বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০ | আপডেট ০৫ ঘণ্টা ০০ মিনিট আগে

কাশ্মীরে গোলাগুলি, হিজবুল মুজাহিদিনের ২ কমান্ডার নিহত

অনলাইন ডেস্ক

কাশ্মীরে গোলাগুলি, হিজবুল মুজাহিদিনের ২ কমান্ডার নিহত

ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের শ্রীনগরে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ১২ ঘণ্টার গোলাগুলিতে স্বাধীনতাকামী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদিনের শীর্ষ দুই কমান্ডার নিহত হয়েছেন।

তারা হলেন- জুনাইদ আশরাফ সেহরাই ও তার সহযোগী। খবর এএফপি।

আল জাজিরা বলছে, গত দুই বছরের মধ্যে শ্রীনগরে দুপক্ষের মধ্যে এমন গোলাগুলির ঘটনা ঘটল।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ভারতের আধাসামরিক বাহিনীর মুখপাত্র পংকজ সিং জানান, শ্রীনগরের পাশে একটা এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল জুনায়েদ ও তার সঙ্গী। পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী খবর পাওয়ার পর তাদের ঘিরে ফেলে অভিযান চালালে গোলাগুলির এক পর্যায়ে নিহত হন তারা।

এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, করোনার বিস্তার রোধে জনবহুল ওই এলাকার সড়কগুলোতে মানুষ নেই। কিন্তু এদিন আধা সামরিক বাহিনী এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথ বাহিনী অভিযানের সময় বোমা  বিস্ফোরণ করে আশপাশের পাঁচটি বাড়ি গুড়িয়ে দেয়। আরও অন্তত দশটি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর আগে গত ৬ মে কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর এনকাউন্টারে হিজবুল মুজাহিদিনের আরেক শীর্ষ কমান্ডার রিয়াজ নাইকু তার সহযোগীসহ নিহত হন। তিনি যে বাড়িতে লুকিয়েছিলেন সেটিকে ঘিরে ফেলে ওইদিন সকাল থেকেই প্রবল গুলিবর্ষণ করে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী।

নিহত জুনাইদ আশরাফ সেহরাই স্থানীয় শীর্ষ স্বাধীনতাকামী নেতা মোহাম্মদ আশরাফ সেহরাইয়ের ছেলে। কাশ্মীরের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর ২০১৮ সালে প্রথম দিকে তিনি এই সংগঠনে যোগ দেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সেনা সদস্যরা বাড়িগুলোতে আগুন লাগানো ছাড়াও কিছু ঘর থেকে স্বর্ণের জিনিসপত্র ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। নেতৃত্ব দেওয়া নিরাপত্তা কর্মীরা অবশ্য বলছেন, কাশ্মীরে বিদ্রোহীদের দমনে জুনায়েদ হত্যা তাদের একটি বড় সাফল্য।

মঙ্গলবারের এই গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনার পরপরই কাশ্মীরের মোবাইল ইন্টারনেট ছাড়া শ্রীনগরে মুঠোফোনে কথা বলার সংযোগ বিচ্ছিন করে দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফলে হত্যার সংবাদ চারপাশে ছড়িয়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা রাস্তায় নেমে নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

বিশেষ করে তরুণ ও যুবকরা রাস্তায় নেমে ভারত বিরোধী ও বিদ্রোহীদের পক্ষে স্লোগান দিতে শুরু করে। তারা পুলিশসহ নিরাপত্তা রক্ষীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারে এ সময়। নিরাপত্তা বাহিনীও কাঁদানে গ্যাস ও শটগান ছোড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য