সোমবার, ২৫ মে, ২০২০ | আপডেট ০৪ ঘণ্টা ৩২ মিনিট আগে

মাশরাফির যুগান্তকারী উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক

মাশরাফির যুগান্তকারী উদ্যোগ

যখন জনপ্রতিনিধিদের ধান কাটার ছবি নিয়ে গোটা দেশে আলোচনা-সমালোচনা। ঠিক সে সময়ে কৃষকের জন্য যুগান্তকারী উদ্যোগ নিলেন নড়াইল-২ আসনের সাংসদ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। নড়াইলে কৃষকদের সুবিধার্থে ধান কাটার হারভেস্টার মেশিন সরকারিভাবে নিয়ে এসেছেন তিনি।

করোনার প্রভাবে চারিদিকে যখন শ্রমিক সংকটে চলমান বোরো ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকেরা। ঠিক সেই মুহূর্তে নড়াইলের কৃষকদের জন্য স্বস্তিদায়ক সংবাদ দিয়েছেন মাশরাফি।

তার অনুরোধে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় নড়াইল জেলার জন্য ১ টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিন দিয়েছে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যেই নড়াইলে এসে পৌঁছেছে সেই হারভেস্টার মেশিন এবং অল্প কয়েক দিনের মধ্যে আরো ৩টি মেশিন নড়াইলে পৌঁছাবে। আজ (২৮ এপ্রিল) থেকেই নড়াইল জেলার কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই হার্ভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার কাজ শুরু হবে। ধান কাটার শ্রমিক সংকটের এই দুর্দিনে এমন একটি খবর সত্যি নড়াইলের কৃষকদের জন্য সত্যিই আনন্দের খবর।

করোনা মহামারির এই সময়ে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী বার বার তাগিদ দিয়েছেন। শ্রমিকের অভাবে সঠিক সময়ে ধান কাটতে না পারলে আমাদের কৃষক ও দেশেরও আমাদের একটি বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

এ কারণে পত্রিকা মাধ্যমে এই মেশিনের কথা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি কৃষিমন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার পাঠিয়েছিলেন। ২১ এপ্রিল ২০২০ পাঠানো ওই ডিও লেটারের ভিত্তিতে সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই একটি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিন নড়াইলে পৌঁছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক চিন্ময় রায় জানান, কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার মেশিন এক ঘণ্টায় এক বিঘা জমির ধান কাটতে সক্ষম, এভাবে সারাদিন কাজ করলে দিনে ১০-১২ বিঘা জমির ধান কাটা সম্ভব। শুধু ধান কাটা নয়, সাথে সাথে এটি ধান মাড়াই করে বস্তাবন্দি করতেও সক্ষম। স্বল্প খরচে এই মেশিন কৃষকড়ের ধান কাটার সময় বাঁচাবে, কষ্ট কমাবে। সর্বোপরি প্রয়োজনের সময় নড়াইলের মাঠেই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির সুফল পাবেন কৃষকেরা।

তিনি বলেন, জেলায় এবার ৪৭ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে বোরা ধান আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৯২ হাজার ৩০৭ মেট্রিক টন। স্মরণকালের মধ্যে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে ধানের।

‘জেলার চাহিদা থাকায় সদরের জন্য আরও তিনটি এবং লোহাগড়া উপজেলার জন্য একটি কম্বাইন্ড হারভেস্টার আনার প্রক্রিয়া চলছে।’

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য