বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০ |

হত্যা করে মাটিচাপা

ঠাকুরগাঁওয়ে চাঞ্চল্যকর শিশু নুপুর হত্যার মূল আসামি গ্রেপ্তার!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ে চাঞ্চল্যকর শিশু নুপুর হত্যার মূল আসামি গ্রেপ্তার!

ঠাকুরগাঁওয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখা চাঞ্চল্যকর শিশু নুপুর (৮) হত্যা মামলার মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ। শহর ফাড়ি পুলিশের পরিদর্শক জিয়ারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

জিয়ারুল ইসলাম জানান, গত (১৯ মার্চ) বৃহস্পতিবার শিশু নুপুরের লাশ ঠাকুরগাঁও সত্যপীর ব্রীজের ডিসি পার্ক (২নং গেট) সংলগ্ন জঙ্গলের গর্তে মাটি চাপা অবস্থায় পাওয়া যায়। ক্লুলেসহীন এ  হত্যার আসামি ধরতে মরিয়া হয়ে ওঠে পুলিশ। নজর রাখা হয় ওই এলাকায় আড্ডা দেওয়া ব্যক্তিদের ওপর।

সন্দেহ ভাজনদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরই মাঝে সন্দেহ ভাজন ঠাকুরগাঁও নারগুন ইউনিয়নের কহরপাড়া (শুখানপুকুর) এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে (১৬) কয়েকদফা থানায় ডেকেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

অবশেষে সোমবার রাতে তাকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করে। জিয়ারুল ইসলাম আরও জানান, স্বীকারোক্তিতে জাহিদ জানায়, সেদিন ডিসি পার্কে শিশু নুপুরকে একা দেখলে তার ভেতর যৌন লালসার সৃষ্টি হয়। এ সময় জাহিদ তাকে ধর্ষণের জন্য ধস্তাধস্তি করে। কিন্তু শিশু নুপুর তাকে চিনতে পেরে বাসায় গিয়ে তার বাবা মাকে বলে দিবে বলে চিৎকার করে।

এতে ভয় পেয়ে জাহিদ নুপুরের স্কাফ দিয়ে গলায় পেচিয়ে হত্যা করে ও পাশে থাকা গর্তে পুতে রেখে হাল্কা মাটি ও আমের ডাল দিয়ে ঢেকে দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত (১৯মার্চ) বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁওয়ের সত্যপীর ব্রীজ নামক এলাকায় ডিসি পার্ক (২ নং গেট) সংলগ্ন জঙ্গলের গর্তে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় ২য় শ্রেণিতে পড়ুয়া নুপুর নামে নিখোঁজ এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে এগারোটার দিকে গর্তের মাটি সরিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নুপুর (৮) পঞ্চগড় জেলার হারুনুর রশিদের মেয়ে। 

গত দুই মাস থেকে ফকিরপাড়া এলাকার আলীর বাসায় ভাড়া আছেন তারা। হারুনুর রশিদ একজন রিক্সাচালক। দুপুরে বাসা থেকে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশু নুপুর। এরপর বিভিন্ন জায়গাতে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া না গেলে পরিবারের স্বজনেরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে।

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল

মন্তব্য