দেশে। মৃতদেহগুলিকে গণকবর দিতে হয়েছে। এতে সংক্রমণ খানিকটা কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

চীন আগেই মৃত্যুপুরী: জানুয়ারির ১০ তারিখে দেশটিতে প্রথম করোনা রোগী পাওয়ার পর হু হু করে বাড়তে থাকে সংক্রান্তের সংখ্যা। মৃত মানুষের লাইন পড়ে যায়। তবে খুবই কম সময়ের মধ্যে কয়েক কোটি মানুষকে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় এনে করোনা সংক্রমণে শীর্ষে থাকা দেশটি দ্রুতই পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এ পর্যন্ত সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৩১২ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৫৫৪ জন। তবে ৭৬ হাজার ২৩৮ জন সুস্থ হয়ে ফিরে যাওয়ায় বর্তমানে সেখানে সংক্রান্ত আছেন ২ হাজার ৪ জন।

আক্রান্তে চীনকে ছাড়াতে যাচ্ছে জার্মানি: দেশটিতে প্রতিদিন করোনায় নতুন করে সংক্রামিত হচ্ছে সাত শতাধিক মানুষ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই আক্রান্তে দেশটি চীনকে ছাড়িয়ে যাবে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত জার্মানিতে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৮০৮ জন। তবে দেশটিতে মৃত্যুহার অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। এখন পর্যন্ত সেখানে মারা গেছেন ৭৭৫ জন।

ফ্রান্সে মৃত্যুর ছবি: করোনার বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধ ঘোষণা করেও সামলাতে পারছে না ফ্রান্স। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫২ হাজার ১২৮ জন। মারা গেছেন ৩ হাজার ৫২৩ জন।

করোনার নতুন উপসর্গ হার্ট অ্যাটাক 

ব্রুকলিনের একটি হাসপাতালে একজন রোগী অনিয়মিত হৃদস্পন্দন এবং রক্তে ট্রোপোনিন নামক প্রোটিনের উচ্চ মাত্রা সমস্যা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন- এই দুটিই হার্ট অ্যাটাকের স্পষ্ট লক্ষণ। কিন্তু পরীক্ষায় দেখা গেছে, ওই রোগীর কোনোভাবেই হার্ট অ্যাটাক ছিল না, এর পরিবর্তে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।

হাসপাতালে ১২ দিনের চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়েছিলেন। তবে চিকিত্সকরা সতর্ক করেছেন যে, তার কেসটি ব্যতিক্রম হতে পারে না। নতুন করোনাভাইরাস বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফুসফুসকে সংক্রামিত করে, কিন্তু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা এখন বিশ্বাস করেন, এটি হার্টকেও প্রভাবিত করতে পারে।

আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির চিফ সায়েন্স ও কোয়ালিটি অফিসার ড. জন রামসফেল্ড নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ‘আমরা এতদিন কেবল ফুসফুস, ফুসফুস এবং ফুসফুস নিয়ে ভাবছিলাম, যা আমাদের জন্য সহায়ক বিষয় ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে আমরা হার্টের ওপর সম্ভ্যাব্য প্রভাব সম্পর্কে শুনতে শুরু করি।’ 

নিউ ইয়র্কের ঘটনাটি প্রকাশিত হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস এর হেলথ সায়েন্স সেন্টারের গবেষকদের একটি গবেষণার পরপরই। যেখানে বলা হয়েছিল- হার্টের পূর্ব সমস্যা ছাড়াই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। 

গবেষণাটির প্রধান গবেষক ড. মোহাম্মদ মাদজিদ বলেন, ‘আগে থেকে হৃদরোগ না থাকলেও সম্ভবত করোনাভাইরাস রোগে হার্টের টিস্যু আক্রান্ত হতে পারে। মোট কথা হৃদরোগী ছাড়াও করোনাভাইরাসে যেকোনো রোগীর হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। আর ইতিমধ্যে যাদের হৃদরোগ রয়েছে তাদের ঝুঁকি বেশি।

মন্তব্য