সোমবার, ২৫ মে, ২০২০ | আপডেট ০৩ ঘণ্টা ৩৩ মিনিট আগে

আরও ভয়াবহ রূপে ‘আম্পান’, চট্টগ্রাম বন্দরে ‘রেড অ্যালার্ট-৩’

অনলাইন ডেস্ক

আরও ভয়াবহ রূপে ‘আম্পান’, চট্টগ্রাম বন্দরে ‘রেড অ্যালার্ট-৩’

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ সুপার সাইক্লোনে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এজন্য চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে নিজস্ব সংকেত ‘রেড অ্যালার্ট-৩’ জারি করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) বিকেল চারটায় ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের পর রেড অ্যালার্ট-৩ জারি করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

রেড অ্যালার্ট-৩ জারির পর বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠা-নামার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বন্দর সচিব ওমর ফারুক জানিয়েছেন, ‘রেড অ্যালার্ট-৩ জারির পর বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জেটিতে থাকা জাহাজাগুলোকে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালের মধ্যে জেটি পুরোপুরি খালি হয়ে যাবে। পাশাপাশি বহির্নোঙরে থাকা জাহাজগুলোকে সার্বক্ষণিক ইঞ্জিন সচল রেখে গভীর সাগরে নিরাপদ অবস্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ছোট জাহাজগুলোকে কর্ণফুলী সেতুর উজানে চলে যেতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’

ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় দুটি কন্টোল রুম চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জরুরি তথ্য আদান প্রদানের জন্য বন্দরের নৌ ও পরিবহন বিভাগ দুটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করেছে। এই দুটি কক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তথ্য আদান প্রদান করা হচ্ছে।’

বঙ্গোপসাগরে কোনো ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটারের ওপরে উঠে গেলে তাকে ‘সুপার সাইক্লোন’ বলা হয়।

আজ (সোমবার) সন্ধ্যায় এক বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, সুপার ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৯০ কি. মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ কি. মি. যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২৪৫ কি. মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুপার ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ আছে। সন্ধ্যা ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০৪৫ কি. মি. দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৯০ কি. মিঃ দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৫৫ কি. মি. দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৪০ কি. মি. দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

আগামীকাল (মঙ্গলবার) শেষরাত থেকে পরদিন বুধবার বিকেল/সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এর আগে, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান সচিবালয় থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ প্রবল শক্তি নিয়ে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসায় উপকূলীয় জেলাগুলোতে ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে সরকার। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৫১ লাখ ৯০ হাজার ১৪৪ জন মানুষকে আশ্রয় দেওয়া যাবে।

এছাড়া আম্পানের তাণ্ডব থেকে রক্ষায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে।

এদিকে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সোমবার চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য