বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০ | আপডেট ০৩ মিনিট আগে

তথ্য গোপন করা হয়, তিনি করোনা আক্রান্ত

অনলাইন ডেস্ক

তথ্য গোপন করা হয়, তিনি করোনা আক্রান্ত

বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থান বাসস্ট্যান্ডে ট্রাক থেকে নামিয়ে দেওয়া শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত দিনমজুর শাহ্ আলম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। ঢাকা থেকে তিনি গ্রামের বাড়ি রংপুরে যাচ্ছিলেন।

বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান সঞ্চয় এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জানান, বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রংপুরে ধাপ মডার্ন মোড় থেকে উদ্ধার শাহ্ আলমের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ল্যাব থেকে তার পজেটিভ রিপোর্ট এসেছিল। পরে অধিকতর নিশ্চিত হতে তার শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনা ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। সেখান থেকেও শনিবার রাতে পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে।

তিনি আরও জানান, পাঠানো রিপোর্ট অনুযায়ী দু’দিন আগে আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত শিশু সিয়ামের শরীরে করোনা ভাইরাসের কোনও অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শাহ্ আলম গত ২৮ মার্চ রাতে ঢাকা থেকে ট্রাকে করে রংপুরের বাড়ি ফিরছিলেন। পথে অন্য যাত্রীরা তার শ্বাসকষ্ট ও কাশি টের পেয়ে চিৎকার করেন। ট্রাকটি ২৯ মার্চ ভোরে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে চালক ও হেলপার তাকে নামিয়ে দিয়ে চলে যান। সেখানে দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকার পর পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় তাকে প্রথমে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে হৃদরোগী হিসেবে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের আইসিইউতে পাঠানো হয়েছিল। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ১ এপ্রিল তাকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল আইসোলেশন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। ওইদিন তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে রামেক হাসপাতালের ল্যাবে পাঠানো হয়। পরদিন সেখান থেকে পজেটিভ রিপোর্ট আসে। কিন্তু বগুড়ার স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি প্রকাশ করেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নির্দেশে তাকে আলাদা রাখা হয়।

বিষয়টি জানাজানি হলে বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধানসহ পাঁচ চিকিৎসক, আট নার্সসহ ১৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। বগুড়ার স্বাস্থ্য বিভাগ অধিকতর নিশ্চিত হতে শাহ্ আলমের শরীরের নমুনা ও রামেক হাসপাতাল ল্যাবের রিপোর্ট ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠায়। গত দু’দিন বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে গোপন করা হয়।

পরে শনিবার রাতে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুুরুজ্জামান সঞ্চয় আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন শাহ্ আলম করোনা ভাইরাস পজেটিভ বলে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, শনিবার আইইডিসিআর থেকে ঘোষিত রোগীর মধ্যে শাহ্ আলম ছিলেন।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, আইসোলেশনে কর্মরত সবাই পিপিই পরিহিত অবস্থায় শাহ্ আলমের চিকিৎসা দিয়েছেন। তাই এখানে কাউকে কোয়ারেন্টিনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য