বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০ | আপডেট ২৪ মিনিট আগে

‘করোনা সঙ্গে বসবাসের অভ্যাস রপ্ত করতে হবে’

অনলাইন ডেস্ক

‘করোনা সঙ্গে বসবাসের অভ্যাস রপ্ত করতে হবে’

সকলকে করোনা সঙ্গে বসবাসের অভ্যাস রপ্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, ‘আমাদের ভুলে গেলে চলবে না সামান্য উপেক্ষা বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই এখন থেকেই সতর্ক থাকার জন্য আমি আবারও সকলকে অনুরোধ করছি। করোনা সঙ্গে বসবাসের অভ্যাস রপ্ত করতে হবে আমাদের সকলকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত জনগণকে সচেতন থাকতে, সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।অনুরোধ জানাচ্ছেন। তিনি চিকিৎসাসহ সার্বিক পরিস্থিতি গভীর ভাবে মনিটর করছেন। আমরাও আমাদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সক্ষমতা অর্জন করছি।’

মঙ্গলবার (১২ মে) এক ভিডিও বার্তা ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শপিংমলে যারা সরাসরি কেনাকাটা করছেন, সেখানে সংক্রমণের উচ্চ আশঙ্কা রয়েছে। তাই সরাসরি না গিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইনে কেনাকাটার বিষয়টিও আজকাল জনপ্রিয় হচ্ছে। অনেকেই অনলাইনে শপিং করছেন। অত্যাবশ্যকীয় না হলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে অনলাইন শপিং এ কেনাকাটা করতে আহ্বান জানাচ্ছি। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যাবে।

তিনি বলেন, ‘এমন সংকটে আমাদের সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। অথচ আমরা লক্ষ্য করছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ ছুটি কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিথিল করার পর বাণিজ্য কেন্দ্র-ফেরিঘাটে, তৈরি পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য কারখানা এবং সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব, শারীরিক দূরত্ব কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান উপেক্ষিত হচ্ছে।’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ত্রাণ কার্যক্রমে অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে। ইতোমধ্যেই অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনগত, প্রশাসনিক ও দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; সেটাই প্রমাণ করে সরকার কঠোর অবস্থানে আছে। কঠোর অবস্থানে আছে বলেই সামান্য অনিয়ম ধরা পড়লেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে একটি মতলবি মহল যে কল্পিত অভিযোগ করছে সেটা কিছুতেই সমর্থনযোগ্য নয়।’

প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সবাইকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানান ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘আপনাদের মনবল রাখতে হবে, সাহস রাখতে  হবে। শেখ হাসিনার সরকার আপনাদের পাশে রয়েছে। শেখ হাসিনার সৎ ও সাহসী নেতৃত্বে আমরা ইনশাআল্লাহ ঘুরে দাঁড়াবো।’

প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার জন্য চিকিৎসাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,  ‘চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা, বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা পরিস্থিতিগত কারণে সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ তথা রোগীরা অন্যান্য রোগের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করে প্রতিদিন কিছু সময় প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার জন্য চিকিৎসকদের কাছে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোকেও সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করে অন্য রোগীদের সেবা চালু করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে-ঘুরতে পথিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছে। সম্প্রতি একজন অতিরিক্ত সচিবসহ আরও কয়েকটি ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে। যে সকল চিকিৎসক-নার্স, টেকনোলজিস্ট ফ্রন্টলাইনে থেকে কাজ করছেন তাদের পাশাপাশি যারা প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখছেন এবং যে সকল হাসপাতাল স্বাস্থ্য সেবা অব্যাহত রেখেছে তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত এক দশকে বাংলাদেশে যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সক্ষমতা অর্জন করেছে, এ কারণে এই সংকটকালে এত বিপুল পরিমাণ প্রণোদনা ও ত্রাণ সহায়তা প্রদান সম্ভব হয়েছে। প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ, ১ কোটি মানুষকে রেশনের আওতায় আনা।  ৫০ লাখ মানুষকে নগদ সহায়তা প্রদান সমসাময়িক বিশ্বে নজিরবিহীন। বিশ্বের বর্তমান ২১২ টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার বিস্তার ঘটেছে।  এর মাঝে বাংলাদেশ অবস্থা সর্বশেষ ৩৪ তম। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত- পাকিস্তানসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অবস্থান ভালো হলেও পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতিশীল।’

ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে বলেই স্পষ্টত প্রতীয়মান হচ্ছে।  এ রোগের সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই কার্যকর পন্থা বলেও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য