সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২০ | আপডেট ০২ ঘণ্টা ৩১ মিনিট আগে

আম্পানে খুলনায় বেড়িবাঁধে ভাঙন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

আম্পানে খুলনায় বেড়িবাঁধে ভাঙন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে খুলনার উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন স্থানে পাউবো বেড়িবাঁধ ভেঙে মাছের ঘের ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ঝড়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি। কয়রা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা ও পাইকগাছায় হাজার হাজার গাছপালা উপড়ে পড়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে বিদ্যুতের খুটি। বৃহস্পতিবার সকালে উপকূলীয় এলাকার বিধ্বস্ত এ চিত্র দেখা গেছে।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় প্রবল গতিতে খুলনায় ঘূর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হানে। ঝড়ের তাণ্ডব চলে সারারাত। 

সুতারখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাছুম আলী ফকির জানান, আম্পানের প্রভাবে সুতারখালী, কালাবগী ও নলিয়ানের নিম্নাঞ্চলসহ ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ৪-৫ ফুট পানির উচ্চতায় এখানকার বেড়িবাঁধের বাইরের অংশে ঝুলন্তপাড়া নামক এলাকায় ৫ শতাধিক বাড়িঘর, মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তলিয়ে গেছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন এখানকার মানুষ।

খুলনার কয়রায় বেড়িবাঁধ ভেঙে ৬টি পয়েন্ট দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকছে। এসব স্থান হচ্ছে- দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ছোট আংটিহারা, গোলখালি, চোরামুখা খেয়াঘাট, উত্তর বেদকাশি গাজিপাড়া, কয়রা সদর ইউনিয়নে হরিণখোলা ও উত্তর বেদকাশি কাশির হাটখোলা এলাকা।

এছাড়া বেড়িবাঁধ ভেঙে বটিয়াঘাটার সুরখালী বারোভূইয়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়রার ইউপি চেয়ারম্যান জিএম
শামসুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর বেদকাশী দক্ষিণ বেদকাশী আংটিহারা ও গোলখালি এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তির্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অসংখ্য ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেঙে পড়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় থামার পর আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দ্দার বলেন, খুলনায় ২ লাখ ৭ হাজার মানুষ ৮১৪টি সাইক্লোন সেন্টারে আশ্রয় নেন। ঘূর্ণিঝড়ে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে অনেক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অনেক স্থানে ভেঙেছে বেড়িবাঁধ।

(নিউজ টোয়েন্টিফোর/তৌহিদ)

মন্তব্য