মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ | আপডেট ০৩ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে

অলিম্পিকের প্রেম!

নিউজ টোয়েন্টিফোর ডেস্ক

অলিম্পিকের প্রেম!

অলিম্পিকে আইস ড্যান্সে দ্বিতীয় বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলেন কানাডার টেসা ভার্চু আর স্কট ময়ার। জয়ের আনন্দে ভাসছেন তারা। কিন্তু, এ জুটির ভক্তদের কাছে তাদের এ সাফল্যের চেয়েও যেন তাদের 'প্রেম' রসায়নের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই তারা একে অন্যের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন বলে বিশ্বাস ভক্তদের। আর তাদের এ সম্পর্কের কারণেই আইস ড্যান্সে দুজনের ভঙ্গিমা আরও সাবলীল হয়ে উঠছে।

১৯৯৭ সাল থেকে একসঙ্গে স্কেটিং করছেন এই যুগল। তবে তাদের দুজনের পরিচয় আরও পুরনো। প্রায় ৪০বছর আগে, যখন তারা একেবারে কিশোর তখন তাদের পরিচয় হয়। আর সেটা স্কেটিং প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময়। এই যুগল অলিম্পিকের দুইটি শীর্ষ পদক, তিনবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, আটবার জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। আর এই সাফল্য তাদের বিশাল ভক্ত বাহিনীও তৈরি করেছে। টুইটার-ইন্সটাগ্রামে তাদের ফলোয়ার সংখ্যাও অনেক।

সারা বিশ্বেই স্কেটিং ভক্তরা, বিশেষ করে কানাডার বাসিন্দারা এই দুই সহকর্মীর একটি সফল পরিণতি দেখতে চান। সামাজিক মাধ্যমে কানাডার লোকজনের বেশিরভাগ স্ট্যাটাসে এখন সেই আকাঙ্ক্ষাই ঘুরে বেড়াচ্ছে।

কানাডার ওয়াং যেমন মন্তব্য করেছেন, ''তারা কয়টি পদক পেলেন, সেটা এখন আর কোন বিষয় না। তারা প্রেম করছে।''

টরেন্টো স্টারের সাংবাদিক ব্রুস আর্থার টুইটারে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ''এই দুজনের ভাস্কর্য কোথায় বসানো যায়? তাদের নিজেদের শহরে নাকি অন্য সবার শহরে?''

তার জবাব পেয়েছেন, ''দেশের প্রতিটি প্রান্তে তাদের ভাস্কর্য থাকা উচিত, যেখানে তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকবে। আর আমরা তার মাঝে গিয়ে তাদের ভালোবাসা উপলব্ধি করতে পারবো।''

 

যদিও নিজেদের মধ্যে কোন প্রেমের সম্পর্কের কথা নাচক করে দিয়েছে এই যুগল। তাই বলে সামাজিক মাধ্যমে অবশ্য জল্পনা কল্পনা থেমে নেই। হয়তো তাদের রসায়নকে বাস্তব করার চেষ্টাতেই, একজন ময়ারের উইকিপিডিয়া একাউন্টে ঢুকে লিখে দিয়েছেন যে, এই যুগল ২০১৮ সালের গ্রীষ্মে বিয়ে করতে যাচ্ছে।

তাদের এই সম্পর্কের বিষয়টি এখন আর শুধু কানাডার লোকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের একজন টুইটারে লিখেছেন, ''আগে আমি হাজার ভাগ আমেরিকান সমর্থক ছিলাম। কিন্তু ভার্চু আর ময়ারের বরফ নৃত্য দেখার পর আমি একজন কানাডিয়ান হয়ে গেছি।''

কানাডার ব্রডকাস্টার সিবিসি তাদের বিশ বছরের ক্যারিয়ার নিয়ে একটি পাঁচ মিনিটের ভিডিও তৈরি করেছে।

তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এই যুগল আভাস দিয়েছেন, এই অলিম্পিকের পরেই তারা অবসরে চলে যেতে পারেন। তবে তাদের সহকর্মীর সম্পর্ক অন্য কোন দিকে রূপ নেবে কিনা, সেই আভাস দুজনের কেউই দেননি। বিষয়টা বোধহয় সময়ের ওপরেই ছেড়ে দিয়েছেন তারা। সূত্র: বিবিসি

মন্তব্য