রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২০ | আপডেট ১৯ মিনিট আগে

করোনায় দেশে ৭৪ শতাংশ পরিবারের উপার্জন কমেছে

অনলাইন ডেস্ক

করোনায় দেশে ৭৪ শতাংশ পরিবারের উপার্জন কমেছে

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে ৭৪ শতাংশ পরিবারের উপার্জন কমেছে এবং ১৪ লাখেরও বেশি প্রবাসী শ্রমিক চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। এছাড়া ১০ কোটি ২২ লাখ মানুষ অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত দুর্বলতার ঝুঁকিতে পড়েছেন।

ব্র্যাক, ডেটা সেন্স এবং উন্নয়ন সমন্বয় এর এক যৌথ সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আজ সোমবার (১ জুন) কোভিড-19 এবং জাতীয় বাজেট ২০২০-২০২১: নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কৌশল পুনর্বিবেচনা শীর্ষক এই সমীক্ষার ফল অনলাইন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থনীতিবিদ ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের  চেয়ারপারসন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। আর এর সঞ্চালনায় ছিলেন ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কেএএম মোর্শেদ। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন আইসোশ্যাল-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. অনন্য রায়হান।

ব্র্যাক, বিআইজিডি, পিপিআরসি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)সহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা পরিচালিত সমীক্ষার পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি জরিপও পরিচালনা করে তার ফলাফলের সাথে সমন্বয় করে মূল প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়। জরিপটিতে দেশের ২৫ জেলার ৯৬২ জন উত্তরদাতা অংশ নেন। যা মে মাসের ১৫-১৮ তারিখের মধ্যে সম্পাদন করা হয়।

সমীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, দেশে অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৫ কোটি ৩৬ লাখ মানুষ চরম দরিদ্র (দৈনিক আয় ১.৯ ডলার)। এদের মধ্যে নতুন করে চরম দরিদ্র হয়ে পড়া পরিবারগুলোও রয়েছে। উচ্চ অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে থাকা চরম দরিদ্রের সংখ্যা ৪ কোটি ৭৩ লাখ এবং উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন ৩ কোটি ৬৩ লাখ মানুষ।

করোনার কারণে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বহুবিধ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। যেসব পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তার মধ্যে ৩৪.৮% পরিবারের কমপক্ষে একজন সদস্য চাকরি হারিয়েছেন, মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে গড় পারিবারিক উপার্জন প্রায় ৭৪% কমে গেছে, তৈরিপোশাক খাতে রফতানি এপ্রিল ২০১৯-এর তুলনায় ২০২০ সালের এপ্রিলে ৮৪% কমেছে, ১,১১৬টি কারখানা বন্ধ ঘোষিত হয়েছে এবং চাকরি হারিয়েছেন প্রায় ২২ লাখ শ্রমিক (২.১৯ মিলিয়ন) শ্রমিক।

সমীক্ষায় আরও জানা যায়, কোভিড-19 নতুন অর্থনৈতিক বিভাজন, সামাজিক বিভাজন এবং ডিজিটাল বিভাজন সৃষ্টি করেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল ৩৪% পরিবারের স্মার্টফোন রয়েছে এবং ৫৪% পরিবারের টিভি দেখার সুযোগ রয়েছে। অতএব, এর নিচের অংশে বসবাসকারী শিশুরা ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে।

১৪ লাখেরও বেশি প্রবাসী শ্রমিক চাকরি হারানোর কারণে ফিরে এসেছেন বা দেশে ফিরে আসছেন। বিদেশে থাকা অভিবাসীরাও এখন ঋণচক্র ও সামাজিক কলঙ্কের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন।

 

নিউজ টোয়েন্টিফোর/কামরুল

মন্তব্য