বুধবার, ৩ জুন, ২০২০ | আপডেট ০২ ঘণ্টা ০৫ মিনিট আগে

কাঠ চেরাইয়ের গল্প

ফরিদুজ্জামান

কাঠ চেরাইয়ের গল্প

আম, জাম, কাঁঠাল, উড়িআম প্রভৃতি গাছ কেটে করাত দিয়ে চিরে তক্তা বানানোর কৌশল মহাএলেমদার জ্ঞান বটে। কারিগরেরা করাত দিয়ে কাঠ কেটে কেটে তক্তা বানায় বলে এদেরকে করাতি বলে। গোপালগঞ্জের স্থানীয় ভাষায় এদেরকে ঢাওই বলা হয়। ঢাওইদের ওস্তাদি হাতযশে আমাদের বাড়িতে এদের যারপর নাই কদর ছিল। তখনো গঞ্জে বা হাট বাজারে করাত কল স্থাপিত হয় নাই তাই বংশানুক্রমিক মুন্সিয়ানার জয়জয়কার ছিল। 

একদিন দেখলাম- বাড়িতে সকালে একদল ঢাওই এসে হাজির। তাদের কথাবার্তার টান বড় মধুর। এ ওকে বড়দা ছোড়দা বলে সম্বোধন করছে। তারা বাগান থেকে উড়িআম গাছ ভোট দিয়ে গাছের গুঁড়ি কাঁধে করে নিয়ে এসেছে। শোনাগেল এর তক্তা দিয়ে নৌকো গড়া হবে। ইয়া বড় এক ছেও গাছের কাণ্ড চারজন মানুষ কাঁধে করে আনতে পারে এটা রীতিমত অবিশ্বাস্য কাণ্ড বটে। এই ঢাওইদের কান্ডকারখানা যতই দেখছি ততোই বিস্ময় জাগছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা চারটি খুঁটি পুঁতে তার সাথে আড়া বেঁধে তার উপরে বোট দেয়া গাছের কাণ্ডটা স্থাপন করল। আড়ার উপর রাখা গাছের কাণ্ডটার উপরে একজন করাত ঠেলছে আর দুইজন কাণ্ডের নিচে মাটিতে দাঁড়িয়ে তালে তালে করাত টানছে। কাঠের গুঁড়া ঝুর ঝুর করে নিচে পড়ছে। মাঝে মাঝে উপরের লোকটি করাতের আসা যাওয়ার পথ সহজ করতে উপর থেকে ছেনী মারছে। তাদের উদোম গা দিয়ে ঝর ঝর করে গাম ঝরছে। 

সকালের নাস্তা নিজেরা রান্না করে খেতে বাকি একজন রান্নার কাজে ব্যস্ত। রান্নাশেষে চারটে বাসনে করে ফেনা ভাত বেড়ে এনেছে। গরম গরম ফেনা ভাত গোগ্রাসে গিলছে আর জিহ্বা পোড়ার শব্দ করছে। বললাম- দাদা কী হয়েছে? ঢাওই দাদা বলতে লাগলেন- অলে আর রতে পারিনা, গরম গরম খাতে আরিনা। বললাম- কিছু লাগবে দাদা? বললেন- আহানে একটু তেঁতুল অলে খাতি ভালো অতো। আমি খানিক বুঝে আর খানিক না বুঝে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছি। আব্বা বললেন- ওরা তেঁতুল দিয়ে জাউ খাবে, তেঁতুল নিয়ে আয়।

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল 

মন্তব্য