রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০ | আপডেট ০৫ মিনিট আগে

আমি রাষ্ট্রদ্রোহী হলে দেশপ্রেমিক কারা?

অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন

আমি রাষ্ট্রদ্রোহী হলে দেশপ্রেমিক কারা?

গত ১৩ মে বাংলাদেশে মাস্ক সরবরাহ ও পিপিইবিষয়ক দুর্নীতি নিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকের সাথে আমারো একটি সাক্ষাতকার ছাপা হয়েছে। সেখানে আমরা তিনজন প্রায় একই ভাষায় কথা বলেছি। 

সেই সাক্ষাতকারে আমি মাস্ক কারচুপির প্রতিবাদ করে, একজন এপিডেমিওলজিস্ট হিসাবে করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যর্থতার কথা বলে কতিপয় নব্য এবং ‘এক্সপায়ার্ড আবালের মতে’ রাষ্ট্রদ্রোহী’ হয়ে গেলাম। এটি ছিল আমার একটি সাক্ষাতকার, কোন লেখা নয়। সেটা বুঝবার মত ন্যূনতম মেধাও এইসব মূর্খের নাই। এই কারণে আমাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের হুমকিও দিয়েছে কতিপয় নাদানের দল। এর সাথে নানান হুমকি-ধামকি তো আছেই। ভাড়াটে এক লেখকও যোগাড় করেছে দেখলাম। 

মাস্ক চুরির প্রতিবাদ না করে তবে কি আমার সমর্থন করা উচিত ছিল? যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং টেলিভিশনের লাইভে মাস্ক সরবরাহে অব্যবস্থাপনার কথা বলেছেন। নাকি আমাকে যারা রাষ্ট্রদ্রোহী বলছেন, তারা আসলে চোর আর লুটপাটকারীদেরই সহচর? 

করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের ব্যর্থতার দায় আজ দিবালোকের মতই প্রকাশিত। ব্যর্থকে ব্যর্থ বলা কি রাষ্ট্রদ্রোহিতা? একজন এপিডেমিওলজিস্ট হিসাবে সরকারকে পরামর্শ দেওয়া কি অন্যায়? করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে কার কী করণীয়, তা নিয়ে মার্চে আমি মিডিয়ায় বিস্তারিত লিখেছি। আমার নিজস্ব চ্যানেলে তা বিভিন্ন পর্যায়ে পৌছে দিয়েছি। মার্চ মাসে আমারই নির্দেশে আমাদের টিম লকডাউনের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতার হাতে তুলে দিয়েছে। 

তারও আগে ফেব্রুয়ারি মাসে টেলিভিশনে বলেছি, করোনা নিয়ন্ত্রণে সেই মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ ছিল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ। মুজিবাদর্শের একজন সামান্য অনুসারী হিসেবে, শেখ হাসিনার একদন তুচ্ছ কর্মী হিসেবে সবসময় সত্যটা বলেছি, সরকারকে পরামর্শ দিয়েছি, আগাম সতর্ক করেছি। বিস্ময়কর সত্য হলো, সামান্য বিলম্বে হলেও সরকার দুয়েকটি বাদে আমাদের প্রায় প্রতিটি পরামর্শই শুনেছে। এমন কী যেসব ব্যক্তির বিরূদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে, তাদেরও স্ব স্ব পদ থেকে সরানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। 

এখন প্রশ্ন হলো, আমি রাষ্ট্রদ্রোহী হলে দেশপ্রেমিক তবে কারা? বেসিক ব্যাংকের ২৯ কোটি টাকা আত্মসাত করে সিডনিতে আত্মগোপনকারীই কি তবে দেশপ্রেমিক? একজন অসহায় মহিলাকে অস্ট্রেলিয়া আনার নামে ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতকারীই কি তবে প্রকৃত আওয়ামী লীগার? নিজের নামের আগে ভুয়া ‘ব্যারিস্টার’ পদবী ব্যবহার করে ২০১৬ সালের ১৩ মে অস্ট্রেলিয়ার আদালতে পেশাগত প্রতারণার জন্য লাইসেন্স খোয়ানো প্রতারকই কি তবে ঈমানদার রাজনীতিবিদ? সিডনিতে হুণ্ডি ব্যবসা করে মানুষের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আত্মসাতকারী বুড়ো এবং কচি গংই কি তবে সাচ্চা দেশপ্রেমিক? 

খুব টেনশনে আছি, কবে না আবার দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে যাই।

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল

মন্তব্য